
আগামী বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের ১৪তম আসর। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া ফেডারেশনগুলোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। রেসে কিছুটা পিছিয়ে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস (টিটি) ফেডারেশন।
২২ জন খেলোয়াড় নিয়ে চলছে টিটির এসএ গেমসের ক্যাম্প। সিনিয়র-জুনিয়র মিলিয়ে অক্টোবর মাসে তিন প্রতিযোগিতায় খেলবে টিটির খেলোয়াড়েরা, যার অন্যতম ইউথ এশিয়ান গেমস।
নভেম্বরে ইসলামিক সলিডারিটি গেমস ছাড়াও আছে ফেডারেশন কাপ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন লিগ। পরের মাসে সিনিয়র ও জুনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ফেডারেশন। জানুয়ারিতে পাকিস্তান যাবে ৮ সদস্যের নারী ও পুরুষ টিটি দল।
আরও পড়ুন
| নিজেই নিজের প্রশংসা করলেন আলকারাজ |
|
গত ৩ আগস্ট ২৫ বছর বয়সি থাইল্যান্ডের প্যাটারাথ্রোর্ন পাসারাকে হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় ফেডারেশন। যদিও নারী দলের অন্যতম খেলোয়াড় সোনাম সুলতানা সোমার ক্যারিয়ার প্রায় দুই দশকের। নারী-পুরুষ মিলিয়ে অনেক খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারই এই থাই কোচের বয়সের কাছাকাছি।
২৫ বছর বয়সি কোচের অধীনে দুই মাসের মতো প্রাকটিস করেছেন টিটির ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়েরা। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের মতে তার চেয়ে আরও ভাল কোচ আনা যেতো। কথা ছিল, দুই মাস পর সন্তোষজনক হলে থাইল্যান্ডের কোচের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়াবে টিটি ফেডারেশন। তবে মঙ্গলবার ঢাকা ছাড়ছেন পাসারা।
থাই কোচ যাওয়ার পর নতুন কোচ কবে আসবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান সনেট জানিয়েছেন কিছু পরিকল্পনার কথা। ভারত থেকে কাউকে আনার কথা বলা হলেও কবে তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি তিনি। কোচ নিয়ে সমস্যা সহসা কাটছে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
| ‘সিনারের উচ্চারণ হিটলারের মতো’, গানের লিরিক নিয়ে তোলপাড় |
|
সমস্যা আছে খেলোয়াড়দের খাবার নিয়েও। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে বাজেট আছে এসএ গেমসের জন্য। খেলোয়াড়দের খাবারের জন্য প্রতিদিন তারা দিচ্ছে ৭৫০ টাকা; সেই সঙ্গে ৩৫০ টাকা দৈনিক পকেট মানি। তবে ক্যাম্পের খেলোয়াড়েরা পাচ্ছেন ৫০০ টাকা করে মাত্র।
বাকি ৬০০ টাকা ভ্যাট ও ইনকাম ট্যাক্স বাবদ কাটা হয় বলেই ফেডারেশন থেকে খেলোয়াড়দের নাকি জানানো হয়। যদিও এই বাবদ কাটার কথা ২৫ শতাংশ করে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের ব্যাখ্যা,
'সাপ্লিমেন্ট এবং কিছু নাস্তা বাবদ বাকি টাকা খরচ হয়। ওই খরচের পর বাড়তি কোনো টাকা থাকে না।'
প্রশ্ন থাকছে— তিন বেলা প্রধান মিলের চেয়ে কি তবে নাস্তা ও সাপ্লিমেন্টের খরচ বেশি?
