
৯০০ গোল আর ৩৯ এর ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো… মুখে বয়সের ছাপ আর চল্লিশ ডাকছে… লাখ খানেক মিনিট ফুটবল মাঠেই কাটিয়ে রোনালদো দেখলেন নামের সঙ্গে ইতিহাস গড়া ৯০০ গোল…
মুষ্টিবন্ধ করে জানানো, সেরা হতেই আসা… সামান্য দৌড়ে সেই ভূবন ভোলানো লাফ… আচ্ছা বলুন তো দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশিবার উদযাপনের সাক্ষী হয়ে কোন সেলিব্রেশন লোকে করেছে? ‘সিউউউউই’ তো? ৯০০তম গোলের মঞ্চে অবশ্য উদযাপনে আবেগময় হয়ে গিয়েছিলেন ৫ বারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই তারকা। দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে চেষ্টা করেছেন নিজেকে সংযত রাখার, ৯০০ গোল হয়ে গেছে, সেটা যেন তারও বিশ্বাস হতে চাচ্ছিল না।
সেটা খুব স্বাভাবিক বৈকি। ২০০২ সালের ৭ অক্টোবর পেশাদার ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটা যখন করেছিলেন রোনালদো, তিনি নিজেই কী ভেবছিলেন, দুনিয়া জোড়া বিখ্যাত সাত নম্বর জার্সি গায়ে করে ফেলবেন ৯০০ গোল! রোনালদো নিজে হয়তো ঠিকই ভেবেছিলেন, বিশ্বাসটাও রেখেছিলেন… না হয় মাদেইরা থেকে বিশ্ব ফুটবল শাসন, কী করে সম্ভব? রুপকথা গল্পেও তো এমনটা হওয়ার নয়।
স্পোর্টিংয়ে শুরু, ক্লাবটার হয়ে ৫টা গোল। ম্যান ইউনাইডে দুই দফায় গোল করেছেন দেড়শ থেকে ৫ কম। ‘থিয়েটার অব ড্রিমসের’ নক্ষত্র সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দেখালেন নিজেই এক সুবিশাল আকাশ। রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলস্কোরারের নামের সাথে সাড়ে ৪০০ গোল। য়্যুভেন্তাসে ১০১ গোলের সাথে বর্তমাম ক্লাব আল নাসরের হয়ে ৬৮। জাতীয় দলের রেকর্ড ১৩১। রেকর্ড গড়া ৯০০তম গোলটাও পর্তুগালের হয়েই।
চারশ গোল পেলেই ফুটবলের অনেক নামী ফরোয়ার্ডের ক্যারিয়ার বর্তে যায়। বয়স যতো বেশি রোনালদো যেনো ততো আগুনে। ৩০ এর আগে ৪৬৩ গোল করা রোনালদো ৩০ পেরিয়ে ৯ বছরে করেছেন ৪৩৭ গোল।
১৭ বছর, ৮ মাস, ৩ দিন বয়সে প্রথম গোল করা রোনালদো নামের সঙ্গে এখন থেকে নিয়ে ঘুরবেন ৯০০ গোল। তবে আপনার মন খারাপের কিচ্ছুটি নেই, ক্রিস্তিয়ানো নামছেন না। নিজেই জানিয়েছেন, ৯০০ তার প্রাথমিক লক্ষ্য। এক হাজার গোল করেই থামতে চান।
এমনিতে ঠোঁটকাটা রোনালদো মজার ছলে আগে জানিয়েও রেখেছিলেন, লোকদের নিয়ে একটু ভাবেন না। নিজের সব গোলের ভিডিও আছে বলে প্রমাণও আছে তার শ্রেষ্ঠত্বের। এটা বলার কারণ, দুই কিংবদন্তি পেলে-রোমারিও নিজেদের হাজারের ওপর গোল আছে দাবি করলেও তার পক্ষে অফিশিয়াল প্রমাণ নেই। তবে রোনালদোর আছে, প্রথম থেকে ৯০০, প্রতিটি গোল, প্রতিটি উদযাপনের ভিডিও রয়েছে।
স্রেফ বিশ্বাসের জোরেই রোনালদো হয়ে উঠছেন পুরো ফুটবল দুনিয়ার আইডল। আগামীকাল নিয়ে ভাবনা না, প্রতিদিনই তাই নতুন শুরু রোনালদোর। ব্যাগ গুছিয়ে চলে যাওয়ার কথাও বলে রেখেছেন, তবে সে দিনটা এখনো দূরেই।
ধরুন কোনো তরুণ ফুটবলার আজ থেকে খেলা শুরু করলো… আর রোনালদো আর কখনও কোনো গোল করলেন না তার ক্যারিয়ারে। তবে সেই তরুণ ফুটবলারের ১৮ মৌসুম ধরে টানা ৫০ টা করে গোল করতে পারলেই কেবল পারবে রোনালদোকে স্পর্শ করতে…
গোল হিমালয়ে চড়ে রোনালদো দেখলেন এই চূড়ায় তিনি একাই… অনেকটা নিজের প্রচন্ড বিশ্বাসের জোরের মতো…
লাখ খানেক মিনিট, গোটা ত্রিশেক ট্রফি, ৯০০ গোল, সহস্র রেকর্ড… এক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো দস সান্তোস অ্যাভেইরো বলেই হয়তো… কি এক মানুষরে… ৯০০ ছুঁয়ে যার চোখ হাজারে…
