
আগের ম্যাচে লো-স্কোরিং হলেও ব্যাট হাতে বাংলাদেশ ছিল প্রাণবন্ত। তবে এদিন সেটা হলো না। শুরু থেকেই কেউ পারলেন না বড় ইনিংস খেলতে। ফলে চাপ বাড়ল মিডল অর্ডারের ওপর। অন্যরা না পারলেও সেটা একাই সামাল দিলেন জাকের আলি অনিক। লড়িয়ে ফিফটিতে দলকে এনে দিলেন ফাইট করার মত এক স্কোর। এরপর বোলাররা দিলেন স্বপ্নের শুরু। তবে পাকিস্তানের হয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ফেলেন ফাহিম আশরাফ। জমল রোমাঞ্চ। শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর হাসি হাসল বাংলাদেশ। নিশ্চিত হল ইতিহাস গড়া সিরিজ জয়।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছে ৮ রানের নাটকীয় জয়। জাকের আলির বীরত্বে ১৩৩ রান করার পর প্রতিপক্ষকে ১৯.২ ওভারে ১২৫ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ হাতে রেখেই তাতে নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের সিরিজ জয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ফরম্যাটে এটা বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়।
গত সোমবার মাইলস্টোনের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার শোক স্মরণে মঙ্গলবার একদিনের শোক পালন করেছে বাংলাদেশ। সেই আবহেই মিরপুরে শুরু হয় ম্যাচ। খেলা শুরুর আগে মাঠে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
আরও পড়ুন
| রাসেলের বিদায়ের রাগিণী আরও শোকাতুর দলের পরাজয়ে |
|
টস হেরে আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ একাদশে বাংলাদেশ আনে দুটি পরিবর্তন। বাদ পড়েন বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পেসার তাসকিন আহমেদ। তাদের জায়গায় দলে আসেন ব্যাটার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।
শ্রীলঙ্কা সফরে একটি টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি নাঈম। এবারও ব্যর্থ হন তিনি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ৩ রান করে ক্যাচ তুলে দেন উইকেটের পেছনে। স্কুপ শটে ফাহিম আশরাফের বল উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু টাইমিং না হওয়ায় ধরা পড়েন মোহাম্মদ হারিসের গ্লাভসে।
খুব একটা সময় টিকলেন না লিটনও। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে এক ডিজিটে আউট হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ছক্কার চেষ্টায় সালমান মির্জার বলে ক্যাচ তুলে দেন ডিপ মিড উইকেটে। অহেতুক রান চুরি করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন তাওহীদ হৃদয়। সালমান মির্জার অফ স্টাম্পের বাইরের বল মিড অফে ঠেলেই রানের জন্য দৌড় দেন এই ডানহাতি ব্যাটার, তবে সালমান আগার সরাসরি থ্রোয়ে ডাইভ দিয়েও বাঁচাতে পারেননি উইকেট।
আগের ম্যাচে দারুণ এক ফিফটি করা পারভেজ হোসেন ইমন শুরুটা করেছিলেন ভালো। তবে ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। মিড অনের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে টাইমিং মিস করে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে এক চার ও এক ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ রান।
৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে মাত্র ২৯। সেখান থেকে বাংলাদেশের ফেরার লড়াইয়ে রানে গতি দেন শেখ মাহেদি হাসান। খুশদিল শাহ ও মোহাম্মদ নাওয়াজের বলে পরপর চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে কিছুটা চাপ সরান এই স্পিনিং অলরাউন্ডার। জাকের আলিকে নিয়ে গড়েন ৪৯ বলে ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙে মাহেদির বিদায়ে। ২৫ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় এই ফরম্যাটে নিজের সর্বোচ্চ ৩৩ রানের ইনিংস খেলে শিকার হন মোহাম্মদ নাওয়াজের। ফিনিশিং দিতে ব্যর্থ হন শামীম হোসেন। আহমেদ দানিয়েলের বলে বোল্ড হয়ে যান মাত্র ১ রানেই।
আরও পড়ুন
| রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজও জিতে নিল বাংলাদেশ |
|
