১৩৪ রানের চ্যালেঞ্জ দিয়ে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে কী দুর্বিষহ পরিস্থিতিতেই না পাকিস্তানকে ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ বোলাররা। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে'র ৩৬ বলে স্কোরশিটে ১৭ উঠতে ৫ উইকেট ফেলে দেয়ায় মিরপুরে সর্বনিম্ন স্কোরের রেকর্ডস বুকও ঘাটতে হয়েছে। বড় জয়ের আবহ দেয়া সেই ম্যাচটিই বাজে ফিল্ডিং-ক্যাচ ড্রপে শেষ পাওয়ার প্লে-তে জমিয়ে তুলেছে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বাংলাদেশ বোলারদের জয় হয়েছে। ১০ বছর আগে ১ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয়টিই ছিল এতোদিন পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ফরম্যাটের দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে একমাত্র জয়। মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শরিফুল (৩/১৭)-তানজিম হাসান সাকিব (২/২৩)-শেখ মেহেদীর (২/১৫) বোলিংয়ে ৮ রানে জিতে ১০ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের উৎসব করেছে বাংলাদেশ।
মিরপুরে ১০ বছর আগে ৩ ম্যাচের ওডিআই সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করার ছবিটা এবার ভেসে উঠছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। এক ম্যাচ হাতে রেখে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় নিশ্চিত করে এখন প্রতিপক্ষকে হোয়াইট ওয়াশে চোখ এখন লিটনদের।
সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে মিরপুরের উইকেট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পাকিস্তান কোচ মাইক হেসন। এই ম্যাচে ও কী সে প্রশ্ন তুলবেন তিনি ? চার-ছক্কার ফরম্যাটের ক্রিকেটে বোলারদের দাপটে সে প্রশ্নও কেউ কেউ করবেন। উভয় দলের ইনিংসের শুরুর চিত্রটা ভয়াবহ।
আরও পড়ুন
রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজও জিতে নিল বাংলাদেশ |
![]() |
টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল হতাশার। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে যে দুর্যোগে পড়েছে পাকিস্তান, ৪৮ ঘন্টা পর সেই একই চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে! ১২০ টি বৈধ ডেলিভারির মধ্যে ৬১টি ডট করেছে বাংলাদেশ ব্যাটাররা। যে ইনিংসে ৬টি চারের পাশে ছক্কার সংখ্যা ৯টি। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৪১ রানে পাকিস্তান হারিয়েছে ৪ উইকেট। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেখানে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে'র ৩৬ বলে স্কোরশিটে ২৯ উঠতে হারিয়েছে বাংলাদেশ সমসংখ্যক উইকেট! শেষ পাওয়ার প্লে-তে ৪৭ রানে হারিয়েছে ৫ উইকেট। জাকের আলী অনিক (৪৮ বলে ৫৫) এবং শেখ মেহেদী (২৫ বলে ৩৩) ছাড়া অন্য কোনো ব্যাটার প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পারেননি। সালমান মীর্জা (২/১৭), আব্বাস আফ্রিদি (২/২৩), আহমেদ দানিয়েলের (২/২৩) বোলিংয়ে বাংলাদেশ থেমেছে ১৩৩/১০-এ।
