দিন দুয়েক আগেই প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল লুইস দিয়াজের লিভারপুল ছাড়ার বিষয়টি। প্রশ্নটা ছিল মূলত তিনি কবে যোগ দিচ্ছেন বায়ার্ন মিউনিখে। শেষ পর্যন্ত এসেছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। জার্মান চ্যাম্পিয়রা নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়ান উইঙ্গারকে দলে টানার বিষয়টি।
বিবৃতিতে বায়ার্ন জানিয়েছে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত চুক্তি হয়েছে দুই পক্ষের। ট্রান্সফার ফি অবশ্য জানায়নি তারা। তবে ইএসপিএন নিজেদের সূত্রের মাধ্যমে দাবি করেছে, এই চুক্তির মূল্য ৭৫ মিলিয়ন ইউরো, যার মধ্যে অতিরিক্ত বোনাসও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে এটি বায়ার্নের এই তৃতীয় সাইনিং। এর আগে বুন্দেসলিগার ক্লাবটি লেভারকুসেনের জোনাথান তাহ এবং হফেনহাইমের মিডফিল্ডার টম বিশোফকে দলে যোগ করেছে।
ঠিকানা বদল করতে চান, এটা আগেই লিভারপুলকে জানিয়ে দেন দিয়াজ। সেই কারণেই গত শনিবার এসি মিলানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে অংশ নেননি তিনি। মূলত তখন থেকেই তার সম্ভাব্য বিদায় নিয়ে জল্পনার শুরু হয়। পরে গত রবিবার তাকে ক্লাবের এশিয়া সফরের স্কোয়াড থেকেও ছেড়ে দেয় আর্নে স্লটের দল।
লিভারপুলের সাথে দিয়াজের চুক্তি ২০২৭ সাল পর্যন্ত ছিল। শুরুতে সেটা নবায়নের চিন্তা থাকলেও পরে সেই চিত্রে বদল আসে। এসবের মাঝেই বার্সেলোনা ও বায়ার্ন উভয় ক্লাবই আগ্রহ দেখালেও, লিভারপুল প্রাথমিকভাবে তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
চলতি মাসের শুরুতে বায়ার্নের দেওয়া ৬৭.৫ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেয় লিভারপুল। তাদের প্রত্যাশা ছিল ১১০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি। তবে জার্মান ক্লাবটি পরবর্তীতে উন্নত আর্থিক প্রস্তাব দিলে লিভারপুল শেষ পর্যন্ত তাতেই সম্মত হয়।
গত মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে দারুণ খেলেছেন দিয়াজ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৭টি গোল করে দলটির প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ে রাখেন ভালো অবদান।
দিয়াজ ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এফসি পোর্তো থেকে ৪৯ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে লিভারপুলে যোগ দেন। ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪৮ ম্যাচে করেন ৪১টি গোল। এবার পালা জার্মান ফুটবলে নিজেকে প্রমাণের।
No posts available.
১১ মে ২০২৬, ৮:৪০ পিএম
১১ মে ২০২৬, ৮:০২ পিএম

প্রিমিয়ার লিগে জমে উঠেছে অবনমন এড়ানোর লড়াই। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঘরের মাঠে লিডস ইউনাইটেডের মুখোমুখি হয়েছিল টটেনহাম হটস্পার। প্রথমে লিড নিলেও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে স্পার্সরা। ফলে লিগের তলানিতে থাকা দলগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর সম্ভাবনা ভেস্তে গেছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।
সোমবার রাতে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছে টটেনহাম। বর্তমানে ১৮ নম্বর অবস্থানে থাকা ওয়েস্ট হ্যামের চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছে রবার্তো ডি জার্বির শিষ্যরা।
টটেনহাম হটস্পার স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ম্যাচের ৫০ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে এক দুর্দান্ত শটে স্পার্সকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড ম্যাথিস তেল। এই গোলের পর মনে হচ্ছিল টানা তৃতীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে স্বাগতিকরা।
কিন্তু ম্যাচের ৭৪ মিনিটে নিজের ডি-বক্সের ভেতর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বাইসাইকেল কিক নেওয়ার চেষ্টা করেন তেল। তাঁর বুটের আঘাত সরাসরি গিয়ে লাগে ইথান আম্পাদুর মুখে। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে লুটিয়ে পড়েন লিডস ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার। ভিএআর রিভিউ শেষে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে সমতা ফেরাতে ভুল করেননি ডমিনিক কালভার্ট-লেউইন।
ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায়। ইনজুরি টাইমে ১৩ মিনিট যোগ করা হলেও স্পার্স কোনো গোল করতে পারেনি। উল্টো অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে লিডসের শন লংস্টাফের নিশ্চিত গোল দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন স্পার্স গোলকিপার আন্তোনিন কিনস্কি।
৩৬ ম্যাচ শেষে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৭ নম্বরে টটেনহাম। লিগ টেবিলে তাদের অবস্থান এখনো নড়বড়ে। অবনমন অঞ্চলে থাকা ওয়েস্ট হ্যামের চেয়ে ২ পয়েন্ট এগিয়ে থাকলেও হাতে আছে মাত্র দুটি ম্যাচ। পরবর্তী ম্যাচে মঙ্গলবার স্পার্সদের লড়তে হবে চেলসির বিপক্ষে।

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের দেশটি বিশ্বকাপ সারথী দলের প্রধান কাণ্ডারি অভিজ্ঞ এডিন জেকো। ৪০ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার গত মৌসুমে শালকেকে বুন্দেসলিগায় ফিরতে বড় ভূমিকা রেখেছেন।
সোমবার রাজধানী সারায়েভোতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেন বসনিয়া কোচ সের্জেই বারবাবেজ।
দল ঘোষণার সময় বারবারেজ বলেন,
'আমরা এমন খেলোয়াড়দের বেছে নিয়েছি, যারা বসনিয়ার পরিচয় এবং আমাদের জাতির লড়াকু মানসিকতাকে সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করবে।'
বেশ নাটকীয়ভাবে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছিল বসনিয়া। চলতি বছরের মার্চে উয়েফা প্লে-অফে ইতালিকে টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে দলটি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল।
বিশ্বকাপে 'বি' গ্রুপে কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বাকি দুই সঙ্গী সুইজারল্যান্ড এবং কাতার। ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরুর পরের দিনেই মিশন শুরু বসনিয়ার। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কানাডার মুখোমুখি হবে তারা।
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: নিকোলা ভাসিলি (সেন্ট পাওলি), মার্টিন জ্লোমিসলিচ (রিজেকা), ওসমান হাজিকিচ (স্লাভেন বেলুপো)।
ডিফেন্ডার: সেয়াদ কোলাসিনাচ (আটালান্টা), ডেনিস হাদজিকাদুনিচ (সাম্পদোরিয়া), আমার দেদিচ (বেনফিকা), নিকোলা কাটিচ (শালকে), তারিক মুহারেমেভিচ (সাসুওলো), নিহাদ মুজাকিচ (গাজিয়ানটেপ), স্তেপান রাদেলিচ (রিজেকা), নিদাল চেলিক (লঁস)।
মিডফিল্ডার: আমির হাজিয়াহমেতোভিচ (হাল সিটি), বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ (ব্রন্ডবি), জেনিস বুর্নিচ (কার্লসরুহার), আরমিন গিগোভিচ (ইয়াং বয়েজ), ইভান বাসিচ (আস্তানা), এস্মির বাজরাকতারেভিচ (পিএসভি), আমার মেমিচ (ভিক্টোরিয়া প্লাজেন), ইভান সুনিচ (পাফোস), কেরিম আলাইবেগোভিক (আরবি সালজবার্গ), এরমিন মাহমিচ (স্লোভান লিবেরেক)।
ফরোয়ার্ড: এডিন জেকো (শালকে), এরমেদিন ডেমিরোভিচ (স্টুটগার্ট), সামেদ বাজদার (জাগিলোনিয়া বিয়ালিস্তক), হারিস তাবাকোভিচ (বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখ), জোভো লুকিচ (ক্লুজ)।

বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল দলকে প্রস্তুত করার প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছেন কার্লো আনচেলত্তি। প্রাথমিক বিবেচনার ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছেন তিনি।
ব্রাজিলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ক্রীড়া সংবাদ মাধ্যম ইউওএল এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনচেলত্তি ইতোমধ্যেই ৫৫ সদস্যের একটি প্রাথমিক দল গঠন করেছেন। যেখান থেকে তিনি টুর্নামেন্টের জন্য তাঁর চূড়ান্ত দল বেছে নেবেন।
এই তালিকার উল্লেখযোগ্য নাম দুই অভিজ্ঞ তারকা—নেইমার জুনিয়র ও থিয়াগো সিলভার অন্তর্ভুক্তি। দুজনই দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন।