আরও পড়ুন
| সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে দেশ ছাড়া জোকোভিচ |
|
ফেডারেশন থেকে টাকা না দিয়ে শুরুর দিকে এনএসসির ক্যান্টিন থেকে খাবার আনা হতো। খাবারের মান ততটা ভাল না হওয়ায় তাতে আপত্তি জানান খেলোয়াড়েরাই। পরে প্রত্যেককে টাকা দেওয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫০০ টাকা দিয়ে হোটেল থেকে তিন বেলার খাবার কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন কেউ কেউ। এতে খেলোয়াড়দের পুষ্টির বিষয়টিও অবহেলিত থাকছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
টিটির প্রাকটিস চলছে পল্টনের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ উডেন ফ্লোর ইনডোরে। সেখানে পুরাতন সমস্যা আবহাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে এসি বিকল। অনুশীলনে যে কারণে সমস্যায় ভোগেন টিটির খেলোয়াড়েরা। জানা যায় আগস্টের তীব্র গরমে আবহাওয়ার দিকে তাকিয়ে করতে হতো অনুশীলন। আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকত তবেই হতো অনুশীলন।
এসি নিয়ে গত মে মাসে প্রেসিডেন্ট কাপের খেলাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়েরা এগিয়ে আসায় টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন
| ফেদেরারের রেকর্ড ভাঙতে প্রস্তুত ‘ভয়ঙ্কর’ আলকারাজ |
|
উডেন ফ্লোরের এসি বিকল নিয়ে নিউজ হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। শনিবার কথা হয় টিটির তারকা খেলোয়াড় সোনাম সুলতানা সোমার সঙ্গে। তিনি বলেন,
'এমন আবহাওয়ায় সত্যি প্রাকটিস করা কঠিন। আগে তো তাও জিমনেশিয়ামে ভেন্টিলেটর ছিল। এখন এসিও নেই, নেই ভেন্টিলেটর। এসির ব্যবস্থা না করলেও অন্তত ভেন্টিলেটর করে দেওয়া হোক।'
ক্যাম্পে থাকা টিটির খেলোয়াড় সামান্তা তুশী বলেন, 'অনেক গরম। প্রাকটিস করতে কষ্ট হয়। শরীরে এনার্জি থাকে না। তারপরও চেষ্টা করছি মানিয়ে নেওয়ার।' মেয়েদের জাতীয় র্যাঙ্কিংয়ে চারে থাকা তুশী ইতিহাস বিষয়ে পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ে। এছাড়া আনসার-ভিডিপিতে চুক্তিভিত্তিক খেলেন তিনি। পাশাপাশি বাচ্চাদের টিটি খেলা শেখানোর নেশা তুশীর। তা থেকে আহামরি কোনো আয় না হলেও খেলার প্রতি ভালবাসা থেকেই এটি করেন বলে জানান।
আরও পড়ুন
| ব্লকবাস্টার ফাইনালে সিনারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন আলকারাজ |
|
আবার প্রফেশনালি চাকরি করেন টিটির আরেক তারকা খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদ। ২০১৩ সাল থেকে জাতীয় দলে খেলছেন, খেলার পাশাপাশি এখন চাকরি করছেন। ক্যাম্পের দুই সেশন অনুশীলনের মধ্যে সকালে আসেন, তবে বিকেলে আসতে পারেন না চাকরির কারণে। তিন চার মাসের এই ক্যাম্পের জন্য চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি সময় দিতে পারছেন না। শনিবার টি-স্পোর্টসকে বলেন,
'আমাদের দিক থেকেও বলব কমতি আছে। ক্যাম্পটা গোছানো থাকলে ভালো হতো। মনে করি জাতীয় দলের শুধু ৮জনকে নিয়ে আলাদা ফোকাস করা উচিত।'
জাভেদরা সব সামলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের প্রতি যেন ফোকাস নেই সংশ্লিষ্টদের। সেই আক্ষেপও লুকাননি,
'প্রচন্ড গরম এখানে। টেবিল টেনিসকে ভালবাসি বলেই খেলি। এখানে তো পাওয়ার কিছু নেই। ক্রিকেটের মতো আর্থিক দিক দিয়ে পাওয়ার কিছু নেই। তারপরও এই গরম সহ্য করে খেলছি।'
আরও পড়ুন
| এই সিনারই টেনিস ছেড়ে দেওয়ার কথা দেন মা-বাবাকে |
|
উডেন ফ্লোর জিমনেশিয়ামের এসি নতুন করে সাজাতে এনএসসির কাছে বাজেট চেয়ে চিঠি দিয়েছে টিটি ফেডারেশন।
বিষয়টি নিয়ে রোববার কথা হয় এনএসসির নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে। এসি বিকলের বিষয়ে তিনি শিগগির পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান,
'আমার কাছে মনে হয় না একসঙ্গে এতগুলো এসি নষ্ট হতে পারে। একেকটির একেকরকম ত্রুটি থাকতে পারে। হয়ত রিপেয়ার করলে ঠিক হয়ে যাবে। এটা আমার মাথায় আছে।'
No posts available.

