
ম্যাচের শুরুতেই দলকে এনে দিলেন পেনাল্টি। নিজে সেটা না নিয়ে সুযোগ দিলেন ছন্দে থাকা রাফিনিয়াকে। বার্সেলোনা তারকা দলকে এগিয়ে দিলেও বিরতির আগেই সমতা টানল কলম্বিয়া। ফরোয়ার্ডদের হতাশাজনক এক ম্যাচে দুই দল পয়েন্ট ভাগাভাগির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে অন্তিম সময়ে জাত চেনালেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রাজিলকে বাছাইয়ে দুই ম্যাচ পর এনে দিলেন স্বস্তির জয়।
লাতিন আমেরিকার বাছাইয়ের শুক্রবার সকালের ম্যাচে কলম্বিয়াকে ব্রাজিল হারিয়েছে ২-১ গোলে।
১৩ ম্যাচে ৬ জয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে ব্রাজিল। এক ম্যাচ কম খেলা আর্জেন্টিনার পয়েন্ট ২৫। আর ১৩ ম্যাচে ১৯ পয়েন্টে কলম্বিয়ার অবস্থান পঞ্চম।
আরও পড়ুন
| মেসি-ভিনিরা না, বিশ্বকাপের প্রথম দল যখন এশিয়ার |
|
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ডি-বক্সের মধ্যে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ফাউল করে বসেন দানিয়েল মুনোস। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি দিলে স্পটকিক নিতে এগিয়ে যান রাফিনিয়া। সেরা ফর্মে থাকা বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান পোস্টের বাঁ দিক দিয়ে। জাতীয় দলের হয়ে ৩২তম ম্যাচে এটি তার ১১ নম্বর গোল।
নেইমারের চোটের কারণে ব্রাজিলের বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি পাওয়া রদ্রিগো ১৪তম মিনিটে একটা প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তবে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার শট অল্পের জন্য থাকেনি লক্ষ্যে।
এর মিনিট দুয়েক বাদে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখে বিপদ ডেকে আনেন ব্রুনো গিমিরেস৷ এই কার্ড দেখার কারণে এই মিডফিল্ডার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পরবর্তী ম্যাচেটি খেলতে পারবেন না।
২০তম মিনিটে লুইস দিয়াসের পাস ধরে ব্রাজিলের বক্সে প্রবেশ করে শট নেন হামেস রদ্রিগেস, যা পারেনি আলিসনের পরীক্ষা নিতে। ঢিমেতালেই এগিয়ে যায় ম্যাচটি এই সময়ে।
এরই মধ্যে বাড়ে ব্রাজিলের মিডফিল্ড সমস্যা আরও। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মিডফিল্ডার গার্সন। স্কোয়াডে মোটে চার মিডফিল্ডার থাকায় হাতে খুব বেশি বিকল্পও পাননি দরিভাল।
৩৬তম মিনিটে রাফিনিয়ার ক্রসে হেড নিয়েছিলেন গাব্রিয়েল ম্যাগালহায়েস। তবে ছিল না তেমন জোর। এর পাঁচ মিনিট বাদে ব্রাজিলকে চমকে দেন দিয়াস।
ডান দিক থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া মুনোস স্কিলের প্রদর্শনীতে স্পেস তৈরি করে বাড়ান ক্রস। সেখান থেকে হামেসের পা ঘুরে বল চলে যায় দিয়াসের কাছে, যিনি সহজেই পরাস্ত করেন লিভারপুল সতীর্থ আলিসনকে।
আরও পড়ুন
| অবশেষে টলিউডে অভিনয় অভিষেক হচ্ছে ওয়ার্নারের |
|
প্রথমার্ধে অনেকটাই নিজের ছায়া হয়ে থাকা ভিনিসিয়ুস বিরতির পরই বাঁদিক থেকে কাট করে এগিয়ে শট নেন। লক্ষ্যে থাকলেও কাজের কাজটা আর হয়নি। একটু পর আবারও গতি দিয়ে কলম্বিয়ার রক্ষণে আঘাত হানেন ভিনিসিয়ুস। তবে প্রতিপক্ষের জমাট ডিফেন্ডিংয়ে সুযোগই তৈরি করতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
৭১তম মিনিটে কলম্বিয়ার একটি আক্রমণ রুখে দিতে এগিয়ে এসে পাঞ্চ করেন আলিসন। তবে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের সাথে সংঘর্ষের পর চেষ্টা করেও পারেননি চালিয়ে যেতে। বাধ্য হয়ে লিভারপুল গোলরক্ষককে তুলে বেন্তোকে নামান দরিভাল।
৯০ মিনিটের বাকি সময়টা চলে দুই দলের কারোরই বলার মত আক্রমণ ছাড়াই। ইনজুরি টাইমে নবম মিনিটে কলম্বিয়াকে হতাশায় ভাসিয়ে ব্রাজিল শিবিরে আনন্দের বন্যা বইয়ে দেন ভিনিসিয়ুস।
বাম দিক থেকে আবারও কাট করে বল নিয়ে এগিয়ে শট নেন বাক্সের বাইরে থেকে। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারদের মাথায় লেগে বল চলে যায় জালে। এর পরের মিনিটেই তাকে বদলি হিসেবে তুলে নেওয়া হয়। তবে এর আগেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন ফিফার বর্ষসেরা এই ফরোয়ার্ড।
No posts available.
১৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৩১ এম
১৪ মার্চ ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম

বল পজেশন ধরে রেখে দুই অর্ধেই আক্রমণ আর গোলে শট, সবকিছুতে এগিয়ে থাকলো চেলসি। কিন্তু শুরুর দিকে নেওয়া নিউক্যাসল ইউনাইটেডের লিড আর টপকাতে পারল না ব্লুজরা। শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে হতাশার পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল লিয়াম রোজেনিয়রের দল।
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে শনিবার রাতে ১-০ গোলে হেরেছে চেলসি। ২০১২ সালের পর এই প্রথম ঘরের মাঠে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কাছে হারল ব্লুজরা।
অ্যান্থনি গর্ডনের প্রথমার্ধের একমাত্র গোলে চেলসির চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার স্বপ্নে বড় এক ধাক্কা দিল ম্যাগপাইরা।
আরও পড়ুন
| শিরোপার সুবাস পাচ্ছে আর্সেনাল, ওয়েস্ট হ্যামে পয়েন্ট খোয়ালো ম্যানসিটি |
|
১৮ মিনিটে লিভরামেন্তোর থ্রু বল ধরে মধ্য মাঠ দিয়ে উপরে ওঠেন উইলক। বক্সে গোলকিপার রবার্ট সানচেজকে কাটিয়ে গোল দিতে পারতেন নিউক্যাসল মিডফিল্ডার। তবে গোলকিপারের সামনে গিয়ে গোলে শট না নিয়ে বল বাড়ান বাঁদিক দিয়ে উপরে ওঠা অ্যান্থনি গর্ডনের কাছে। অতিথি দলের এই ফরোয়ার্ড ঠান্ডা মাথায় জাল কাঁপান।
৩০ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পাঁচ নম্বরে এখন চেলসি। এক ম্যাচ কম খেলা লিভারপুল সমান ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে চেলসির ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। ৩০ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ৯ নম্বরে নিউক্যাসল।
মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে পিএসজির মুখোমুখি হবে চেলসি। প্রথম লেগে ৫-২ গোলে পিছিয়ে থাকায় ফিরে আসার কাজটা তাদের জন্য পাহাড়সম কঠিন। বুধবার বার্সেলোনার মাঠে ফিরতি লেগ খেলতে যাবে নিউক্যাসল।
প্রিমিয়ার লিগে রাতের অপর খেলায় সান্ডারল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাইটন। ৩০ ম্যাচ শেষে দুই দলের পয়েন্ট সমান ৪০ করে। টেবিলে সান্ডারল্যান্ড ১৩ এবং ব্রাইটন ১১-তে।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শনিবার রাতে নিজ নিজ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল টেবিলের দুই শীর্ষ দল আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের অন্তিম সময়ে দুই গোল করে আর্সেনাল জয় ছিনিয়ে নিলেও, ড্র করে শিরোপা রেসে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে পেপ গার্দিওলার দল।