১৮ মে রিও ডি জেনেরিওতে ব্রাজিলের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। তার আগে ইউওএল জানিয়েছে, নেইমার ও সিলভার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি। শতভাগ ফিট না থাকলেও ঠিকই ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত গোল পাচ্ছেন নেইমার। তার মধ্যে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ স্কোরারকে বিশ্বকাপে স্কোয়াডে দেখতে ব্রাজিলীয় ফেডারেল ডেপুটি হেলিও লোপেস সরাসরি চিঠি পাঠিয়েছেন দেশটির ফুটবল কনফেডারেশনে (সিবিএফ)।
আগামী ১১ জুন মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপ। তার আগে সোমবার (১১ মে) থেকে দলগুলোর খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দেশের হাতে জুন মাসের শুরু পর্যন্ত সময় রয়েছে চূড়ান্ত তালিকা জমা দেওয়ার জন্য। তবে অনেক পরাশক্তি ইতোমধ্যেই তাদের দল ঘোষণার দিনক্ষণ জানিয়ে দিয়েছে।
১১ মে দলগুলোর জন্য প্রাথমিক বা সাময়িকভাবে খেলোয়াড় তালিকা জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই তালিকায় ৩৫ থেকে ৫৫ জন খেলোয়াড় রাখতে পারে ফেডারেশনগুলো। আজ থেকে শুরু হচ্ছে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার সময়। ২ জুন ফিফার কাছে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই দিনেই ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৮টি দেশের সব খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ করবে।
গত কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও প্রত্যেক দল সর্বোচ্চ ২৬ জন খেলোয়াড় নিয়ে স্কোয়াড গঠন করতে পারবে। দলে অন্তত তিনজন গোলরক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। চূড়ান্ত তালিকা জমা দেওয়ার পর শুধুমাত্র গুরুতর চোট বা অসুস্থতার ক্ষেত্রেই ফিফার অনুমতি সাপেক্ষে খেলোয়াড় পরিবর্তন করা যাবে।

আসন্ন সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি হিসেবে আজ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে কাসেমবুন্দিত এফসির বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ক্লোজ-ডোর প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। যেখানে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে পিটার বাটলারের দল।
ম্যাচজুড়ে গোছানো এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানের দাপুটে জয় তুলে নেয়। খেলার ১৫ মিনিটে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। এরপর ৭৭ মিনিটে উমেহ্লা মারমা দ্বিতীয় গোলটি করলে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়।
দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কোচ বাটলার। সাফ টুর্নামেন্টের আগে এই ম্যাচটি খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস এবং অনুপ্রেরণা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন তিনি। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১৭ মে বাংলাদেশ দল আরও একটি ক্লোজ-ডোর প্রীতি ম্যাচ খেলবে।
আজকের ম্যাচের ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য আগামীকাল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই মঙ্গলবার আফঈদাদের মাঠে কোনো অনুশীলন সেশন থাকছে না। এর পরিবর্তে সকালে টিম হোটেলে স্কোয়াডের সকল সদস্য স্ট্রেচিং এবং পুল রিকভারি সেশনে অংশ নেবেন।
থাইল্যান্ডের কন্ডিশনিং ক্যাম্প শেষে ২১ মে দল সরাসরি যাবে ভারতের গোয়ায়। যেখানে ৬ দল নিয়ে গড়াবে এবারের নারী সাফ। বাংলাদেশ পড়েছে ‘বি’ গ্রুপে স্বাগতিক ভারত ও মালদ্বীপের সঙ্গে। ২৮ মে মালদ্বীপের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এরপর ৩১ মে স্বাগতিক ভারতকে মোকাবিলা করবে বাটলারের দল। ৩ জুন হবে সেমি-ফাইনাল, আর ৬ জুন ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এবারের সাফের।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সেই কঠিন দিনগুলো এখন অতীত; রিয়াল বেতিসে দারুণ সময় কাটছে আন্তনির। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আক্রমণভাগের এই ফুটবলার এবার লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপের একটি অনন্য রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। রোববার রাতে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ২-২ ব্যবধানে ড্র হওয়া ম্যাচে গোল করেন তিনি। এর মাধ্যমে ২৬ বছর বয়সী উইঙ্গার প্রমাণ করেছেন যে ক্যারিয়ারের পুনরুত্থান এখন আর কেবল সম্ভাবনা নয়, বাস্তবতা।