নতুন বলে সালমান মীর্জার প্রথম স্পেলে (৩-১-৯-১) ধুঁকেছে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা। ফাহিম আশরাফকেও সমীহ করেছে বাংলাদেশের উপরের সারির ব্যাটাররা।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ফাহিম আশরাফের শর্ট বল উইকেট কিপারের মাথার উপর দিয়ে খেলতে যেয়ে দিয়েছেন উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ (৭ বলে ৩)। দ্বিতীয় উইকেট জুটি ২০-এর বেশি টেনে নিতে পারেনি লিটনের ক্যাচ প্র্যাকটিস করে আসায়। সালমান মীর্জার বলে ডিপ মিড উইকেটের ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক (৯ বলে ৮)। ৪ বল পর হৃদয় রান আউটে কাটা পড়ে (৩ বলে ৯) দলকে ফেলে দিয়েছেন বিপদে। ফাহিম আশরাফকে ছক্কা মেরে বাহাদুরি দেখানো পারভেজ হোসেন ইমন মিড অফে সফট ডিসমিসাল হয়েছেন (১৪ বলে ১৩)।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-র দুঃসহ চিত্র কাটিয়ে উঠতে চেষ্ঠা করেছেন জাকের আলী অনিক-শেখ মেহেদী। ৫ম উইকেট জুটিতে ৪৯ বলে ৫৩ রান যোগ করেছেন তারা। খুশদিল শাহ এবং নেওয়াজকে ছক্কার শটে নিজেকে চেনানো শেখ মেহেদী নিজেকে নিবৃত্ত রাখতে পারেননি। নেওয়াজের বলে লং অফে দিয়েছেন ক্যাচ (২৫ বলে ২ চার, ২ ছক্কায় ৩৩)।
শামীম পাটোয়ারীর ব্যাট এদিন গর্জে ওঠেনি। অভিষিক্ত পাকিস্তান পেসার আহমেদ দানিয়েলকে লেট কাট করতে যেয়ে বোল্ড হয়েছেন (৪ বলে ১)। টেল এন্ডার তানজিম হাসান সাকিব সালমান মীর্জাকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে এক্সট্রা কভারে দিয়েছেন ক্যাচ (৪ বলে ৭)। আব্বাস আফ্রিদিকে লং অফে ছক্কা মেরে রিশাদও নিজেকে নিবৃত্ত রাখতে পারেননি। পরের বলে ইয়র্কারে হয়েছেন বোল্ড (৪ বলে ৮)।
দলকে একাই টেনে নিয়ে গেছেন জাকের আলী অনিক। ৩২ রানের মাথায় সালমান মীর্জার বলে খুশদিল শাহ'র হাত থেকে বেঁচে যাওয়া জাকের আলী অনিক এদিন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি উদযাপন করেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছিলেন প্রথম ফিফটি (৪৩ বলে ৭২*)। মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে চারের চেয়ে ছক্কার আধিক্যের ইনিংসে (১ চার ৫ ছক্কা) ছক্কার চুমোয় ফিফটি পূর্ণ করেছেন জাকের আলী অনিক। ইনিংসের শেষ ওভারে আব্বাস আফ্রিদিকে মেরেছেন ২টি ছক্কা। সেই ওভারেই লং অনে থেমেছেন জাকের আলী (৪৮ বলে ১ চার ৫ ছক্কায় ৫৫)।
১৩৪ রানের চ্যালেঞ্জ দিয়ে পাকিস্তানকে শুরুতে ব্যাকফুটে নামিয়ে এনেছেন বাংলাদেশের দুই পেসার শরিফুল-তানজিম হাসান সাকিব। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে বাঁ হাতি পেসার শরিফুলের ৩ ওভারের স্পেলের (৩-০-৮-২) পাশে তানজিম হাসান সাকিবের ভয়ংকর ১ ওভার (১-০-১-২)! তাতেই স্কোরশিটে ১৭ উঠতে ৫ উইকেট হারিয়ে এলোমেলো হয়েছে পাকিস্তান।
আরও পড়ুন
মিরপুরের উইকেট ‘অগ্রহণযোগ্য’, যেখানে ‘ভুল’ পাকিস্তান কোচ হেসন |
![]() |
শুরুটা রান আউট দিয়ে। ইনিংসের ৬ ষ্ঠ বলে শেখ মেহেদীকে পয়েন্টে খেলে সাইম আইয়ুব হাফ পিচ থেকে স্ট্রাইক এন্ডে ফিরতে পারেননি। পারভেজ ইমনের থ্রো রিশাদ হয়ে লিটন রান আউটে ফিরিয়ে দিয়েছেন সাইম আইয়ুবকে (৪ বলে ১)। শরিফুল নিজের তৃতীয় বলে হারিস মোহাম্মদকে এলবিডাব্লুউতে ফিরিয়ে গোল্ডেন ডাক (১ বলে ০) এর লজ্জা দিয়েছেন।
শরিফুলের দ্বিতীয় ওভারে লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে পিচিং ডেলিভারি ফখর জামান পুল করতে যেয়ে ব্যাটে বলের আলতো স্পর্শ লেগেছে,তা আম্পায়ার তানভিরের চোখ এড়িয়ে গেলে লিটন যখন রিভিউ আপীল করেছেন, তখন রিভিউ চেক করার আগেই ফখর জামান ড্রেসিং রুমের দিকে হাঁটা শুরু করেছেন (৮ বলে ৮)।