ঘরের মাঠে এভারটনের বিপক্ষে আর্সেনালের জয় ২-০ ব্যবধানে। অপর ম্যাচে লন্ডন স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে মূল্যবান ২ পয়েন্ট হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। লিগ টেবিলে ৭০ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে এখন ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে পেছনে পেপ গার্দিওলার দল। যদিও ইতিহাদের ক্লাবটি এক ম্যাচ কম খেলেছে গানারদের চেয়ে।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে যখন গোল পাচ্ছিল না আর্সেনাল, তখন মিকেল আর্তেতা মাঠে নামান ১৬ বছর বয়সী ম্যাক্স ডাউম্যান এবং ভিক্টর গিয়োকেরেসকে। বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন এই দুজন।
আরও পড়ুন
| কাড়িকাড়ি অর্থ ঢেলেও যেখানে তলানীতে লিভারপুল |
|
৮৯ মিনিটে ডাউম্যানের ক্রস গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে আর্সেনাল ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনক্যাপির গায়ে লেগে গোলমুখে পড়ে, কাছ থেকে ট্যাপ-ইন করে জালে জড়ান গিয়োকেরেস।
যোগ করা সময়ে যখন এভারটন সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে গোলকিপার পিকফোর্ডকেও আক্রমণে পাঠায়, তখন পাল্টা আক্রমণ থেকে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে রেকর্ড বুকে নাম তোলেন ডাউম্যান। ১৬ বছর ৭৩ দিন বয়সে গোল করে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা এখন এই ইংলিশ তরুণ।
ম্যাচ শেষে ডাউম্যানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন কোচ আরতেতা, ‘এটি ছিল জাদুকরী এক মুহূর্ত। ১৬ বছর বয়সে এমন চাপের মুখে এভাবে খেলা মোটেও স্বাভাবিক নয়। সে যখনই বল পায়, তখনই অসাধারণ কিছু ঘটিয়ে ফেলে। তাঁকে না দেখে থাকা অসম্ভব ছিল।‘
৩১ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট এখন আর্সেনালের, এক ম্যাচ কম খেলা ম্যান সিটির পয়েন্ট ৬১। সিটির হোঁচট আর আর্সেনালের এই ধারাবাহিক জয় ২০০৪ সালের পর প্রথম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার স্বপ্ন দেখাচ্ছে আর্সেনাল সমর্থকদের। আগামী সপ্তাহে কারাবাও কাপের ফাইনালে সিটির মুখোমুখি হবে গানাররা।

দল বদলের বাজারে টাকার বস্তা নিয়ে নেমেছিল লিভারপুল। ইউরোপীয় ফুটবল ইতিহাসে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করার রেকর্ড ভেঙে দিয়ে বেশ ক’জন তারকা ফুটবলারদে দলে ভেড়ায় অল রেডরা। তবে বিপুল পরিমান এই অর্থ খরচের ফল পাচ্ছে না ইংলিশ জায়ান্ট ক্লাবটি। উল্টো পরিসংখ্যান বলছে লিভারপুলের নখ-দন্তহীন আক্রমণভাগ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বাজে!