৯৩ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংসকে এরপর একাই টেনে নেন জাকের আলি। বলের মেরিট বুঝে আক্রমণ শানান বোলারদের ওপর। তাতে একটু একটু করে এগিয়ে যান ফিফটির পথে। ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় ধরা পড়ার আগে দলকে এনে দেন সম্মানজনক একটা স্কোর। ৪৮ বলে পাঁচটি ছক্কা ও একটি চারে সাজান ৫৫ রানের ইনিংস। এই ফরম্যাটে এটা জাকের আলির তৃতীয় ফিফটি।
মিরপুরেই সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১০ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর সহজেই সেটা তাড়া করেছিল বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচে সফরকারীদের জন্য শুরুতেই কাজটা দুর্গম করে তোলেন বাংলাদেশের বোলাররা মিলে।
একদম শুরু থেকেই দুই প্রান্ত থেকে চেপে ধরেন তারা। প্রথম ওভারেই সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় ব্রেকথ্রু পায় বাংলাদেশ। কাট করে পয়েন্টে খেলে রানের জন্য দৌড় দেন সাইম আইয়ুব, তবে সেটা পূর্ণ হওয়ার আগেই রান আউট হতে হয় তাকে। একাদশে ফেরা শরিফুল আঘাত হানেন নিজের প্রথম ওভারেই। অফ স্টাম্পের ভেতরে প্রবেশ করানো দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন মোহাম্মদ হারিস। রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি তিনি, আম্পায়ার্স কল-এ সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।
মিরপুরের পিচে যেন আগুন ছড়িয়ে দিলেন শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিব। মাত্র ৫ ওভারের মধ্যে ১৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধস নামল পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনআপে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটিই পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানে অর্ধেক উইকেট হারানোর রেকর্ড।
এরপর ফের শরিফুলের আঘাত। লেগ স্টাম্পের বাইরের বল পুল করতে গিয়ে কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় ফখর জামানের ইনিংস। আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন লিটন। সেখানে বদলে যায় সিদ্ধান্ত।
বড় ধাক্কাটা আসে পঞ্চম ওভারে। আক্রমণে এসেই দুই উইকেট নেন তানজিম হাসান সাকিব। প্রথমে অফ স্টাম্পের বাইরে খোঁচা দিয়ে কট বিহাইন্ড হন হাসান নাওয়াজ। পরের বলেই প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন মোহাম্মদ নাওয়াজ। মাত্র ১৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধস নামে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারে।
টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানে (১৫) ৫ উইকেট হারানোর রেকর্ড এখন এটিই। আগের রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ২০২৩ সালে (১৬ রানে ৫ উইকেট)।
বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো দলের সবচেয়ে কম রানে ৫ উইকেট হারানোর ঘটনাও এটি। আগের রেকর্ডটি ছিল পাপুয় নিউগিনির (২৪ রান, ২০২১ বিশ্বকাপ ২০২১)।
রান রেটের চাপ সামাল দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আউট হতে হয় পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগাকে, যিনি রীতিমত রান বের করতেই সংগ্রাম করছিলেন। মাহেদির বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় লং অনে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। মাত্র ৯ রান করতে খেলেন ২৩ বল। পাকিস্তানের ইতিহাসে টি-টোয়েন্টিতে কমপক্ষে ২০ বল খেলা ব্যাটারদের মধ্যে এটাই সবচেয়ে ধীরগতির ইনিংস।
অন্য প্রান্তে রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে ক্যাচ দিয়েও জীবন পান খুশদিল শাহ। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ডিপ পয়েন্টে, তবে পারভেজ হোসেন পারেননি সহজ সেই ক্যাচ নিতে। খুশদিলের রান তখন ১২।
আরও পড়ুন
| নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিসিবির আয় ১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা |
|
এর কিছুক্ষণ বাদেই অবশ্য আঘাত হানে বাংলাদেশ। মাহেদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান খুশদিল শাহ। ১৮ বলে ১৩ রান করেই ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটার। প্রবল চাপে পড়ে যাওয়া পাকিস্তানের ১২ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে মাত্র ৪৭ রান!
