
আগের ম্যাচে লো-স্কোরিং হলেও ব্যাট হাতে বাংলাদেশ ছিল প্রাণবন্ত। তবে এদিন সেটা হলো না। শুরু থেকেই কেউ পারলেন না বড় ইনিংস খেলতে। ফলে চাপ বাড়ল মিডল অর্ডারের ওপর। অন্যরা না পারলেও সেটা একাই সামাল দিলেন জাকের আলি অনিক। লড়িয়ে ফিফটিতে দলকে এনে দিলেন ফাইট করার মত এক স্কোর। এরপর বোলাররা দিলেন স্বপ্নের শুরু। তবে পাকিস্তানের হয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ফেলেন ফাহিম আশরাফ। জমল রোমাঞ্চ। শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর হাসি হাসল বাংলাদেশ। নিশ্চিত হল ইতিহাস গড়া সিরিজ জয়।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছে ৮ রানের নাটকীয় জয়। জাকের আলির বীরত্বে ১৩৩ রান করার পর প্রতিপক্ষকে ১৯.২ ওভারে ১২৫ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ হাতে রেখেই তাতে নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের সিরিজ জয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ফরম্যাটে এটা বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়।
গত সোমবার মাইলস্টোনের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার শোক স্মরণে মঙ্গলবার একদিনের শোক পালন করেছে বাংলাদেশ। সেই আবহেই মিরপুরে শুরু হয় ম্যাচ। খেলা শুরুর আগে মাঠে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
আরও পড়ুন
| রাসেলের বিদায়ের রাগিণী আরও শোকাতুর দলের পরাজয়ে |
|
টস হেরে আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ একাদশে বাংলাদেশ আনে দুটি পরিবর্তন। বাদ পড়েন বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পেসার তাসকিন আহমেদ। তাদের জায়গায় দলে আসেন ব্যাটার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।
শ্রীলঙ্কা সফরে একটি টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি নাঈম। এবারও ব্যর্থ হন তিনি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ৩ রান করে ক্যাচ তুলে দেন উইকেটের পেছনে। স্কুপ শটে ফাহিম আশরাফের বল উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু টাইমিং না হওয়ায় ধরা পড়েন মোহাম্মদ হারিসের গ্লাভসে।
খুব একটা সময় টিকলেন না লিটনও। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে এক ডিজিটে আউট হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ছক্কার চেষ্টায় সালমান মির্জার বলে ক্যাচ তুলে দেন ডিপ মিড উইকেটে। অহেতুক রান চুরি করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন তাওহীদ হৃদয়। সালমান মির্জার অফ স্টাম্পের বাইরের বল মিড অফে ঠেলেই রানের জন্য দৌড় দেন এই ডানহাতি ব্যাটার, তবে সালমান আগার সরাসরি থ্রোয়ে ডাইভ দিয়েও বাঁচাতে পারেননি উইকেট।
আগের ম্যাচে দারুণ এক ফিফটি করা পারভেজ হোসেন ইমন শুরুটা করেছিলেন ভালো। তবে ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। মিড অনের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে টাইমিং মিস করে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে এক চার ও এক ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ রান।
৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে মাত্র ২৯। সেখান থেকে বাংলাদেশের ফেরার লড়াইয়ে রানে গতি দেন শেখ মাহেদি হাসান। খুশদিল শাহ ও মোহাম্মদ নাওয়াজের বলে পরপর চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে কিছুটা চাপ সরান এই স্পিনিং অলরাউন্ডার। জাকের আলিকে নিয়ে গড়েন ৪৯ বলে ৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙে মাহেদির বিদায়ে। ২৫ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় এই ফরম্যাটে নিজের সর্বোচ্চ ৩৩ রানের ইনিংস খেলে শিকার হন মোহাম্মদ নাওয়াজের। ফিনিশিং দিতে ব্যর্থ হন শামীম হোসেন। আহমেদ দানিয়েলের বলে বোল্ড হয়ে যান মাত্র ১ রানেই।
আরও পড়ুন
| রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজও জিতে নিল বাংলাদেশ |
|