No posts available.

ঔদ্ধত্য নয় তো কী! ফুটবল—যেখানে এক সেকেন্ডেই বদলে যেতে পারে দৃশ্যপট। পরতে পরতে জমে ওঠে গল্প। সেই খেলাতেই প্রতিপক্ষকে ‘দুর্বল’ ভাবার সাহস দেখিয়েছিল ইতালি। যখন তখন গোল হজমের শঙ্কা, অনিশ্চয়তায় ভরা ম্যাচ—সেখানে বসিনয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার মানসিকতা কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বলেই কি এই আত্মবিশ্বাস? হতে পারে। তবে এটাও সত্য, আজ্জুরিদের সোনালি দিনের সূর্য অনেকটাই অস্তমুখী। সেই বাস্তবতা যেন ক্ষণিকের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন জিয়ানলুইজি দোনারুম্মারা। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’—বিশ্বকাপের শেষ দুই আসরে জায়গা না পাওয়া দলই কিনা প্রতিপক্ষকে নিয়ে কটাক্ষে মেতে ওঠে! আর সেই প্রতিপক্ষ বসনিয়াই শেষ পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিল জেন্নারো গাত্তুসোর দলকে।
গত সপ্তাহের কথা। ওয়েলস-বসনিয়া তখন প্লে অফের সেমি-ফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ে। পেনাল্টিতে গড়ানো ম্যাচে শেষ হাসি ছিল বিশ্বকাপে একবার খেলতে পারা বসনিয়ার। ততক্ষণে ইতালিও জেনে যায়, তাদের প্রতিপক্ষের নাম।
প্রতিপক্ষের নাম জানার পর প্রতিটি দলের আদর্শিক কাজ—ডাটা অ্যানালাইসিস, ট্যাকটিকাল বিষয় নিয়ে আলোচনা। সেখানে উল্টো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বসে ইতালি। তাদের ড্রেসিংরুম থেকে ফাঁস হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় বসনিয়াকে দুর্বল হিসেবেই কটাক্ষ করছে ইতালি। দলটির ডিফেন্ডার ফেদেরিকো দিমার্কোদের ‘মুষ্টিবদ্ধ হাত’ আর উচ্ছ্বাসকে বসনিয়ানরা ঔদ্ধত্য হিসেবেই দেখেছে।
এ নিয়ে রোমা ও জুভেন্টাসে খেলা সাবেক বসনিয়ান মিডফিল্ডার মিরালেম পিয়ানিচ গাজ্জেত্তা দেলো স্পোর্তকে বলেছেন, ‘বসনিয়া ইতালিকে খোলা হাতে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষায় আছে।’ কথাটা হুমকির মতো মনে হলেও কাজের কাজ করেছে বসনিয়া। ম্যাচজুড়ে তারা তাতিয়ে রেখে ম্যাচ।
ঘরের মাঠ জেনিৎসার বিলোনো পোলজেতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ প্লে অফ বাছাইয়ের ফাইনালের প্রথমার্ধে ১ গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে তা শোধ করে বসনিয়া। পূর্ণাঙ্গ সময় ১-১ সমতায় থাকায় ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কাটল বসনিয়া। বসনিয়া স্বাধীন হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে নিল। ইতালির মতোই ২০১৪ বিশ্বকাপে সর্বশেষ খেলেছে বলকান অঞ্চলের দেশটি।
এদিন মাঠজুড়ে আধিপত্য ছিল বসনিয়ার। ৬৫ শতাংশ বল তাদের পায়ে ছিল। ইতালির দিকে নেওয়া ৩০ শটের ১১টিই লক্ষ্যে রেখেছে। বড়সুযোগ মিস করেছে দুইটি। কর্ণার আদায় করেছে ৭টি। তারচেয়েও বড় প্রায় ৮৮ শতাংশ পাস তাদের অ্যাকুরেট ছিল। এখানে অনেকটাই পিছিয়ে ইতালি।

ভিক্টর ইয়োকেরেস ক্যারিয়ারের
সপ্তস্বর্গে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে অফের সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিকের পর ফাইনালেও দলের জয়ে ভূমিকা রাখলেন। আর্সেনাল স্ট্রাইকারের
শেষ মুহূর্তের গোলে বিশ্বকাপের টিকিট কাটল সুইডেন।
ঘরের মাঠে মঙ্গলবার রাতে
ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ের প্লে অফের ফাইনালে ৩-২ গোলে জিতেছে সুইডেন। ২-২ সমতায় থাকার