এরপর বাংলাদেশকে চাপে ফেলে প্রতিরোধ গড়েন আব্বাস আফ্রিদি ও ফাহিম। ২৭ বলে দুজনে যোগ করেন ৪১ রান। অবশেষে নিজের শেষ ওভারে এসেই প্রথম বলে জুটির ইতি টানেন শরিফুল। স্লগ খেলতে গিয়ে বোল্ড হতে হয় তাকে, তার আগে ১৩ বলে ১৯ রান।
তবে একপ্রান্তে আগলে দলকে ম্যাচে ধরে রাখেন ফাহিম। সুযোগ বুজে মারেন বড় শট, তাতে ক্রমেই কমে আসে বল ও রানের ব্যবধান। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন হয় ২৮ রানের। রিশাদের করা ১৯তম ওভারে প্রথম পাঁচ বলেই ফাহিম তুলে নেন ১৫ রান। তবে শেষ হাসি হাসেন এই লেগ স্পিনারই। ছক্কার চেষ্টায় নিচু হয়ে যাওয়া বল খেলতে গিয়ে ক্লিন বোল্ড হয়ে গেলেন ফাহিম। তবে তার আগে খেলেন ৩২ বলে ৫১ রানের এক লড়াকু ইনিংস।
২০তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই আহমেদ দানিয়ালকে ফিরিয়ে সব রোমাঞ্চের ইতি টেনে বাংলাদেশকে জেতান মুস্তাফিজুর। ১৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার শরিফুল।
No posts available.
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:০৩ পিএম

১১ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল, এই ৩২ দিন কী দারুণই না কেটেছে নাহিদ রানার। চাঁপাই-নবাবগঞ্জের এই ছেলেটি কচি আমের সুঘ্রানে পেয়েছেন একটু বেশিই রিদম। শুরুটা শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে আতঙ্ক ছড়ানো বোলিংয়ের মধ্য দিয়ে। শাহিবজাদা ফারহান, শামিল হোসেইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আগাকে হতভম্ব করে ফিরিয়ে দেয়া বোলিং (৭-০-২৪-৫) মনে রাখবে সবাই। পেস বোলিং কোচ শন টেইট শিখিয়ে দিয়েছিলেন-'গতিটাই তোমার সম্পদ, ওটা দিয়েই ঘায়েল করো।' কোচের ওই কথাটিই একটু বেশি পুলকিত করেছে ২৩ বছর বয়সী ছেলেটিকে।
সীমিত ওভারের ম্যাচে বোলারদের প্রতি যেখানে নির্দেশনা একটাই, উইকেট টু উইকেট বোলিং, উইকেটের চেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংটা মূখ্য। সেখানে এই দর্শনটা নাহিদ রানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বলে-কয়ে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন, শর্ট বল আর বাউন্সারে বাঘা-বাঘা ব্যাটারদের কাঁপুনি ধরিয়ে দিতে পারেন, গত এক মাসে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাহিদ রানা অনবরত। মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওডিআই সিরিজে ৮ উইকেটের কৃতিত্বের ২০ দিন আগে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিক্রি হয়েছিলেন বেজ প্রাইস ৬০ লাখ রুপিতে ( বাংলাদেশী মুদ্রায় ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা)। এতো কম দরে পেশোয়ার জালমিতে বিক্রি হয়ে সেই ফ্রাঞ্চাইজিকে ৬ রাউন্ড শেষে পয়েন্ট টেবিলে এককভাবে শীর্ষে উঠিয়েছেন নাহিদ রানা।
গত ৮ এপ্রিল করাচিতে প্রথম ম্যাচে নিজেকে সেভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি। উইকেটহীন ৩০ রান খরচায় তাই ছিলেন অতৃপ্ত। ২৪ ঘন্টা পর নিজেকে বিশ্বমানের বোলার হিসেবে উপস্থাপন করেছেন নাহিদ রানা। দুটি ম্যাজিক্যাল স্পেলে (২-০-৬-১, ২-১-১-২) করাচি কিংসের বিপক্ষে তার বোলিং ৪-১-৭-৩ এখন পর্যন্ত পিএসএলের চলমান আসরে সেরা মিত্যব্যয়ী। ওভারপ্রতি খরচা ১.৭৫, তার চেয়ে বড় কথা ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ২০টি-ই ডট! ৩টি উইকেটের দুটি বাউন্সারে, একটি ইয়র্কারে!