৯৩ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংসকে এরপর একাই টেনে নেন জাকের আলি। বলের মেরিট বুঝে আক্রমণ শানান বোলারদের ওপর। তাতে একটু একটু করে এগিয়ে যান ফিফটির পথে। ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় ধরা পড়ার আগে দলকে এনে দেন সম্মানজনক একটা স্কোর। ৪৮ বলে পাঁচটি ছক্কা ও একটি চারে সাজান ৫৫ রানের ইনিংস। এই ফরম্যাটে এটা জাকের আলির তৃতীয় ফিফটি।
মিরপুরেই সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১০ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর সহজেই সেটা তাড়া করেছিল বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচে সফরকারীদের জন্য শুরুতেই কাজটা দুর্গম করে তোলেন বাংলাদেশের বোলাররা মিলে।
একদম শুরু থেকেই দুই প্রান্ত থেকে চেপে ধরেন তারা। প্রথম ওভারেই সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় ব্রেকথ্রু পায় বাংলাদেশ। কাট করে পয়েন্টে খেলে রানের জন্য দৌড় দেন সাইম আইয়ুব, তবে সেটা পূর্ণ হওয়ার আগেই রান আউট হতে হয় তাকে। একাদশে ফেরা শরিফুল আঘাত হানেন নিজের প্রথম ওভারেই। অফ স্টাম্পের ভেতরে প্রবেশ করানো দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন মোহাম্মদ হারিস। রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি তিনি, আম্পায়ার্স কল-এ সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।
মিরপুরের পিচে যেন আগুন ছড়িয়ে দিলেন শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিব। মাত্র ৫ ওভারের মধ্যে ১৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধস নামল পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনআপে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটিই পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানে অর্ধেক উইকেট হারানোর রেকর্ড।
এরপর ফের শরিফুলের আঘাত। লেগ স্টাম্পের বাইরের বল পুল করতে গিয়ে কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় ফখর জামানের ইনিংস। আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন লিটন। সেখানে বদলে যায় সিদ্ধান্ত।
বড় ধাক্কাটা আসে পঞ্চম ওভারে। আক্রমণে এসেই দুই উইকেট নেন তানজিম হাসান সাকিব। প্রথমে অফ স্টাম্পের বাইরে খোঁচা দিয়ে কট বিহাইন্ড হন হাসান নাওয়াজ। পরের বলেই প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন মোহাম্মদ নাওয়াজ। মাত্র ১৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধস নামে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারে।
টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানে (১৫) ৫ উইকেট হারানোর রেকর্ড এখন এটিই। আগের রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ২০২৩ সালে (১৬ রানে ৫ উইকেট)।
বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো দলের সবচেয়ে কম রানে ৫ উইকেট হারানোর ঘটনাও এটি। আগের রেকর্ডটি ছিল পাপুয় নিউগিনির (২৪ রান, ২০২১ বিশ্বকাপ ২০২১)।
রান রেটের চাপ সামাল দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আউট হতে হয় পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগাকে, যিনি রীতিমত রান বের করতেই সংগ্রাম করছিলেন। মাহেদির বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় লং অনে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। মাত্র ৯ রান করতে খেলেন ২৩ বল। পাকিস্তানের ইতিহাসে টি-টোয়েন্টিতে কমপক্ষে ২০ বল খেলা ব্যাটারদের মধ্যে এটাই সবচেয়ে ধীরগতির ইনিংস।
অন্য প্রান্তে রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে ক্যাচ দিয়েও জীবন পান খুশদিল শাহ। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ডিপ পয়েন্টে, তবে পারভেজ হোসেন পারেননি সহজ সেই ক্যাচ নিতে। খুশদিলের রান তখন ১২।
আরও পড়ুন
| নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিসিবির আয় ১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা |
|
এর কিছুক্ষণ বাদেই অবশ্য আঘাত হানে বাংলাদেশ। মাহেদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান খুশদিল শাহ। ১৮ বলে ১৩ রান করেই ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটার। প্রবল চাপে পড়ে যাওয়া পাকিস্তানের ১২ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে মাত্র ৪৭ রান!
