১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৩:৩২ এম

টিম বাস থেকে নামছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা, প্রবেশ করবেন হোটেলে। স্বাভাবিকভাবেই লিওনেল মেসিকে ঘিরে আকর্ষণ বাকিদের চেয়ে ঢের বেশি। কিন্তু ওই বাস থেকে নামার সময় নজর কাড়লেন ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোও। বাস থেকে নামছেন, কাঁধে তার ব্যাগ, হাতে অক্সিজেন বুস্টার। বলিভিয়া যাত্রা মানেই যেন ফুটবলারদের বাড়তি আতঙ্ক, আলাদা দুশ্চিন্তা। যার নেই কোনো সমাধান, মানিয়ে নেওয়াই একমাত্র উপায়।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে আর্জেন্টিনা এখন বলিভিয়ায়। বুধবার রাতে রাজধানী লা পাজে স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নামবে বিশ্বচ্যাপিয়নরা। মেসি সে ম্যাচে খেলবেন কি না তা নিয়ে আছে সংশয়। ইকুয়েডরের বিপক্ষে নিজ ইচ্ছায় বদলি হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন, কোচ লিওনেল স্কালোনিও রবিবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে গেছেন মেসির খেলা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটবে সোমবার অনুশীলনের পর।

বলিভিয়ার এই মাঠ অবশ্য মেসির জন্য নতুন কিছু নয়। নিজের ক্যারিয়ারে এই মাঠে চার ম্যাচ খেলেছেন, জিততে পেরেছেন মোটে একটায়। যদিও বলিভিয়া দক্ষিণ আমেরিকার দুর্বল দলগুলোর একটাই। তবে সেই গল্পটাই বদলে যায় যখন বলিভিয়া নিজেদের ঘরের মাঠে খেলে। নিজেদের মাঠের রাজা ওরা। ১৯৯৩ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অ্যাওয়ে ম্যাচে আর জয়ের দেখাই পায়নি বলিভিয়া। এই সময়ে সবমিলিয়ে তারা খেলেছে ৬৫ ম্যাচ। অথচ ঘরের মাঠে শেষ ২৪ ম্যাচে তারা জিতেছে ১৪টায়, ড্র করেছে ১০টা।

ঘরের মাঠই আসলে বলিভিয়ার শক্তি। কিন্তু তার কৃতিত্ব পুরোটাই ভৌগলিক। সমুদ্রপৃষ্ঠ্ থেকে প্রায় ৩৬৫০ মিটার (১১,৯৭৫ ফিট) উঁচুতে অবস্থান দেশটির। ভিনদেশীদের জন্য অতো উঁচুতে যে কোনো খেলাই দুঃস্বপ্নের মতো। রোমেরোরা সে কারণেই হাতে করে অক্সিজেন বুস্টার নিয়ে প্রবেশ করেছেন বলিভিয়ায়।
এই গল্প অবশ্য নতুন কিছু নয়। বলিভিয়ায় ম্যাচ খেলতে গেলে যে আসল প্রতিপক্ষ উচ্চতা তা এতোদিনে প্রতিষ্ঠিত সত্য। হোম অ্যাডভান্টেজ পুরোটাই কাজে লাগানোর সুযোগ লাগে বলিভিয়ানদের সামনে। এই নিয়ে অবশ্য বহু আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে। ২০০৭ সালে ২৫০০ মিটারের উঁচুতে ফুটবল ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। তাতে ভেন্যু হিসেবে বলিভিয়া বাদও পড়েছিল। সে সময় ফিফার এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছিলেন খোদ ডিয়েগো ম্যারাডোনা। তোপের মুখে পরে ফিফাও ২০০৮ সালে সেই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসে। বলিভিয়াতে আবারও ফেরে ফুটবল।
আরও পড়ুন: মেসির কারিশমাতেই বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শুভসূচনা আর্জেন্টিনার
ওই ঘটনার কিছুদিন পরই বলিভিয়ার মাঠে গিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে আর্জেন্টিনা হেরে এসেছিল ৬-১ গোলে। সে সময় আবার দলের কোচ ছিলেন ম্যারাডোনা। ওই হার আর্জেন্টিনার ইতিহাসেরই সবচেয়ে বড় হারগুলোর একটি।
অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে এর আগেও বলিভিয়ায় গেছে আর্জেন্টিনার। বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ চলার সময় হাফটাইমে পুরো ব্রাজিল দলকে একসঙ্গে অক্সিজেন মাস্ক ব্যবহার করতেও দেখা গেছে। বিশ্বকাপ বাছাই খেলতে গিয়ে মাঠেই একবার বমিও করতে হয়েছিল লিওনেল মেসিকে। এতো ফিরিস্তি শুনে আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, কী এমন উচ্চতা যার কারণে বিশ্বসেরা ফুটবলাররাই বেমালুম বোকা বনে যান বলিভিয়ায়?