দুদিন পর একই ভেন্যুতে লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষেও ম্যাচ উইনার (৩-০-১৫-২)। ১৮টি ডেলিভারির মধ্যে ১২টি ডট। বিসিবিকে অনুরোধ করে একদিন বেশি নাহিদ রানার সার্ভিস নিতে পেরেছে পেশোয়ার জালমি। দেশে ফেরার লাগেজ গোছগাছ করে করাচি স্টেডিয়ামে এসেও হোম সিকনেসের ছিটেফোটা দেখা যায়নি তার চোখে-মুখের অভিব্যাক্তিতে। বোনাস সুযোগ পাওয়া ১৩ এপ্রিল রাতে মুলতান সুলতানসের বিপক্ষেও যথারীতি একই চেহারায় হাজির (৪-০-২৪-২)। প্রথম স্পেলে (২-০-১৬-০) ছিলেন অসন্তুষ্ট। শেষ ২৪ বলে ৪৬ রানের টার্গেট যখন অসম্ভব মনে করেনি মুলতান সুলতানস, তখন তাদেরকে পিলে চমকে দিয়েছেন নাহিদ রানা। ১৭তম ওভারে বাউন্সারে আরাফাত মিনহাসকে মিড অফে ক্যাচ দিতে বাধ্য করা ওভারে খরচ করেছেন ৬ রান। ১৯তম ওভারে মোহাম্মদ ইয়াসিরকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে প্রলুব্ধ করা ওভারে খরচ মাত্র ২ রান!
পিএসএল মিশনে ৪ ম্যাচে ৭ উইকেট। করাচি কিংসের বিপক্ষে ১৫৯ রানের জয়ই বলুন কিংবা লাহোর কালান্দাসের বিপক্ষে ৭৬ রানের জয়, মুলতান সুলতানসকে পেশোয়ার জালমির ২৪ রানে হারিয়ে দেয়া-তিনটি বড় জয়ের নায়ক নাহিদ রানা। ৪ ম্যাচে উইকেট পিছু খরচা ১০.৮৫। ৮৪ টি ডেলিভারির মধ্যে ৫২টি ডট! ওভারপ্রতি ইকোনমি মাত্র ৫.৪২।
৬ রাউন্ড শেষে পাকিস্তান সুপার লিগে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের সুনাম নিয়েই ফিরেছেন নাহিদ রানা ঢাকায়।
৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে লাহোর কালান্দার্সে বিক্রি হয়ে হৈ চৈ ফেলে দেয়া বাঁ হাতি কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের দিকে ছিল সবার চোখ। ওভারপ্রতি ৭.১৭ রান খরচ করে ৫ ম্যাচে ৬ উইকেট পেয়ে কাটার মাস্টার করেছেন প্রত্যাশিত বোলিং। পেসার শরিফুল ( ৫ ম্যাচে ২ উইকেট), লেগ স্পিনার রিশাদ (৪ ম্যাচে ২ উইকেট) করেছেন গড়পড়তা বোলিং। তবে বাংলাদেশের এই তিন বোলারকে ছাড়িয়ে পিএসএলে বাজিমাত করেছেন নাহিদ রানা। করাচিতেই বইয়ে দিয়েছেন তিনি কালবৈশাখী ঝড়। বাংলা নববর্ষে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের দারুন বার্তা দিয়েছেন ছিপছিপে গড়নের দীর্ঘদেহী এই পেসার।

২০২২ সালে থাইল্যান্ডের কোহ সামুইতে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান কিংবদন্তি ক্রিকেটার শেন ওয়ার্ন। তবে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগস্পিনারের মৃত্যুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। ওয়ার্নের ছেলে জ্যাকসন ওয়ার্ন এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তার মতে, ওয়ার্নের অকাল মৃত্যুর পেছনে সম্ভবত সেই ‘তিন বা চারটি’ কোভিড ভ্যাকসিনের হাত ছিল, যা তাকে ‘কাজের প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে নিতে হয়েছিল।’
শেন ওয়ার্ন যখন মারা যান, তখন কোভিড-১৯ মহামারির প্রাদুর্ভাব কিছুটা হলেও ছিল। কোয়ারেন্টিন অবস্থা থেকে বেরোলেও অনেকেই প্রতিষেধক হিসেবে টিকা নিয়েছিলেন। যেটার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে শিশু ও বৃদ্ধদের। ৫২ বছর বয়সী ওয়ার্নও নিয়েছিলেন টিকা। তাঁর ছেলে জ্যাকসনের দাবি জোর করে টিকা দেওয়াতেই মূলত অজি কিংবদন্তির মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছিল।
কদিন আগে ‘টু ওয়ার্ল্ডস কোলাইড’ নামক এক পডকাস্টে এসেছিলেন জ্যাকসন। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে ওয়ার্নের মৃত্যুতে করোনা টিকার কোনো প্রভাব ছিল কি না। উত্তরে জ্যাকসন বলেন,
‘আমি নিশ্চিত এখানে টিকা জড়িত ছিল।বাবার যদি আগে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকেও টিকার কারণে সেটা প্রকট হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। খবরটা পেয়েই আমার মনে হচ্ছিল কোভিডের টিকার কথা।’
জ্যাকসন বলেন, ‘(বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে) ফোনটা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই আমার প্রথম মনে হয়েছিল—এর জন্য সরকার দায়ী। আমি তৎক্ষণাৎ কোভিড এবং ভ্যাকসিনকে দায়ী করেছিলাম।’ জ্যাকসন জানান, সে সময় মেমোরিয়াল সার্ভিসে (স্মরণসভা) নিজের মনের এই কথাগুলো বলে ফেলা থেকে তিনি নিজেকে কোনোমতে আটকে রেখেছিলেন।