শরিফুল ইন অ্যাকশন। ছবি-বিসিবি
বোলিং চেঞ্জে তানজিম হাসান সাকিবের হাতে বল দিয়েই ম্যাচটি হাতের মুঠোয় এনেছেন লিটন। তার তৃতীয় ডেলিভারিতে হাসান নেওয়াজ (৬ বলে ০), চতুর্থ বলে মোহাম্মদ নেওয়াজ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ। প্রথম স্পেলে (১-০-৪-০) উইকেটহীন শেখ মেহেদী দ্বিতীয় স্পেলে দেখেছেন উইকেটের মুখ। সালমান আগা (২৩ বলে ৯) সহজ ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন।
লেগ স্পিনার রিশাদকে রিভার্স সুইপ করতে যেয়ে খুশদিল শাহ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দিয়েছিলেন ক্যাচ। পারভেজ ইমন সহজ সেই ক্যাচটি ড্রপ করেছেন। ১২ রানের মাথায় বেঁচে যাওয়া সেই খুশদিল শাহকে থামিয়েছেন শেখ মেহেদী ক্রস খেলতে যেয়ে এলবিডাব্লু হয়েছেন খুশদিল (১৮ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১৩)।
আরও পড়ুন
পেস ত্রয়ীর গর্জনের পর ইমন ঝড়, পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ে শুরু সিরিজ |
![]() |
৮ম উইকেট জুটিতে ফাহিম আশরাফ-আব্বাস আফ্রিদি ম্যাচে ফেরার আভাস দিয়েছিলেন। ওই পার্টনারশিপকে ৪১ রানে থামিয়েছেন শরিফুল দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম বলে। তার লো বাউন্সি বলে আব্বাস আফ্রিদি হয়েছেন বোল্ড (১৩ বলে ২ চার, ১ ছক্কায় ১৯)।
১৫তম ওভারে রিশাদের অমিতব্যয়ী বোলিংয়ে ২০ রান এবং ১৯ তম ওভারে ১৫ খরচা শঙ্কার আলামত দিয়েছে। তবে ভয়ংকর হয়ে ওঠা ফাহিম আশরাফ ১৯তম ওভারের শেষ বলে লো বাউন্সি ডেলিভারিতে বোল্ড হলে (৩২ বলে ২ চার, ৪ ছক্কায় ৫১) ৮ রানে জিতে ১০ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ট্রফি পুনরুদ্ধার করেছে বাংলাদেশ।
৪ দিন আগে
৪ দিন আগে
৫ দিন আগে
৭ দিন আগে
৯ দিন আগে
৯ দিন আগে
১১ দিন আগে
১১ দিন আগে
১৩ দিন আগে
১৩ দিন আগে
১৩ দিন আগে
১৪ দিন আগে
১৪ দিন আগে
১৫ দিন আগে
১৬ দিন আগে
ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৩৯ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। তাদের দেওয়া ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৪৩ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানরা।
জয়ের পর সাংবাদিকের করা প্রশ্নে কিছুটা মেজাজ হারালেন হারিফ রউফ। সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচে বাজে ফিল্ডিং প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে ক্ষেপে যান পাকিস্তানি পেসার। হারিসের জবাব, ‘আমার মনে হয় আপনি ম্যাচটা ঠিকমতো দেখেননি। ফিল্ডিংয়ে আমাদের তেমন কোনো ভুল হয়নি। ম্যাচটা আবার দেখলে বুঝবেন ফিল্ডিং ভালোই ছিল।'
আরও পড়ুন
তামিম-জাওয়াদদের নিয়ে ইংল্যান্ড সফরে শক্তিশালী দল |
![]() |
ত্রিদেশীয় সিরিজকে এশিয়া কাপের প্রস্তুতি বলায় ঘোর আপত্তি হারিসের, ‘আপনি বলছেন এটি প্রস্তুতির ম্যাচ ছিল, তবে আমি মনে করি, কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ প্রস্তুতি ম্যাচ হতে পারে না। চাপ থাকে প্রতিটি ম্যাচেই, আপনি এটাকে হালকাভাবে নিতে পারবেন না। দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করাটাই আসল ব্যাপার।’
ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগে আফগানিস্তানকে এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল বলে আলোচনা হচ্ছিল। হারিসের কাছে জানতে চাওয়া হয় এই ম্যাচে পাকিস্তান আন্ডারডগ ছিল কি না? এই গতি তারকা বললেন, 'আমাদের চেয়ে কেউ ফেভারিট এটা আমি কখনোই ভাবিনি। আমরাই সবচেয়ে ফেভারিট।’
নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ আরব আমিরাতের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান।
২০২৬ যুব বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। সাউথ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সফর শেষে এবার ইংল্যান্ডে যাচ্ছে তারা। সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড সফরে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবেন জাওয়াদ-তামিমরা।
আজিজুল হাকিম তামিমকে অধিনায়ক করে ইংল্যান্ড সফরের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে আরও পাঁচ ক্রিকেটার।
আগামী পরশু লন্ডনের উদ্দেশ্যে উড়ান ধরবে যুবারা। ৩ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।
আরও পড়ুন
মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে তীরে এসে তরি ডুবল জিম্বাবুয়ের |
![]() |
৫ সেপ্টেম্বর শুরু হবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ইংল্যান্ড সফরের ওয়ানডে সিরিজ। লাফবোরোর হাসলেগ্রেভ গ্রাউন্ডে হবে প্রথম ম্যাচ। একই ভেন্যুতে ৭ সেপ্টেম্বর হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে। ১০ সেপ্টেম্বর ব্রিস্টলের সিট ইউনিক মাঠে গড়াবে তৃতীয় ম্যাচ।
সিরিজের শেষ দুই ওয়ানডে হবে বেকেনহামে। ১২ সেপ্টেম্বর চতুর্থ ম্যাচ ও ১৪ সেপ্টেম্বর পঞ্চম ম্যাচ খেলবে দুই দল কেন্ট কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল:
আজিজুল হাকিম তামিম (অধিনায়ক), জাওয়াদ আবরার, সামিউন বসির, দেবাশীষ সরকার, রিজান হোসেন, আল ফাহাদ, স্বাধীন ইসলাম, মো. আব্দুল্লাহ, ফরিদ হাসান ফয়সাল, কালাম সিদ্দিকী, সানজিদ মজুমদার, রিফাত বেগ, শাহরিয়ার আল আমিন, সাদ ইসলাম রাজিন ও ফারহান শাহরিয়ার।
স্ট্যান্ডবাই
আহমেদ শাহরিয়ার, ফারজান আহমেদ আলিফ, শাহরিয়ার আজমির, রাফিউজ্জামান রাফি ও মো. সবুজ।
২৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪৩ পিএম
ওভারপ্রতি ৬-এর ওপরে রান দিচ্ছিলেন। তবু শেষ ওভারে অধিনায়ক চরিত আসালাঙ্কা আস্থা রাখলেন তাঁর ওপরে। দিলশান মাদুশাঙ্কাও যেন নিজের সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলেন রঙিন শেষের জন্য। শেষ ৬ বলে জিম্বাবুয়ে প্রয়োজন ১০ রান। মাদুশঙ্কা হ্যাটট্রিকের বিপরীতে দিলেন মাত্র ২ রান।
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে তরী এসে তরি ডুবল জিম্বাবুয়ের। ৭ রানে হেরে দুই ম্যাচের ওয়ানডের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল তারা
জিম্বাবুয়ের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখা সিকান্দার রাজাকে প্রথম বলে বোল্ড করে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেন মাদুশঙ্কা। পরের দুই বলে ব্র্যাড ইভানস ও রিচার্ড এনগারাভাকে ফেরান গোল্ডেন ডাকে। ২৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৮ উইকেটে ২৯১ রান করতে সক্ষম হয় জিম্বাবুয়ে।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বেন কারান ৭০, শন উইলিয়ামস ৫৭, রাজা ৮৭ বলে ৯২ এবং টনি মুনিওঙ্গা ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ৬২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন মাদুশঙ্কা।