বিশ্ব টেনিসে আবারও প্রাইজমানির ইস্যুতে অস্থিরতা বাড়ছে। খেলোয়াড়দের দাবি না মানা হলে ভবিষ্যতে গ্র্যান্ড স্লাম বয়কটের মতো কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে, এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন নারী টেনিসে বিশ্বের এক নম্বর তারকা আরিয়ানা সাবালেঙ্কা।
রোমে ইতালিয়ান ওপেন শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমে সাবালেঙ্কা বলেন, খেলোয়াড়দের অধিকার আদায়ে বয়কটই হয়তো শেষ পথ হয়ে দাঁড়াবে।
“একসময় আমরা হয়তো বয়কটে যেতে পারি। নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াইয়ের এটিই হয়তো একমাত্র উপায়। আমাদের ছাড়া এই আয়োজন, এই বিনোদন। কিছুই সম্ভব নয়।”
টেনিসে প্রাইজমানি নিয়ে এই টানাপোড়েন নতুন নয়। অনেক দিন ধরেই চারটি গ্র্যান্ড স্লাম- অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফ্রেঞ্জ ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন থেকে আয় হওয়া অর্থের বড় অংশ পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন পুরুষ ও নারী টেনিসের শীর্ষ খেলোয়াড়েরা।
শীর্ষ টেনিস তারকাদের দাবি, মোট আয়ের অন্তত ২২ শতাংশ খেলোয়াড়দের প্রাপ্য। যা বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে অন্যান্য সুবিধা ও সূচি নির্ধারণেও খেলোয়াড়দের মতামতের দাবি তুলেছেন তারা।
এই বিষয়ে সাবালেঙ্কার সঙ্গে অনেকেই একমত। চার নম্বর র্যাঙ্কিংধারী যুক্তরাষ্ট্রের কোকো গফ বলেছেন, “সবাই একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিলে আমি শতভাগ বয়কটে যেতে পারি।”
তবে সবাই এতটা কঠোর অবস্থানে নেই। বিশ্ব তিন নম্বর ইগা সোয়াতে প্রাইজমানি বাড়ানোর দাবিকে সমর্থন করলেও, বয়কটকে 'অতি চরম পদক্ষেপ' মনে করেন। একইভাবে ব্রিটিশ খেলোয়াড় এমা রাদুকানু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো বয়কটের অংশ হবেন না।
সম্প্রতি ফ্রেঞ্চ ওপেনে প্রাইজমানি পুল ৯.৫ শতাংশ বাড়ানো হলেও এতে ঠিক সন্তুষ্ট নন খেলোয়াড়রা। তাদের মতে, এই বৃদ্ধি মোট আয়ের তুলনায় অনেক কম। যদিও গত বছর ইউএস ওপেনে প্রাইজমানি ২০ শতাংশ এবং চলতি বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
আগামী মাসে উইম্বলডন তাদের নতুন প্রাইজমানি ঘোষণা করবে। তবে তার আগেই টেনিস বিশ্বে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, খেলোয়াড় ও আয়োজকদের এই টানাপোড়েন দ্রুত না মিটলে সামনে আরও বড় সংঘাত অপেক্ষা করছে।
টেনিস বিশ্বের জন্য বড় দুঃসংবাদ। আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে সরে দাঁড়ালেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজ।
ডান হাতের কবজির চোট কাটিয়ে উঠতে না পারায় টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিশ্বের দুই নম্বর তারকা।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) আলকারাজ নিশ্চিত করেছেন, প্যারিসের গ্র্যান্ড স্ল্যামের পাশাপাশি রোমে ইতালিয়ান ওপেনেও তিনি অংশ নিতে পারছেন না।
চলতি মাসের মাঝামাঝিতে বার্সেলোনা ওপেনের প্রথম রাউন্ডে খেলার সময় ডান হাতের কবজিতে চোট পান আলকারাজ। এরপর মাদ্রিদ ওপেন থেকেও নাম সরিয়ে নিতে বাধ্য হন তিনি।
আলকারাজ লেখেন,
‘মেডিকেল টেস্টের পর আমরা সতর্কতা হিসেবে রোম ও ফ্রেঞ্চ ওপেনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি মুহূর্ত, তবে আমি নিশ্চিত যে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব।’
২০২৬ সালের শুরুটা আলকারাজের জন্য ছিল রূপকথার মতো। বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে নোভাক জকোভিচকে হারিয়ে তিনি সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করেন।