উচ্চতা যত বেশি, বায়ুর চাপ তত কম। অর্থাৎ আপনার গ্রহণ করা অক্সিজেন রক্তে ট্রান্সফার করতে শরীরকে কসরত করতে হয় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। এর ফলে শরীরও দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সহজ কথায় বললে, বলিভিয়ার যে উচ্চতা তাতে সেখানে স্বাভাবিক অবস্থানের চেয়ে আরও ২০-২৫ শতাংশ শক্তি বেশি প্রয়োজন। অভ্যস্ততা না থাকলে সেটা আপনাকে ভোগাবেই- মেসি, নেইমার সবার বেলায় সত্য সেটা।
অবশ্য এখানেই শেষ নয়। অমন উচ্চতায় বলের স্বাভাবিক গতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে, বলের গতিপ্রকৃতির অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কথা প্রায় সময় বলেছেনও ফুটবলাররা। বলিভিয়া মূলত প্রতিপক্ষের এই অনভ্যস্ততার সুযোগটাই কাজে লাগায়। ঘরের মাঠের দূরন্ত্ব ফর্মের সঙ্গে বলিভিয়ার অ্যাওয়ে ফর্মের তফাৎও তাই প্রমাণ করে।
আর্জেন্টিনা বলিভিয়ার সঙ্গে খেলার আগে ওদের মাঠে অনুশীলন করবে একদিন। মানিয়ে নেওয়ার জন্য ওইটুকু সময়ই আছে স্কালোনির দলের। ২০২০ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বলিভিয়ার মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরেছিল তার দল। তাতে ১৫ বছর ধরে বলিভিয়ার মাঠে জয়হীন থাকার ‘ভুতুড়ে’ রেকর্ডটাও আর্জেন্টিনার পিছু ছেড়েছিল। যদিও সেই ম্যাচেও আর্জেন্টিনাকে ভুগতে হয়েছিল বলিভিয়ার উচ্চতায়।
এবার আর্জেন্টিনা লা পাজে পা রেখেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে। কিন্তু তবুও স্বস্তি নেই। ঘুরে ফিরে সেই ‘উচ্চতা’ প্রশ্নের সমাধান জানা নেই কারও। স্কালোনিই বোধ হয় সবচেয়ে ভালোভাবে জবাবটা দিয়েছেন, “অনেক কিছুই তো চেষ্টা করা হয়েছে, আর যে কোনো দলই ওখানে গিয়ে হিমশিম খায়। এই নিয়ে এতো কথা বলতে চাই না, কারণ এসব তো আর পরিবর্তন করা যাবে না। এটা পরিস্কার একটা অ্যাডভান্টেজ ওই দলের জন্য, কিন্তু এই নিয়ে আমাদের অভিযোগ করার কোনো সুযোগ নেই।“
No posts available.