জ্যাকসন আরও বলেন,
‘সেদিন চুপ থাকাটাই হয়তো বুদ্ধিমানের কাজ ছিল, কারণ ওগুলো বললে আজ আমি অন্যরকম এক পরিস্থিতিতে থাকতাম। কিন্তু আমি মনে মনে ঠিক এমনটাই অনুভব করছিলাম।’
কিংবদন্তি বাবার জীবনযাত্রার বর্ণনা দিতে গিয়ে জ্যাকসন জানান,
‘শেন ওয়ার্ন ধূমপান বা মদ্যপান করলেও মোটামুটি স্বাস্থ্যকর জীবনই যাপন করতেন। তিনি বলেন, ‘বাবা তখন সুস্থ ছিলেন, হাসিখুশি ছিলেন। অনেক দিন পর তাকে খুব ভালো দেখাচ্ছিল। হ্যাঁ, তিনি ধূমপান ও মদ্যপান করতেন, কিন্তু আশি-নব্বই বছর বয়সী অনেক মানুষ বাবার চেয়েও অনেক বেশি এগুলো করেন (তবুও বেঁচে আছেন)।’
শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর পর থাই পুলিশ তাঁর ঘর থেকে কিছু ওষুধ সরিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগও উঠেছিল। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত কিংবদন্তির শরীরে উত্তেজক ওষুধও পাওয়া গিয়েছিল। তবে তাঁর ছেলে জ্যাকসন তা অস্বীকার করেছেন।
৮০০ উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী মুত্তিয়া মুরালিধরন। এই তালিকায় লঙ্কান কিংবদন্তির পরই শেন ওয়ার্ন। ১৪৫ টেস্টে নিয়েছেন ৭০৮ উইকেট। ৩৭ বার নিয়েছেন ইনিংসে পাঁচ উইকেট। ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন ১০ বার। ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত কিংবদন্তি লেগস্পিনার পেয়েছেন ২৯৩ উইকেট।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে অগ্রণী ভূমিকা রেখে জিতেছিলেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কার। বিশ্বকাপের সেরা হওয়ার পর এবার ‘আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থ’ নির্বাচিত হয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। মার্চ মাসের সেরার পুরষ্কার জিতলেন ভারতীয় ওপেনার। মার্চের সেরা নারী ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছেন নিউ জিল্যান্ড অলরাউন্ডার অ্যামেলিয়া কার।
সতীর্থ জাসপ্রিত বুমরাহ ও দক্ষিণ আফ্রিকার কনর এস্তেহেইজেনকে পেছনে ফেলে আইসিসির মাসসেরা হলেন স্যামসন। প্রথমবার আইসিসির এই স্বীকৃতি পেলেন তিনি। দারুণ এই সম্মাননা পাওয়ার পর স্যামসন তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন, ‘আইসিসি প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ পুরস্কার জেতাটা সত্যিই এক অসাধারণ অনুভূতি। বিশেষ করে আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় এক সময়ে এই স্বীকৃতিটা এল। ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অংশ হতে পারা ছিল আমার কাছে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। সেই মুহূর্তের বিশালতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে আমার কিছুটা সময় লেগেছে।’
সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞা স্বীকার করে স্যামসন আরও যোগ করেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এটি একটি রোমাঞ্চকর সময়, কারণ এখন আমাদের দলে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। আমি যে সুযোগ পেয়েছি এবং সতীর্থ ও কোচিং স্টাফরা আমার ওপর যে আস্থা ও সমর্থন রেখেছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তাদের কারণেই আমি মাঠে নিজের সেরাটা দিতে পেরেছি।’
বিশ্বকাপের শুরুর দিকে সঞ্জু নিয়মিত একাদশে ছিলেন না। তবে সুপার এইট-এর বাঁচা-মরার লড়াইগুলোতে শেষ পর্যন্ত তাকে দলে ডাকা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৪ রান দিয়ে শুরু করার পর, এই ওপেনার ব্যাট হাতে এতটাই আলো ছড়ান যে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
১ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও, তার অপরাজিত ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি ভারতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে দেয়। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর করা ঝোড়ো ৮৯ রানের ইনিংস ভারতকে ২৫৩/৭ রানের পাহাড়সম পুঁজি এনে দেয়। ৫ মার্চের সেই ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড মাত্র ৭ রানে হারের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