স্পেনের সেরাদের তালিকায়
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই ফুটবলার লা লিগায় আসার পর থেকেই উড়ছেন। ফাইনাল থার্ডে নিজের দক্ষতাকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। বিশেষ করে বক্সের বাইরে থেকে গোল করার ক্ষেত্রে তিনি এখন বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। আনোয়েতা স্টেডিয়ামে সোসিয়েদাদের বিপক্ষে গোল করার পর চলতি মৌসুমে লা লিগায় বক্সের বাইরে থেকে সবচেয়ে বেশি (৫টি) গোল করার রেকর্ডে তিনি ছুঁয়েছেন এমবাপেকে। এই পরিসংখ্যানটিই বলে দেয়, প্রিমিয়ার লিগে ধুঁকতে থাকা সেই আন্তনি এখন কতটা আত্মবিশ্বাসী।
খেলা শেষে ডিএজেডএন-কে আন্তনি বলেন,
‘আমি খুবই খুশি। এটি কঠোর পরিশ্রমের ফল। আমি যা করছি তার জন্য আমি গর্বিত। এর জন্য আমি আমার সতীর্থ এবং কোচের কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ তারা আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছেন। আমরা এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।’
ম্যান ইউনাইটেড ব্যর্থতা ঝেড়ে পুনর্জন্ম
২০২২ সালে নেদারল্যান্ডসের ক্লাব আয়াক্স থেকে বড় অঙ্কের বিনিময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেন আন্তনি। কিন্তু এই চুক্তিটি ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের জন্য দারুণ কিছু বয়ে আনেনি। বরং ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ‘ফ্লপ’ তকমা জুটেছিল তাঁর কপালে। তবে সেভিয়া ভিত্তিক ক্লাব বেতিসে যোগ দেওয়াটা যেন তার ক্যারিয়ারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিয়েছে। এখন তিনি আর সেই খামখেয়ালি উইঙ্গার নন, বরং বেতিস আক্রমণের মূল ভরসা। চোটের সঙ্গে লড়াই করলেও আন্তনি স্বীকার করেছেন যে, এটাই তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম।
আন্তনি বলেন,
‘ব্যক্তিগতভাবে এই মৌসুমটি নিয়ে আমি খুব খুশি। এটি আমার ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম। আমি জানি কতটা ত্যাগ স্বীকার করে আমি খেলে যাচ্ছি। ২০টিরও বেশি ম্যাচ আমি শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে খেলেছি। এই জার্সি গায়ে দিলে আমি নিজের সবটুকু উজাড় করে দিই।’
সোসিয়েদাদ ম্যাচে আক্ষেপ
ব্যক্তিগত অর্জন থাকলেও, সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ম্যাচটি বেতিসের জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। এই ফলাফলে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় (ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ) কোয়ালিফাই করার দৌড়ে সেল্টা ভিগোর চেয়ে মাত্র ৪ পয়েন্ট এগিয়ে রইল বেতিস। ম্যাচের পর আন্তনি স্বীকার করেন যে, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত।
তাঁর ভাষ্যমতে,
‘আমি আমার নিজের কথা বলতে পারি। প্রথমার্ধে আমি দুটি সহজ সুযোগ পেয়েছিলাম যা গোল হওয়া উচিত ছিল। জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় আমরা কিছুটা হতাশ ও দুঃখিত। তবে এখন আমাদের সামনে তাকাতে হবে।’
নজর এখন ইউরোপে
লা লিগার চলতি মৌসুমে আর মাত্র তিনটি ম্যাচ বাকি। পঞ্চম স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করার লক্ষ্যে বেতিস সুবিধাজনক অবস্থানেই আছে। এর মধ্যে দুটি ম্যাচই তাদের ঘরের মাঠে। আন্তনি মনে করেন ঘরের মাঠের দর্শকদের সমর্থন তাদের লক্ষ্য (চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ালিফাই) অর্জনে সহায়ক হবে,
‘সোসিয়েদাদের প্রথম গোলের আগে থেকেই তারা (প্রতিপক্ষ) আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। এখন আমাদের মঙ্গলবার এলচের বিপক্ষে হোম ম্যাচের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের হাতে তিনটি ম্যাচ আছে, যার দুটিই নিজেদের মাঠে। আমরা জেতার জন্য লড়ব।’