তবে এরপর থেকে ফর্মে কিছুটা ভাটা পড়ে তার। চলতি মাসে মন্টে কার্লোর ফাইনালে ইয়ানিক সিনারের কাছে হেরে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারান এই স্প্যানিশ তারকা।
সোমবার মাদ্রিদে লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডসে আলকারাজকে কবজিতে ব্যান্ডেজ পরা অবস্থায় দেখা যায়। সেই অনুষ্ঠানে তিনি ২০২৬ সালের সেরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ হিসেবে ভূষিত হন। কবজির এই চোটই তাকে এখন মাঠের বাইরে ছিটকে দিল।

ফ্রেঞ্চ ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজ লাল মাটির লড়াই থেকে সরে দাড়াতে পারেন। ডান হাতের কবজিতে গুরুতর চোট পাওয়া স্প্যানিশ তারকার অনুপস্থিতিতেই আগামী ২৪ মে’তে শুরু হতে পারে রোলাঁ গাঁরোর মহারণ।
চোটের কারণে গত সপ্তাহে বার্সেলোনা ওপেন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন আলকারাজ। প্রথম রাউন্ডে জয়ের পর ডান হাতের কবজিতে চোট পান বিশ্বের এই দুই নম্বর খেলোয়াড়। পরবর্তীতে মাদ্রিদ ওপেন থেকেও সরে দাঁড়ান তিনি।
আলকারাজ জানিয়েছেন, তাঁর কবজির চোটের পরবর্তী পরীক্ষার ফলাফলই নির্ধারণ করবে তিনি ফ্রেঞ্চ ওপেনে খেলতে পারবেন কি না। তাঁর মতে, এই পরীক্ষার ফলাফল হবে অত্যন্ত ‘গুরুত্বপূর্ণ’। স্প্যানিশ চ্যানেল টিভিই-কে আলকারাজ বলেন, ‘আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি যেন এই পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক আসে। আমি ধৈর্য ধরার চেষ্টা করছি। আমরা এখন সুস্থ আছি, শুধু কিছুটা সময় অপেক্ষা করছি।’
আরও পড়ুন
| বাংলাদেশ টেবিল টেনিসে জাপানের কোচ নাকানো |
|
টানা দুবারের ফ্রেঞ্চ ওপেন চ্যাম্পিয়ন এবং সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক আলকারাজ এই চোটকে ‘প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আলকারাজ যোগ করেন, ‘আগামী কয়েক দিনে আমাদের আরও কিছু পরীক্ষা আছে। তারপরই বোঝা যাবে চোটের বর্তমান অবস্থা কী এবং আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।’
চলতি মাসে ইয়ানিক সিনার মন্টে কার্লো ফাইনালে আলকারাজকে হারিয়ে বিশ্বের এক নম্বর র্যাঙ্কিং পুনরুদ্ধার করেছেন। গত মৌসুমে আলকারাজ মন্টে কার্লো, রোম এবং রোলাঁ গারোঁর ক্লে-কোর্ট শিরোপা জিতেছিলেন এবং বার্সেলোনায় ফাইনালে উঠেছিলেন। এই চোটের কারণে র্যাঙ্কিংয়ে সিনারের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় আছেন তিনি।
অবশ্য চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়ো করতে নারাজ আলকারাজ বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় তড়িঘড়ি করে ফেরার চেয়ে আমি বরং একটু দেরিতে কিন্তু পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরতে চাই। ঈশ্বর চাইলে আমার সামনে দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে আছে। এই রোলাঁ গারোঁতে নিজেকে অতিরিক্ত চাপে ফেললে ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টগুলোতে আমার অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।’
পেশাদার জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তিনি বলেন, ‘পেশাদার দুনিয়ায় এমনটা ঘটতেই পারে। এটা মেনে নিতে হবে। আমি যদি চাই পরবর্তীতে এই চোট যেন আমাকে ভোগান্তিতে না ফেলে, তবে এখনই খুব ভালোভাবে সেরে ওঠা প্রয়োজন।’

টেবিল টেনিসের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে জাপানের অভিজ্ঞ কোচ ইউতাকা নাকানোকে দুই বছরের জন্য প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন (বিটিটিএফ)।
বুধবার দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নাকানোকে স্বাগত জানান ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার ওয়াসিফ ফারহান শায়ের।