এরপর আহমেদাবাদে শিরোপা ধরে রাখার মিশনেও (ফাইনাল) তার ব্যাট থেকে আসে ঠিক একই —৮৯ রান। ৩১ বছর বয়সী উইকেটকিপিং ব্যাটারের অসাধারণ ইনিংসে ভর করেই ভারত ৯৬ রানের বিশাল জয় নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
মার্চে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে স্যামসন মোট ২৭৫ রান সংগ্রহ করেন। এই সময়ে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল অবিশ্বাস্য ১৩৭.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল চোখ ধাঁধানো ১৯৯.২৭। বিশ্বমঞ্চে এই ওপেনারের এমন দানবীয় পারফরম্যান্স তাকে কেবল টানা দুই ম্যাচে 'প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ'-এর পুরস্কারই এনে দেয়নি, পাশাপাশি আইসিসি টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ২০-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে।
মার্চের বিশ্বসেরা অ্যামেলিয়া কার ব্যাট-বলের দাপটে জিতলেন আইসিসি মাসসেরার মুকুট। নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার অ্যামেলিয়া কার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্দান্ত একটি মাস পার করে আইসিসি নারী মাসসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন।
ব্যাট এবং বল—উভয় বিভাগেই অ্যামেলিয়া ছিলেন অনন্য। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে মাত্র ৩ ম্যাচে তিনি শিকার করেছেন ১৬টি উইকেট! এর মধ্যে এক ম্যাচেই মাত্র ৩৪ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি, যা তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। পাশাপাশি ব্যাট হাতেও তিনি দলের বড় শক্তি ছিলেন। ওয়ানডে সিরিজে ছিলেন তৃতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। তিন ম্যাচে ৪৬.৬৭ গড়ে তিনি করেছেন ১৪০ রান।

পিএসএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলার কথা ছিল তাঁর। তবে ফ্রাঞ্চাইজি এই লিগটির সঙ্গে চুক্তি ছেড়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দেন ব্লেসিং মুজাবারানি। জিম্বাবুয়ের পেসারের এমন সিদ্ধান্তে আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার শাস্তি পেলেন মুজাবারানি। পিএসএলের পরবর্তী দুটি আসর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাকে।
লোভনীয় প্রস্তাব পেয়ে আইপিএলে যোগ দিতে পিএসএল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন মুজাবারানি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেয় কলকাতা। চোটের কারণে আইপিএল থেকে ছিটকে যান ভারতীয় পেসার হর্ষিত রানাও। মূলত বোলিংয়ে তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণ করতেই তাকে দলে নেওয়া হয়।
এই শাস্তির বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে পিএসএল কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে, টুর্নামেন্টের মর্যাদা ও অখণ্ডতা সকল অংশগ্রহণকারীর ধারাবাহিক এবং নৈতিক আচরণের ওপর নির্ভর করে।
পিএসএল-এর পেশাদার পরিবেশ রক্ষায় এই দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লিগ কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর যে, এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে টিকে থাকবে যেখানে চুক্তির নিশ্চয়তাকে সম্মান করা হয় এবং যেখানে সকল খেলোয়াড় ও এজেন্টের আচরণ টুর্নামেন্টের মর্যাদাকে ফুটিয়ে তোলে।
আধুনিক ক্রিকেটের সূচির জটিলতাগুলো পিএসএল কর্তৃপক্ষ উপলব্ধি করলেও, তারা নৈতিক কাঠামোর বিষয়ে কোনো আপস করবে না। এই কাঠামোই মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রতি ন্যায্যতা এবং লিগের দল গঠন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। পিসিবি নিশ্চিত করেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা চুক্তি লঙ্ঘনের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে এবং আগামী দুটি পিএসএল মৌসুমে তা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