প্রিমিয়ার লিগে ২৯ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বরে আছে লিভারপুল। এরমধ্যে ১৮টি ম্যাচে জয়, নয়টিতে হার এবং ছয়টি ড্র করেছে আর্নে স্লটের দল। চলতি মৌসুমে লিগে এখন পর্যন্ত মোহাম্মদ সালাহরা গোল দিয়েছে গোল করেছে ৪৮টি বিপরীতে হজম করেছে ৩৯টি।
শট নেওয়ায় অবশ্য বেশ এগিয়ে আছে লিভারপুল। প্রিমিয়ার লিগে এ মৌসুমে কেবল ৪৫৭ শট নেওয়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডই এগিয়ে আছে অ্যান ফিল্ডের ক্লাবটি। তবে মোহাম্মদ সালাহ-হুগো একিতিকেদের অধিকাংশ শটই যে লক্ষ্যহীন। প্রতিপক্ষের গোলকিপারদের তেমন কোনো বিপদেই ফেলতে পারছে না লিভারপুলের আক্রমনভাগ। লিগে ২০ দলের মধ্যে লক্ষ্যে শট রাখায় তাদের অবস্থান সাতে। এমনকি ক্লাবটির মোট শটের মাত্র ২৮.৭ শতাংশ লক্ষ্যে ছিল— এই সূচকে তারা শেষ থেকে চারে অবস্থান করছে। লিভারপুলের চেয়ে পিছিয়ে আছে কেবল ফুলহাম, নটিংহাম ও এভার্টন।
প্রতিপক্ষের বক্সে বল স্পর্শের সংখ্যায় লিভারপুলের চেয়ে এগিয়ে আছে শুধু আর্সেনাল। আর বল দখলের পরিসংখ্যানে পুরো লিগে তাদের চেয়ে এগিয়ে নেই কোনো দল। সুযোগ তৈরির পরিসংখ্যানে ব্যক্তিগতভাবে দমিনিক সোবস্লাই, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, মোহাম্মদ সালাহ এবং কোডি গাকপো—এই চারজনই শীর্ষ ১২–এর মধ্যে আছেন। শীর্ষ ১৫–এ অন্য কোনো ক্লাবের দুইজনের বেশি খেলোয়াড় নেই।
লিভারপুলের আসল সমস্যা স্পষ্ট। বল দখল, শট নেওয়া, প্রতিপক্ষের বক্সে আধিপত্য সবকিছুতে দাপট দেখানোর পরও গোল করার আসল কাজটাই করতে পারছে না স্লটের শিষ্যরা। প্রতি ম্যাচে নিয়মিত গোলের সুযোগ তৈরি করার পরও জালে বল পাঠাতে ব্যর্থ হচ্ছে ক্লাবটি।
মূল কথা হলো, ‘রেডস’রা যখন লক্ষ্যভেদী শট নিতে পারে, তখন তাদের গোল করার হার প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে কার্যকর আক্রমণভাগগুলোর মতোই। সমস্যা হলো, তাদের অনেক শটই প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে তেমন পরীক্ষা নিতে পারছে না। আর এত বেশি বল দখলে রাখার পরও তারা পর্যাপ্ত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছে না।
রোববার অ্যানফিল্ডে টটেনহ্যাম আসছে টানা ছয় ম্যাচ হারের পর। তিন দিন পর গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ফিরতি লেগও রয়েছে সামনে। তুর্কি ক্লাবটির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে এরমধ্যেই ০-১ গোলে পিছিয়ে আছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের প্রতি কোনো ‘দয়া’ না দেখানোর সময় এখনই লিভারপুলের।

বার্সেলোনা সমর্থকদের জন্য সুখবর। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর অবশেষে কাতালান ক্লাবটির মিডফিল্ডার মাঠে নামার সবুজ সংকেত পেলেন। গত বছরের আগস্টে হাঁটুতে চোট পান স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। ২০৫ দিন পর আবার আগামীকাল লা লিগায় ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে সেভিয়ার বিপক্ষে দেখা যেতে পারে গাভিকে।
গত বছরের আগস্টের শেষ দিকে হাঁটুর চোটে পড়েন গাভি। সমস্যার সমাধানে আর্থ্রোস্কোপিক অস্ত্রপচার করতে হয়। সার্জারির সময় দেখা যায়, সমস্যা মূলত ধারণার চেয়ে বেশি গুরুতর, যার ফলে মিডফিল্ডারকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। শেষ পর্যন্ত ছয় মাসেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে কাটিয়ে এবং পুনর্বাসন ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কঠোর পরিশ্রমের পর, গাভি মাঠে ফিরতে সবুজ সংকেত পেয়েছেন।
গাভির মাঠে ফেরা নিয়ে বার্সেলোনা এক বিবৃতিতে বলেছে,
‘গাভি মেডিকেল অনুমোদন পেয়েছেন এবং আগামীকাল সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে খেলার জন্য প্রস্তুত।’
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে গাভিকে নিয়ে হান্সি ফ্লিক বলেন,