এরপর বাংলাদেশকে চাপে ফেলে প্রতিরোধ গড়েন আব্বাস আফ্রিদি ও ফাহিম। ২৭ বলে দুজনে যোগ করেন ৪১ রান। অবশেষে নিজের শেষ ওভারে এসেই প্রথম বলে জুটির ইতি টানেন শরিফুল। স্লগ খেলতে গিয়ে বোল্ড হতে হয় তাকে, তার আগে ১৩ বলে ১৯ রান।
তবে একপ্রান্তে আগলে দলকে ম্যাচে ধরে রাখেন ফাহিম। সুযোগ বুজে মারেন বড় শট, তাতে ক্রমেই কমে আসে বল ও রানের ব্যবধান। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন হয় ২৮ রানের। রিশাদের করা ১৯তম ওভারে প্রথম পাঁচ বলেই ফাহিম তুলে নেন ১৫ রান। তবে শেষ হাসি হাসেন এই লেগ স্পিনারই। ছক্কার চেষ্টায় নিচু হয়ে যাওয়া বল খেলতে গিয়ে ক্লিন বোল্ড হয়ে গেলেন ফাহিম। তবে তার আগে খেলেন ৩২ বলে ৫১ রানের এক লড়াকু ইনিংস।
২০তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই আহমেদ দানিয়ালকে ফিরিয়ে সব রোমাঞ্চের ইতি টেনে বাংলাদেশকে জেতান মুস্তাফিজুর। ১৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার শরিফুল।
No posts available.
১৩ মার্চ ২০২৬, ১১:১৯ পিএম

বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়
ওয়ানডেতে ফিল্ডিংয়ের সময় বাঁ-কাঁধে গুরুতর চোট পেয়েছেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার হুসাইন
তালাত। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই চোট থেকে সেরে উঠতে তাঁর প্রায় ১২ থেকে ১৪ সপ্তাহ
সময় লাগতে পারে।
ম্যাচ চলাকালীন ফিল্ডিংয়ের
সময় তালাতের বাঁ কাঁধের সংযোগ নড়ে গেছে যায়। ঘটনার পরপরই মাঠেই তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা
দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের
তত্ত্বাবধানে তালাদের ওপর একটি সফল চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়, যার মাধ্যমে কাঁধের
স্থানচ্যুত জোড়াটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাঁর শারীরিক
অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। পরে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী
কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন তালাত। তারপর তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে জাতীয় ক্রিকেট
একাডেমিতে যোগ দেবেন।
পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন
ও অনুশীলনের মাধ্যমে তালাতকে আবার প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় তিন মাসের মধ্যেই মাঠে ফিরতে পারেন এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার।

ভারতীয়
ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আসন্ন নামান অ্যাওয়ার্ডসে কর্ণেল সি.কে.
নাইড়ু আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পাচ্ছেন রাহুল দ্রাবিড়, রজার বিনি ও মিথালি রাজ। দিল্লিতে
রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নামান এওয়ার্ডসে তাদের এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
ভারতের
হয়ে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন দ্রাবিড়। ৫০৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচে
তিনি ২৪ হাজারের বেশি রান করেছেন ও ফিল্ডিংয়ে নিয়েছেন ৪০০-রও বেশি ক্যাচ। তার অধিনায়কত্বে
২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জেতে ভারত।
অবসরের
পর কোচ হিসেবে অনূর্ধ্ব-১৯ দল, ভারত ‘এ’ ও জাতীয় দলের দায়িত্ব সামলেছেন দ্রাবিড়। তার
কোচিংয়েই ২০২৪ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে ভারত।
ভারতের
১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন রজার বিনি। ২৭ টেস্ট ও ৭২টি ওয়ানডে খেলা এই
অলরাউন্ডার ওই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন, যা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে
বড় মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হয়ে আছে।
পরে
তিনি ১৯৮৫ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ অব ক্রিকেটজয়ী দলেও ছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবনের পর
কোচিং ও প্রশাসনিক দায়িত্বেও কাজ করেছেন বিনি। ২০০০ সালে তার কোচিংয়েই ভারত অনূর্ধ্ব-১৯
বিশ্বকাপ জেতে।
অন্যদিকে
নারী ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ভারতের মুখ ছিলেন মিথালি রাজ। ৩৩৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলা
এই ব্যাটার নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথম হিসেবে ১০ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক রান
করেন। তার অধিনায়কত্বেই ভারত দুইবার বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছায়।
অন্যান্য
পুরস্কারপ্রাপ্তরা
২০২৪-২৫
মৌসুমে পুরুষদের সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের জন্য পলি উমরিগার পুরস্কার পেয়েছেন শুবমান