পর ৮৮ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ইয়োকেরেস।
ম্যাচের প্রথমার্ধে তিনটি
গোল হয়। বাকি দুটি দেখা মেলে দ্বিতীয়ার্ধে। তবে ৮৮ মিনিটে ইয়োকেরেসের গোলেই স্বপ্নভঙ্গ
হয় ডেনমার্কের। এসময় সুইডেনকে তৃতীয় দফায় এগিয়ে নেন তিনি।
সুইডেনের ঘরের মাঠ স্ট্রবেরি
অ্যারিনাকে ম্যাচ ঘড়ির ১৯তম মিনিটে অ্যান্থনি এলাঙ্গার গোলে এগিয়ে যায় সুইডেন। ৩৩তম
মিনিটে পোল্যান্ডকে সমতায় ফেরান নিকোলা জালেভস্কি। ৪৪তম মিনিটে স্বাগতিকরা আবার এগিয়ে
যায় গুস্তাফের গোলে।
২-১ গোলে পিছিয়ে থাকার
পর দ্বিতীয়াার্ধে খেলা শুরুর ৫৫তম মিনিটে স্কোরলাইন
২-২ করে ডেনমার্ক। কারোলের গোলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে অতিথিরা।। তবে ম্যাচের ৮৮তম
মিনিটে সুইডেনকে তৃতীয় দফায় এগিয়ে নেন ইয়োকেরেশ।
আরেক প্লে অফ ফাইনালে ইউরোপের
সবচেয়ে ছোট দেশ কসোভোকে তাদের মাঠে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকেট পেয়েছে তুরস্ক।
আরেক ম্যাচে ইতালির স্বপ্নভঙ্গ করেছে বসনিয়া।

পক্ষান্তরে ভুলটা নিকোলাস ভাসিলজেরই। বল রিসিভের পর তার দূর্বল ক্লিয়ারেন্স পৌঁছে যায় নিকোলো বারেল্লার কাছে। দ্রুতই তা মইজে কিনেকে পাস দেন তিনি। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ভুল করেননি ফিওরেন্তিনা ফরোয়ার্ড। দারুণ এক শটে বসনিয়ার জালে বল জড়ান তিনি। তাতেই বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচঘড়ির ১৫ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ইতালি।
বসনিয়ার ঘরের মাঠ জেনিৎসার বিলোনো পোলজেতে মঙ্গলবার
বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ প্লে অফ বাছাইয়ের ফাইনালের প্রথমার্ধে
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি।
প্রথমার্ধে বল পজিশনে খানিক পিছিয়ে থাকলেও একের পর এক আক্রমণ শানায় বিশ্বকাপে একবার খেলতে পারা বসনিয়া। তাদের ১৩টি শটের মধ্যেই ৪টি ছিল গোলমুখে। আর গাত্তুসোর শিষ্যরা সেখানে অনেকটা পিছিয়ে। বসনিয়ামুখে মাত্র ২টি শট নিতে পেরেছে অতিথিরা। চারটি গোল সেভ করেছেন জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা।
প্রথম গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বসনিয়া। প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকে। তবে বার বারই তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন দোনারুম্মা। ম্যাচ ঘড়ির ২০তম মিনিটে ইতালির গোলকিপার দারুণ একটি সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। বসনিয়ার কর্নার শট সরাসরি চয়ে যায় ইভান বেসিচের কাছে। বল রিসিভের সঙ্গে সঙ্গেই বুলেট গতির শট নেন এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার। তার সে শট রুখে দেন ম্যানচেস্টার সিটি গোলকিপার।
ঠিক তার তিন ৭মিনিট পরই আবারও আক্রমণে ওঠে বসনিয়া। তবে নিকোলো কাটিকের দুর্বল হেডার গ্লাভস বন্দী করতে খুব একটা হ্যাপা পোহাতে হয়নি দোনারুম্মা।
৩৮ মিনিটে ফেরার আরও একটি সুযোগ পায় বসিনিয়া। ডানপ্রান্ত ধরে আক্রমণে ওঠেন বজরকতারেভিচ। এরপর আকর্ষণীয় ক্রস পাঠান বক্সে। এরমেদিন দেমিরোভিচ সেটি হেডারে চেষ্টা করেন, কিন্তু বল পোস্টের বাইরে চলে যায়।
৪১ মিনিটে অঘটনের শিকার
হয় ইতালি। মেমিচকে ফাউল করার কারণে লাল কার্ড দেখেন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। দ্বিতীয়ার্ধ
১০ জন নিয়েই খেলতে হবে ইতালিকে।