৫ মার্চ ২০২৬, ২:৫১ পিএম
৫ মার্চ ২০২৬, ১:৩১ পিএম
৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
৫ মার্চ ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

খেলার মাঠে ন্যাক্কারজনক এক ঘটনার সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। জার্মানির তৃতীয় বিভাগের ফুটবলে গ্যালারি থেকে দর্শকদের ছোড়া আতশবাজির বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রট-ওয়াইস এসেনের গোলকিপার ফেলিক্স উইনান্ড। এই ঘটনার জেরে ম্যাচটি প্রায় ৪০ মিনিট স্থগিত ছিল।
বুধবার রাতে ভাল্ডহফ মানহাইমের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে এসেন যখন ১-০ গোলে এগিয়ে, ঠিক তখন মানহাইম সমর্থকদের গ্যালারি থেকে একটি আতশবাজি উইনান্ডের খুব কাছে এসে বিস্ফোরিত হয়। ২৩ বছর বয়সী এই গোলকিপার তৎক্ষণাৎ কানে হাত দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উইনান্ড ‘অ্যাকোস্টিক ট্রমা’ (শব্দজনিত আঘাত) এবং তীব্র মানসিক চাপে ভুগছেন।
এসেনের কোচ উয়ে কোশিনাত এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশঙ্কা করছেন, এই বিস্ফোরণের ফলে উইনান্ডের শ্রবণশক্তিতে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর রেফারি খেলা স্থগিত করে খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে নিয়ে যান। দীর্ঘ ৪০ মিনিট পর খেলা পুনরায় শুরু হলে শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে এসেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বুন্দেসলিগার ম্যাচে ইউনিয়ন বার্লিন সমর্থকদের ছোড়া লাইটারের আঘাতে আহত হয়েছিলেন বখুম গোলকিপার প্যাট্রিক ড্রিউস।
সেই ম্যাচটি আধাঘন্টা বন্ধ থাকার পর অদ্ভুত এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল। যেখানে দুই দলের খেলোয়াড়রাই প্রতিবাদস্বরূপ গোল না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেবল বল পাস করে সময় পার করেছিলেন। পরবর্তীতে আদালত সেই ম্যাচে বখুমকে ২-০ ব্যবধানে জয়ী ঘোষণা করে।

এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে শুক্রবার শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। এশিয়ার সেরাদের মঞ্চে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা কেবল সংখ্যাপূরণ করতে আসেনি, ম্যাচের আগে তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার।
বৃহস্পতিবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাটলার প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও নিজের শিষ্যদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন।
“তারা (উত্তর কোরিয়া) টেকনিক্যালি দারুণ দক্ষ ও প্রতিভাবান দল। আমি বাস্তববাদী মানুষ, জানি এই ম্যাচ জেতা আমাদের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা রক্ষণভাগ সামলে বসে থাকব না, লড়াই করব। নিজেদের নিজস্বতা ধরে রেখে সমর্থকদের হৃদয় জয় করতে চাই।”
খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ (ওয়ার্কলোড) কমাতে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে একাদশে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ। কৌশলগত কারণে ও পরবর্তীতে পার্থ ম্যাচের কথা মাথায় রেখে এই পরিবর্তনগুলো আনা হতে পারে।
প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলতে এসে কঠিন গ্রুপে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১১২ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ। গ্রুপের বাকি তিন দল- চীন (১৭তম), উত্তর কোরিয়া (৯ম) ও উজবেকিস্তান (৪৯তম) আছে যোজন যোজন এগিয়ে।
তাই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আকাশকুসুম কল্পনা নয় বরং প্রতিটি ম্যাচে উন্নতির দিকেই নজর বাটলারের।
“আমরা এখানে কোনো ভাগ্যের জোরে আসিনি, যোগ্যতা অর্জন করেই এসেছি। এএফসির মান সাফের চেয়ে অনেক উন্নত। এখানকার মাঠ, সুবিধা ও পেশাদারিত্ব আমাদের মেয়েদের জন্য একটি বড় শিক্ষামূলক সুযোগ। আমি চাই তারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে খেলুক।”
ঢাকায় থাকাকালীন ভোরে অনুশীলনের অভ্যাস সিডনিতেও বজায় রাখছেন বাটলার। প্রতিদিন সকাল ৯টায় অনুশীলনের কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি।