‘আমি খুশি যে সে ফিরেছে। আমাদের তার সঙ্গে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। আমরা তাকে অনুশীলনে দেখেছি, এবং যা দেখেছি তা ভালো লেগেছে, তবে আমাদের তাকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে হবে… তার মানসিকতা দারুণ, সে নিজের শরীরের উপর বিশ্বাস রাখে, কীভাবে খেলতে পারে তা জানে… আমরা সবাই গাভিকে চিনি, আমি তার উদ্দীপনা পছন্দ করি, যা কিছু সে আমাদের দেয় সবই অনন্য।’
গাভি ইতিমধ্যে সম্প্রতি অ্যাথলেটি ক্লাব এবং নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে গুরুত্বর্পূণ ম্যাচেও দলের সঙ্গে করেছিলেন। মৌসুমের শেষ দিকে ২১ বছর বয়সী লা মাসিয়ান গ্র্যাজুয়েটকে ফিরে পাওয়া ফ্লিকের কাজ অনেকটাই সহজ করে দেবে। সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য তাঁর শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা কমই। তবে ফিটনেস বৃদ্ধির সঙ্গে ধীরে ধীরে ম্যাচে সময় বাড়ানো এবং মূল ভূমিকায় ফিরে আসতে পারবেন গাভি।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত লিগ শিরোপা জয়ের দৌড়ে বেশ এগিয়ে আছে বার্সেলোনা। শীর্ষে থাকা ফ্লিকের দলের পয়েন্ট ৬৭। ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রিয়াল মাদ্রিদ।

লা লিগার রাউন্ড অব এইটিনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শনিবার রাতে এলচের মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। টাইটেল রেসে নিজেদের জিইয়ে রাখতে মাস্ট উইন এই ম্যাচ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগ মুহুর্তে জানা গেছে রাউল আসেনসিও চোটের খবর।
আলভারো কারেরাস, ডেভিড আলাবাসহ রিয়ালের নয় জন ফুটবলার চোটে। সেখানে নতুন করে নাম লেখালেন আসেনসিও। দলের এমন অবস্থা নিয়ে বেশ চিন্তিত কোচ আলভারো আরবেলোয়া।
লা লিগায় শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা থেকে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে রিয়াল। আর চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর সেকেন্ড লেগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বাঁচা-মরা ম্যাচ—এসবের আগে চোট সমস্যায় নাজেহাল লস ব্লাঙ্কোস শিবির।
একটার পর একটা ধাক্কায় উদ্বেগ বেড়ে গেছে রিয়াল শিবিরে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে কোচিং স্টাফের মধ্যেও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এখন প্রায় আতঙ্কজনক—কারণ ভুল সিদ্ধান্ত নিলে দল আরও কঠিন অবস্থায় পড়ে যেতে পারে।
এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেন আরবেলোয়া। শুক্রবার অনুশীলনের সময় ড্রেসিংরুমে থাকা চার ফুটবলার—চুয়ামেনি, রুডিগার, ভালভার্দে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তিনি।
এই বৈঠকের লক্ষ্য পরিষ্কার— এলচের বিপক্ষে নামানোর আগে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থা জানা। আরবেলোয়া জানতে চেয়েছিলেন, রুডিগাররা কতটা ঝুঁকি নিতে পারবেন, নাকি সামনে কঠিন এক সপ্তাহের কথা ভেবে তাদের বিশ্রাম দেওয়াই ভালো হবে। এখন ভুল করার সুযোগ খুবই কম।
ম্যাচের আগে আরবেলোয়া বলেন,
“আমার কাছে এখন শুধু এমন খেলোয়াড়রাই আছে, যারা হাত তুলে বলছে তারা আরও একবার চেষ্টা করতে প্রস্তুত। তারা খুবই নিবেদিত এবং আমরা জানি এই ম্যাচটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”
ড্রেসিংরুমে কোচ ঠিক এমন মনোভাবই দেখেছেন—সবাই দলকে সাহায্য করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং পরিস্থিতির গুরুত্বও বুঝছে। তবুও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটছে না। কারণ আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে—চোটের তালিকা আরও বড় হয়ে যেতে পারে, আর দলে নতুন করে কেউ ছিটকে পড়লে পরিস্থিতি আরও নড়বড়ে হয়ে উঠতে পারে।