জীবন বড়ই অদ্ভুতুড়ে! কখনও শেষ বিকেলে নীড়ে ফেরা সাদা বকের দল। আজ শিশু, কাল যুবক, পরশু বয়োবৃদ্ধ। এরপর…, চির অচিনের সঙ্গে মিশে যাওয়া। যাপিত জীবনের নানা রঙ। ফুটবলেও তাই। এখানে কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফোটেন ফুটবলাররা, ঝরেও পড়েন কোনো এক ভোরে। কালের পরিক্রমায় নিজ দেশের জার্সি, বুট আলমারিতে তুলে রাখতে হয় তাদের। যে মাঠে দিব্যি চষে বেড়াতেন, সেটাও হয়ে পড়ে অতীত।
লিওনেল মেসির বেলাও কী সেটা ঘটতে যাচ্ছে না? নির্মম অথচ একটি চরম সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টাইন মহামানব। বুধবার বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটা ১৫ মিনিটে জাম্বিয়াকে আতিথ্য দেবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রীতি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ! আর তা যদি হয়ে থাকে এবং বিশ্বকাপের ২২তম আসর থেকে যদি ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ড অবসর নেন তবে এটাই হবে দেশের মাটিতে মেসির সবশেষ ম্যাচ।
যদিও টিএনটি স্পোর্টসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা বর্তমানে হন্ডুরাস এবং সার্বিয়ার সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজনের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে হন্ডুরাসের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে পারে ৬ জুন, আর আলবিসেলেস্তারা ইউরোপের দল সার্বিয়ার মুখোমুখি হতে পারে ৯ জুল অ্যালাবামায়। যার একটি আর্জেন্টিনার মাটিতে হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তা হলে ঘরের মাটিতে সবশেষ ম্যাচ খেলার জন্য অপেক্ষা বাড়বে মেসির।
দেশের জার্সিতে ১৮৮ ম্যাচে ১১৫ গোল করা মেসি সবশেষ মৌরাতানিয়ার বিপক্ষে ৪৫ মিনিট মাঠে ছিলেন। তবে জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাকে পূর্ণশক্তির দলের নেতৃত্ব দিতে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।
৩৮ বছর বয়সী মেসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপে খেলার ঘোষণা দেননি, তবে বাছাইপর্বে তিনি পুরোপুরি অংশ নিয়েছেন। স্কালোনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই সুপারস্টার সম্ভবত তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলবেন।
স্কালোনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে যেন বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পার, যা সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ হবে। আমরা চাই সে এই অভিজ্ঞতাটি উপভোগ করুক, কারণ পরে এই ধরনের টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ খুব মিস করে খেলোয়াড়রা।”
জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনা তাদের পরিচিত মূল খেলোয়াড়দের নিয়েই মাঠে নামবে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে শীর্ষে থাকা দলটি এবারের বিশ্বকাপেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত।
স্কালোনি বলেন, “আমাদের পরিচিত বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই খেলবে। এটি হবে চূড়ান্ত পরীক্ষা। পরে আমরা কিছু পরিবর্তন করে তরুণদেরও দেখব।”
ইতোমধ্যে তিনি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে ৫৫ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দিয়েছেন। সেই তালিকা থেকেই চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল মে মাসের শেষে ঘোষণা করা হবে। আর এ তালিকায় নিশ্চিতভাবে রয়েছে আর্জেন্টিনাকে সবশেষ বিশ্বকাপ জেতানো নায়কের নাম।