আরও পড়ুন
তামিম-জাওয়াদদের নিয়ে ইংল্যান্ড সফরে শক্তিশালী দল |
![]() |
হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টস জিতে লঙ্কানদের আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় স্বাগতিকেরা। পাতুম নিসাঙ্কা, জেনিত লিয়ানাগে ও কামিন্দু মেন্ডিসের ঝোড়ো ফিফটিতে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৯৮ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা।
শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি লঙ্কানদের ৯ রানের হারায় ওপেনার নিশান মাদুশকার উইকেট। প্রথম ৫ ওভার পর্যন্ত এক অঙ্কের ঘরে ছিল তারা। ১৩ বলে ০ রানে ফেরেন মাদুশকা। দ্বিতীয় উইকটে কুশল মেন্ডিস ও নিসাঙ্কার ১০০ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা।
কুশল ৩৮ ও নিসাঙ্কা করেন ৯২ বলে ৭৬ রান। সাদিরা সামারবিক্রমাও (৩৫) থিতু হয়ে ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। ৬ রানে আউট হন চরিত আসালাঙ্কা। ষষ্ঠ উইকটে লিয়ানাগে ও কামিন্দু ৮৩ বলে গড়েন ১৮৭ রানের অসাধারণ এক জুটি। তাতে স্কোরটা প্রায় তিন শ ছুঁই ছুঁই হয়।
লিয়ানাগে ৩ ছক্কা ও ৬টি চারে ৪৭ বলে করেন ৭০ রান। ২ ছক্কা ও ৪টি চারে ৩৬ বলে ৫৭ রান করেছেন কামিন্দু। ৩৪ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন এনগারাভা।
২৯ আগস্ট ২০২৫, ৮:২০ পিএম
নিজেদের চেয়ে দুর্বল দলের বিপক্ষে অনেকবারই হেরেছে বাংলাদেশ দল। এ সব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও শুনতে হয়েছে বিভিন্ন সময়। সিলেটে কাল থেকে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের। কোচ ফিল সিমন্স তাই সমালোচনার অগ্রীম আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলেন, ভালো না খেললে সমালোচনাই প্রাপ্য।
কিছুটা ভয়ও অবশ্য থাকার কথা, সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ডাচদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো বড় দুই দলকে সিরিজ হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী লিটনরা।
শ্রীলঙ্কা সফরে যে মানদণ্ডে দল খেলেছিল, সেটিই টেমপ্লেট হিসেবে সামনে রাখতে চান সিমন্স। সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আজ বাংলাদেশ কোচ বলেন,
‘শ্রীলঙ্কায় যে মান আমরা মেলে ধরেছি, সেটিই ধারে রাখতে চাইব আমি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের কিছুটাও বয়ে নিতে চাইব, যদিও ওই সিরিজে মিরপুরের উইকেট শ্রীলঙ্কার মতো অতটা ভালো ছিল না। শ্রীলঙ্কায় আমাদের ওই স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে চাই।’
আরও পড়ুন
ইংল্যান্ড দলে আছে বার্সা, নেই রিয়াল |
![]() |
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মান ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ডাচদের বিপক্ষে সিরিজে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ ফেভারিট। তবু প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে নারাজ সিমন্স।