“আমি খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠায় বিশ্বাস করি। ঢাকায় আমরা ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে কাজ শুরু করি কারণ আমাদের সুযোগ-সুবিধা সীমিত। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শেষ করতে হয়। প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করেই আমাদের বড় হতে হচ্ছে।”
চীনের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর গোলকিপার মিলিকে নিয়ে আলাদাভাবে প্রশংসা করেন বাংলাদেশের কোচ।
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে আফঈদা-মিলিদের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায়। চীনের বিপক্ষে দারুণ ফুটবল উপহার দেওয়ার পর এই ম্যাচে ড্র বা ইতিবাচক ফলাফল বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

এএফসি এশিয়ান কাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা এশিয়ান মঞ্চে জানান দিয়েছে চীনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই করে। এবার সামনে উত্তর কোরিয়া। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে যারা আরও এগিয়ে চীনের চেয়ে।
এশিয়ান কাপের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ারর বিপক্ষে আগামীকাল শুক্রবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশ কোচ নিজেদের কৌশল নিয়ে কিছু বলেননি, কেবল জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে তাঁর একটি পরিকল্পনা আছে। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সতর্ক কোরিয়ান কোচ রি সং হো।
চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি দেখেছেন উত্তর কোরিয়ার কোচ। ওই ম্যাচ দেখার পর বাংলাদেশ দল নিয়ে তাঁর ভুল ভেঙেছে বলে জানান, ‘আমি এখানে এসে চীন-বাংলাদেশ ম্যাচটি দেখেছি এবং মনে হয়েছে বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের আক্রমণভাগ অনেক দ্রুত এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে যাওয়ার গতি ও দক্ষতা বেশ তীক্ষ্ণ। সাধারণভাবে বলতে গেলে, তারা বেশ দ্রুতগতির দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে যাতে তারা গোল করার কোনো সুযোগ না পায়।’
চীনের বিপক্ষে ০-২ গোলে হারা ম্যাচে শুরুতেই লিড নিতে পারতো বাংলাদেশ। খেলার ১৪ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার দূরপাল্লার দারুণ শট ঠেকিয়ে দেন চীনের গোলকিপার। এছাড়া পুরো ম্যাচেই নজর কেড়েছেন এই উুইঙ্গার। তাঁকে নিয়ে আলাদা সতর্ক থাকবেন বলে জানান উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সং হো, ‘তাদের আক্রমণভাগের তিন জন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড়কে (ঋতুপর্ণা) নিয়ে সতর্ক, যে বাঁ প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। আক্রমণ এবং রক্ষণ- উভয় ক্ষেত্রেই তাদের গতি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। তাই আগামীকালের ম্যাচে এই খেলোয়াড়দের রুখতে আমাদের রক্ষণভাগকে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।’
‘বি’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ হারলেও জয় তুলে নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তারা প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে হারিয়েছে উজবেকিস্তানকে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বপ্নে বিভোর ইরাক এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে দেশটির অংশগ্রহণের পথে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ভিসা জটিলতা এবং আকাশপথ বন্ধ থাকায় মেক্সিকোর প্লে-অফ টুর্নামেন্টে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে ইরাক।
আগামী ৩১ মার্চ মেক্সিকোর মন্তেরিতে বলিভিয়া অথবা সুরিনামের বিপক্ষে প্লে-অফ খেলার কথা রয়েছে ইরাকের। কিন্তু যুদ্ধাবস্থার কারণে অনেক দেশে মেক্সিকান দূতাবাস বন্ধ থাকায় ইরাকের পেশাদার খেলোয়াড়, কারিগরি ও মেডিকেল স্টাফরা এখনো মেক্সিকোর ভিসা পাননি।