ফিফা বিশ্বকাপের কাউন্ট ডাউন চলছে। ৭১ দিন পর শুরু হবে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিসর ৪৮ দলের অংশগ্রহণ দেখা যাবে ২২তম আসরে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স ছাড়াও এবার প্রথমবারের বিশ্বমঞ্চে অংশ নেবে কুরাসাওয়ের মতো নতুন কয়েকটি দেশ।
বিশ্বকাপের দরজায় কড়া নাড়ার মুহূর্তে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে। ফিফা প্রীতি ম্যাচে একে অন্যের বিপক্ষে খেলছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। বুধবার বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা ঘরের মাঠে আফ্রিকান দেশ জাম্বিয়াকে আতিথ্য দেবে। আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে লড়বে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।
আলবার্তো হোসে আর্মান্দো স্টেডিয়ামে বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটা ১৫ মিনিটে শুরু আর্জেন্টিনা ও জাম্বিয়ার লড়াই। আর ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়ামে ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচটি ঠিক তার ৪৫ মিনিট পর অনুষ্ঠিত হবে।
জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বিশ্বকাপের মূল আসরের আগে আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। যদিও বেশ কিছু গণমাধ্যম বলছে, বিশ্বকাপের আগে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচে নামতে পারে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, স্কালোনি এই ম্যাচে তাঁর স্কোয়াডের গভীরতা পরীক্ষার লক্ষ্যে এমন অনেক খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে পারেন যারা গত ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি।
জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিয়মিত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। গোলপোস্টের নিচে জায়তা পেতে পারেন মার্সেইর গোলকিপার জেরোনিমো রুল্লি। রক্ষণভাগে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে তাগলিয়াফিকো, অগাস্টিন গিয়াই ও লুকাস মার্তিনেসের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যমাঠে লেয়ান্দ্রো পারেদেস ও গুলিয়ানো সিমিওনেদের ওপর ভরসা রাখতে পারেন কোচ। আক্রমণভাগে অধিনায়ক লিওনেল মেসি শুরু থেকে খেলবেন কি না তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকলেও, হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন ফ্লাকো লোপেজ। এছাড়া বদলি হিসেবে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন উদীয়মান তারকা ভ্যালেন্টিন বার্কো ও জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি।
নিজেদের সবশেষ প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে হারের পর মানসিকভাবে কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের আগে ৭ জুন মিসরের বিপক্ষে তাদের আরেকটি ম্যাচ থাকলেও, চূড়ান্ত দল গঠনের ক্ষেত্রে ক্রোয়েশিয়া ম্যাচটিকেই মূল মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন আনচেলোত্তি। যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোতে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ভাবছে না ব্রাজিল শিবির।