পিসিবি জানায়, চুক্তিবদ্ধ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে খেলোয়াড়ের ব্যর্থতার বিষয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ শৃঙ্খলামূলক পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের মতে, এ ধরনের আচরণ লিগের পেশাদার কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পিসিবি পিএসএল-এর চুক্তিবদ্ধ চুক্তির মর্যাদা রক্ষা এবং উচ্চমানের পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
পিসিবি-র মতে, পেশাদার ক্রিকেট চলে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং চুক্তির নিশ্চয়তার ওপর ভিত্তি করে। এই ক্ষেত্রে, পারিশ্রমিক ও কাঠামোসহ সব অপরিহার্য শর্তাবলীতে স্পষ্ট প্রস্তাব এবং দ্ব্যর্থহীন সম্মতি থাকা সত্ত্বেও, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় একটি সাংঘর্ষিক প্রস্তাবের পক্ষে সেই বাধ্যবাধকতাগুলোকে উপেক্ষা করেছেন।
পিসিবি গুরুত্বারোপ করে বলেছে যে, একবার লিখিতভাবে প্রয়োজনীয় শর্তাবলীতে একমত হওয়ার পর তা একটি বাধ্যতামূলক চুক্তিতে পরিণত হয়। কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই এ ধরনের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার চেষ্টা চুক্তিবদ্ধ কর্তব্যের লঙ্ঘন এবং বিশ্বব্যাপী পেশাদার খেলাধুলা পরিচালনাকারী নীতিমালার পরিপন্থী।
এবারের আইপিএলে কেকেআরের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন মুজাবারানি। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ৩৪ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ৪১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

জয়ের জন্য মুলতান সুলতান্সের প্রয়োজন ৪৬ রান। পেশাওয়ার জালমিকে জেতানোর দায়িত্ব পড়ল দুই বাংলাদেশি পেসার শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানার কাঁধে। ডেথ ওভারে চমৎকার বোলিং করলেন দুই পেসার। অনায়াসেই জিতে গেল পেশাওয়ার।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) সোমবার রাতে মুলতানকে ২৪ রানে হারিয়েছে শরিফুল-নাহিদদের পেশাওয়ার। আগে ব্যাট করে ১৯৬ রান করে পেশাওয়ার। জবাবে বাংলাদেশের দুই পেসারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৭২ রানের বেশি করতে পারেনি মুলতান।
চলতি পিএসএলে এটিই ছিল শরিফুল ও নাহিদের শেষ ম্যাচ। তাদের ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ১২ এপ্রিল। তবে ১৩ তারিখ ম্যাচ থাকায় বাড়তি আরেক দিন ছুটি চেয়ে নেন দুই পেসার। আর সেই ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে দারুণ জয়ই উপহার দিলেন তারা।
৬ ম্যাচে ৫ জয় ও এক পরিত্যক্ত ম্যাচসহ ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই এখনও পেশাওয়ার। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে মুলতান।
দেশে ফেরার আগে শেষ ম্যাচটিতে ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। শরিফুল কোনো উইকেট না পেলেও, ৪ ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ২৭ রান। শেষের ৪ ওভারে ৪৬ রানের সমীকরণে তারা দুজন মিলে ৩ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১৩ রান।
সব মিলিয়ে পিএসএলে নিজের অভিষেক আসরে ৪ ইনিংসে মাত্র ১০.৮৫ গড় ও ৫.৪২ ইকোনমি রেটে ৭টি উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। টুর্নামেন্টে অন্তত ১ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে তার ইকোনমিই সেরা। আর শরিফুল ৫ ইনিংসে ওভারপ্রতি ৭.৯৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট।
পিএসএল অধ্যায় শেষ করে এবার মঙ্গলবার সকালে দেশে ফেরার কথা রয়েছে নাহিদ ও শরিফুলের। এর আগে রোববার সকালে একসঙ্গে পিএসএল থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন।
আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হবে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এর জন্য বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিক অনুশীলন শুরু করবে বাংলাদেশ। ওয়ানডের লড়াই শেষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে দুই দল।