বুধবার ইরাক ফুটবল ফেডারেশন এক ইন্সটাগ্রাম বার্তায় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তারা দলের প্রধান কোচ এবং গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের এক জায়গায় জড়ো করতে পারছে না।
আকাশপথ বন্ধ থাকায় ইরাকের প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকা পড়েছেন। অস্ট্রেলিয়াকে ২০২২ বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়া এই কোচ গত মাসেও জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের টিকিট পেতে হলে প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এখন নিজেই দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারছেন না।
ফেডারেশন জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম আবারও বিশ্বমঞ্চে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে ইরাকের সামনে।
যদি ইরাক প্লে-অফে ব্যর্থ হয়, তবুও তাদের সামনে একটি বিকল্প পথ খুলে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান যদি বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়, তবে এশীয় অঞ্চলের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী ইরাক বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ফিফার আইন অনুযায়ী এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর হাতে।
বর্তমানে ইরাকের সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো সব বাধা পেরিয়ে ৩১ মার্চের প্লে-অফ ম্যাচে অংশ নেওয়া। যুদ্ধ আর ভূ-রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে আটকে পড়া ফুটবলাররা এখন মাঠে ফেরার প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন।

এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে চীনের বিপক্ষে ০-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ৯বারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এত কম গোলের পরাজয়ে প্রশংসা পাচ্ছেন আফঈদা, ঋতুপর্ণারা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৯৫ ধাপ ওপরের দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের লড়াই যখন ফুটবল অঙ্গলে প্রশংসিত, তখন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নারী উইংয়ের প্রধানের এক মন্তব্য ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক।
চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে গতকাল সংবাদমাধ্যমকে মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেন, ‘মেয়েরা ভালো খেলেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে কম ব্যবধানে হারের কারণ হলো- শুধুমাত্র চীনের দল যেহেতু অনেক বেশি বয়স্ক, দেখবেন তারা মাঝে মধ্যেই দাঁড়িয়ে গেছে। তাদের খেলোয়াড়েরা অনেক বয়স্ক, সেটি দেখলেই বোঝা যাচ্ছে এবং তারা ফর্মে নেই।’
এশিয়ান কাপের ৯বারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ০-২ গোলে হারা ম্যাচ নিয়ে কিরণের মন্তব্যকে সম্পূর্ণ এবং চরম ‘ননসেন্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। আজ ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে কিরণের মন্তব্যে কোচ কি ভাবছেন জানতে চাইলে বাটলার বলেন, ‘এর একমাত্র উত্তর যা আমি দিতে পারি তা হলো— এটি সম্পূর্ণ এবং চরম ননসেন্স। বাফুফের একজন সদস্যের পক্ষে এভাবে প্রকাশ্যে এসে সমালোচনা করা এবং চীন দলের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা অত্যন্ত ভুল ছিল। কিছুটা সম্মান প্রদর্শন করা উচিত, শুধু আমাদের খেলোয়াড়দের প্রতি নয়, আমাদের দলের প্রতিও।’
চীনের খেলোয়াড়দের বয়স্ক বলায় খেপেছেন বাটলার। তাদের খেলোয়াড়েরা কোথায় বেড়ে ওঠে এবং বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে তফাত কেমন সেটি বোঝাতে বাটলার বলেন, ‘ওটা (চীন) একটা শক্তিশালী দল। তাদের খেলোয়াড়রা নাসরিনের (স্পোর্টস একাডেমি) হয়ে খেলে না, তাদের খেলোয়াড়রা পিএসজির হয়ে খেলে। তাদের খেলোয়াড়রা ফরাশগঞ্জের (স্পোর্টিং ক্লাব) মতো দলের হয়ে খেলে না; তারা ফ্রান্সে এবং চাইনিজ সুপার লিগে খেলে। তাই আমি মনে করি তাঁর (কিরণ) পক্ষ থেকে এটি অসম্মানজনক এবং কিছুটা দায়িত্বজ্ঞানহীন ছিল। যদিও আমি এটিই তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাশা করি।’