সিমন্স স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন- ভালো না খেলতে পারলে সমালোচনার ঝড় আসাটা স্বাভাবিক, আর সেটা মেনে নিতেই হবে,
‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলেও সমালোচনা হয়, তাই নেদারল্যান্ডসের কাছে হারলে সমালোচনা হওয়া খুব খারাপ কিছু নয়। কারণ, যে দিন আমরা ভালো খেলতে পারব না, সেদিন সমালোচনা প্রাপ্যই। কিন্তু যদি আমরা আমাদের মান ধরে রাখতে পারি, আমি নিশ্চিত—জিতবই।’
আরও পড়ুন
সাঙ্ঘার সেঞ্চুরির পর দিপুর লড়াই |
![]() |
বাংলাদেশ এখানে অবশ্যই ফেবারিট। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের রেকর্ডও দারুণ। গত দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মতো দলকে হারিয়েছে। নিয়মিতভাবেই বিশ্বকাপে তারা চমক দেখাচ্ছে। সিমন্সও সে ব্যাপারে সতর্ক,
‘তারা আন্তর্জাতিক মানের দল। টানা দুই বিশ্বকাপে খেলেছে, ভালো ফল করেছে। এখন আর কাউকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।’
বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজ শুধু জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, এশিয়া কাপেরও প্রস্তুতি। তবে সিমন্স আপাতত সেখানেই মন দিতে চাইছেন না,
‘চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় পৌঁছতে হলে তো আগে প্রাথমিক পর্ব উতরাতে হয়। কাজেই এশিয়া কাপ নিয়ে আমি ভাবছি না। এশিয়া কাপ আসবে এটির পরে। এটি আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ। আমাদের মনোযোগও এই সিরিজে।’
২৬৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। ডারউইনে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ১০৬ রান করেছে সফরকারীরা। এখনো পিছিয়ে ১৬০ রানে। উঁকি দিচ্ছে ইনিংস হার।
৭৫ রানে ৩ উইকটে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ হন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। প্রথম ওভারে ফেরেন ৪ রানে। তৃতীয় ওভারে দলীয় ৬ রানে ফেরেন তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা অমিত হাসান (০)।
থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি ওপনোর ইফতেখার হোসেন ইফতি। ৬৯ বলে ৩৫ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে। চতুর্থ উইকেটে শাহাদাত হোসেন দিপুর সঙ্গে ৬৯ রানের একটি জুটি গড়েন ইফতি।
আরও পড়ুন
জিম্বাবুয়ের সামনে ৩০০ ছুঁই ছুঁই লক্ষ্য |
![]() |
৭৫ রানে ৩ উইকটে হারায় বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে ইয়াসির আলী রাব্বি (১৮) ও দিপু লড়াইয়ের চেষ্টা করছেন। ৩১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন দুজনে। ৮৭ বলে ৪২ রানে অপরাজিত আছেন দিপু।
তার আগে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থামে ৩৮০ রানে। আগের দিন ৮৩ রানে অপরাজিত থাকা জ্যাসন সাঙ্ঘা আজ তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। ৩১ রানে অপরাজিত থাকা হ্যারি নিলসেন করেছেন ফিফটি।
২৩৫ বলে ১৪৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন সাঙ্ঘা। সেঞ্চুরি আশা জাগিয়েও ১৪৬ বলে ৮৬ রানে ফেরেন নিলসন। শেষ দিকে ৪৬ রান করেন হেনরি থরটন। তিনটি করে উইকটে নেন হাসান মুরাদ ও এনামুল হক। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করে ১১৪ রান।