আসন্ন কমনওয়েলথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান গেমস, এশিয়ান যুব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ, সাউথ এশিয়ান জুনিয়র টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ এবং সাউথ এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিটিটিএফ। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে জাতীয় র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৬ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী খেলোয়াড়কে এশিয়ান গেমসের সিলেকশন ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে।
ইউতাকা নাকানো সাবেক জাপানি টেবিল টেনিস খেলোয়াড়, যিনি পরবর্তীতে কোচিং পেশায় যুক্ত হন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার অভিজ্ঞতা বিস্তর। কোচ হিসেবে এটি তাঁর দ্বিতীয়বার বাংলাদেশে আগমন। এর আগে ২০২২ সালে তিনি ল্যাবএইডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফিউচার স্পোর্টিং ক্লাবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্যামসন দুবিনা টেবিল টেনিস অ্যাকাডেমিতে কোচ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বিটিটিএফের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এ. এম. মাকসুদ আহমেদ সনেট বলেন,
“আমরা বিশ্বাস করি, ইউতাকা নাকানোর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশের টেবিল টেনিস নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সাফল্য আরও বাড়বে।”
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে আলাদাভাবে দল নির্বাচন করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলা দলের কোচ হিসেবে প্রাক্তন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সালেহা সেতু-কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে দেশীয় কোচদের দক্ষতা উন্নয়নসহ পুরুষ, মহিলা, বালক ও বালিকা—প্রতিটি বিভাগে বিশেষায়িত কোচ নিয়োগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন অনেকাংশেই সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরশীল।

ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছুঁলেন কার্লোস আলকারাজ। সাম্প্রতিক মন্টে কার্লো মাস্টার্সে শিরোপা জিততে না পারলেও একাধিক সাফল্য নিয়ে ফিরেছেন তিনি।
২২ বছর বয়সেই আলকারাজ নিজের ক্যারিয়ারের দশম মাস্টার্স এক হাজার ফাইনালে পৌঁছান। একই সঙ্গে এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ২০তম বড় ফাইনাল। অল্প বয়সে এমন ধারাবাহিকতা টেনিস অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্টে কার্লোর রানারআপ হওয়ায় প্রাপ্ত অর্থ আলকারাজের ক্যারিয়ারের মোট পুরস্কার অর্থকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বর্তমানে তাঁর মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি, যা তাঁকে সর্বকালের তালিকায় পঞ্চম স্থানে তুলে এনেছে। তালিকায় তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রিটিশ তারকা অ্যান্ডি মারেকে।
এই তালিকায় আলকারাজের সামনে এখন কেবল টেনিসের চার কিংবদন্তি—নোভাক জোকোভিচ, রাফায়েল নাদাল, রজার ফেদেরার এবং নারী টেনিসের মহাতারকা সেরেনা উইলিয়ামস।
মন্টে কার্লোর ফাইনালে আলকারাজকে পরাজিত করা ইতালিয়ান তারকা ইয়ানিক সিনারও এই তালিকায় উন্নতি করেছেন। তিনি এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠেছেন। সেমিফাইনালে যাঁকে হারিয়েছিলেন, সেই জার্মান খেলোয়াড় আলেকজান্ডার জভেরেভকে পেছনে ফেলেই এই অগ্রগতি।
সব মিলিয়ে, অল্প বয়সেই আলকারাজ যে গতিতে এগিয়ে চলেছেন, তাতে ভবিষ্যতে টেনিসের সর্বকালের সেরা আয়কারী খেলোয়াড়দের শীর্ষে ওঠার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।