গিল। নারীদের সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা। একই সঙ্গে ওয়ানডেতে
সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।
নারীদের
ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির পুরস্কার পেয়েছেন দিপ্তি। সেরা আন্তর্জাতিক অভিষেক
(নারী) পুরস্কার জিতেছেন শ্রী চারানি। আর পুরুষদের বিভাগে এই সম্মান পেয়েছেন হার্শিত
রানা।

নাহিদ রানার গতি আর তানজিদ হাসান তামিমের তাণ্ডবে প্রথম ম্যাচ জেতার পর দ্বিতীয়টিতে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। মাজ সাদাকাতের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সঙ্গে দুর্দান্ত বাঁহাতি স্পিনের ফাঁদে পড়ে বড় ব্যবধানে হেরেছে স্বাগতিকরা।
ফলে এখন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে। এই ম্যাচ দিয়েই নির্ধারণ হবে কারা পাবে লাল-সবুজে মোড়ানো সুদৃশ্য ট্রফি। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে সিরিজ নির্ধারণী খেলা।
চলতি সিরিজের আগে ৭৯টি তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে ২-১ ব্যবধানে ফল এসেছে ২৫টি ভিন্ন সিরিজে। বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ১২টি সিরিজ, আর ১-২ ব্যবধানে হেরে গেছে বাকি ১৩ সিরিজে।
এই ২৫ সিরিজের মধ্যে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ১-১ হয়েছে ১৬ সিরিজে। যেখানে ৮টি সিরিজে জয়ী দলের নাম বাংলাদেশ। বাকি ৮ সিরিজে জিতেছে প্রতিপক্ষ দল।
১-১ থেকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতা ৮ ঘটনার মধ্যে ৬টিতে প্রথম ম্যাচ জেতার পর দ্বিতীয়টি হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ জিতে সিরিজের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
এবার তেমন আরেক চ্যালেঞ্জের সামনে তারা। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১৪ রানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টিবিঘ্নিত লড়াইয়ে বাংলাদেশও অলআউট হয়েছে ঠিক ১১৪ রান। শেষ ম্যাচে তাই প্রথম ওয়ানডের পুনরাবৃত্তিই চাইবে স্বাগতিকরা।
গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়ানোর শঙ্কায় পড়লেও শেষ পর্যন্ত তা হতে দেয়নি বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কা বা ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিপক্ষেও দ্বিতীয় ওয়ানডে হারলেও, সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছিল তারা।
এবার ২০২৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেও সেটি করতে পারলে র্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পাবে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিততে পারলে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে ৯ নম্বরে উঠে যাবে তারা। আর শেষ ম্যাচ হারলে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে থেকে যাবে বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচ জিতে নেওয়ার পরও সিরিজ হারের নজিরও আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। ২০০৮ সালে নিউ জিল্যান্ড ও ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১-০তে লিড নেওয়ার পর বাকি দুই ম্যাচ হেরে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ।
তবে নিশ্চিতভাবেই নিউ জিল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ে নয়, বরং ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা সিরিজের পুনরাবৃত্তির খোজেই থাকবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
মিরপুরে গতকাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে পাকিস্তান। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে এসেছে সালমান আলী আগার বিতর্কিত রান আউট প্রসঙ্গ। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।
শুক্রবার টস হেরে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৩৯তম ওভার করতে আসেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ অধিনায়কের করা চতুর্থ বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় খেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অপরপ্রান্তে ৬৪ রানে থাকা সালমান আলি আগা রান নিতে গিয়ে সামনে গিয়ে বলটি এগিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মিরাজের হাতে।
তবে মিরাজ বলটি হাতে নিয়ে দ্রুত স্ট্যাম্পে ভাঙেন এবং রান আউটের আবেদন করেন। আম্পায়ার আউট দিলে সালমান আলি আগা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পাকিস্তানের সাবেক অনেক ক্রিকেটার বিষয়টিকে ফেয়ার প্লে নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুশতাক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মিরাজ কোনো ভুল করেননি এবং তিনি স্রেফ খেলার নিয়মই অনুসরণ করেছেন।
“ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে ড্রেসিংরুম থেকেও বিষয়টি বুঝে উঠতে সময় লেগেছে। বলটি তখনও খেলায় ছিল। সালমান আলী আগা ক্রিজ থেকে বেশ অনেকটা দূরে ছিলেন।”
“সম্ভবত তিনি ভেবেছিলেন বলটি ‘ডেড’ হয়ে গেছে এবং তিনি মিরাজকে বলটি তুলে দিয়ে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। অন্য দিকে মিরাজ সম্পূর্ণ খেলার মধ্যে ছিলেন এবং তিনি সুযোগ দেখা মাত্রই রান আউট করেছেন। মিরাজ কোনো ভুল করেনি।”
মিরপুরের এই পেস সহায়ক এবং চ্যালেঞ্জিং পিচ নিয়ে মুশতাক বলেন, এটি মূলত আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ।
“আমরা এমন পিচ তৈরি করছি কারণ দক্ষিণ আফ্রিকায় আগামী বিশ্বকাপে এমনই কন্ডিশন পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো দল হতে চাইলে যেকোনো কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে হবে।”
প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দুর্দান্ত শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ১২৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আগামীকাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি জিতে ট্রফি নিজেদের ঘরে রাখতে আশাবাদী মুশতাক।
“আমাদের গত ম্যাচের ভুলগুলো দ্রুত ভুলে যেতে হবে। আমরা জানি আমাদের সামর্থ্য আছে এবং ছেলেরা যদি নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকঠাক কার্যকর করতে পারে, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা সিরিজ জিতব।”

কাকতালীয়ই বটে। দুই দিন আগে ঠিক ইফতারের সাইরেন বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সিরিজের প্রথম ম্যাচের ফল নিষ্পত্তি হয়েছে। ৪৮ ঘন্টা পরে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের দর্শক যখন ইফতারির পরে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়ার প্রহর গুনেছেন, তখন রিশাদের বলে মোহাম্মদ ওয়াসিমের আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান অল আউট, ঠিক সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে ইফতারির আজানের ধ্বনি শুনেছে মিরপুরে দর্শক! সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১১৪রানে অল আউট পাকিস্তান, বৃষ্টি বিঘ্নিত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেই স্কোরেই বাংলাদেশকে অলআউট করেছে পাকিস্তান।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে যে দলটিকে ১১৪ রানে ইনিংস গুড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ, সেই পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে করেছে ২৭৪/১০! শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া পিচে এই স্কোর প্রত্যাশিতই। ৪৮ ঘন্টা আগে বাংলাদেশ বোলারদের বোলিং তাণ্ডবে ছিন্নভিন্ন হওয়া পাকিস্তান কীভাবে দ্বিতীয় ম্যাচে এতোটা ঘুরে দাঁড়ালো ? এই প্রশ্নের উত্তরে কৃতিত্ব দিতে হবে তাদের ওপেনিং ব্যাটার মাজ সাদাকাত (৪৬ বলে ৭৫), শাহিবজাদা ফারহান (৪৬ বলে ৩১), মিডল অর্ডার মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫৯ বলে ৪৪), সালমান আগা (৬২ বলে ৬৪)-কে। প্রথম উইকেট জুটির ৭৮ বলে ১০৩, ৪র্থ উইকেট জুটির ১১৫ বলে ১১৯ রান বড় পুঁজির সহায়ক হয়েছে।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-এর প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ৮৩/০, ওভারপ্রতি রান ৮.৩০। তাসকিন এবং নাহিদ রানার অমিতব্যয়ী প্রথম স্পেলের কারনেই শুরুতে ছিল বাংলাদেশের ছন্দহীন। ২ ওভারের প্রথম স্পেলে উইকেটহী তাসকিনের খরচা ২০, নাহিদ রানা সেখানে উইকেটহীন ৩ ওভারে খরচা করেছে ৩২।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে শর্ট বলের ছড়াছড়িতে পাকিস্তান ব্যাটারদের আঁতকে দিয়েছেন দীর্ঘদেহী তরুণ পেসার নাহিদ রানা। সেই ম্যাচে নামতা গুনে প্রথম ৫ ওভারের প্রতিটিতেই একটি করে শিকার করেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে গতির বোলার। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই রূপে দেখা যায়নি নাহিদ রানাকে। ৩ ওভারের প্রথম স্পেলটি তার খরুচে (৩-০-৩২-০)। যার মধ্যে তৃতীয় ওভারে খরচ করেছেন ২০ রান।
যেভাবে পাকিস্তান ইনিংস শুরু করেছে, তাতে তিনশ প্লাস স্কোরের পূর্বাভাস কিন্তু ছিল। ৪০ ওভার পর্যন্ত রানের গতিটা সেই কক্ষপথেই ছিল। তবে রিশাদের শেষ স্পেলের (১.৩-০-৫-২) সঙ্গে মোস্তাফিজের শেষ স্পেলে (২-০-৮-১) পাকিস্তানকে ২৭৪-এ থামিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ পাওয়ার প্লেতে ৩৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারাতে হয়েছে পাকিস্তানকে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পেস ত্রয়ী ছড়িয়েছে আতঙ্ক। দ্বিতীয় ম্যাচে তাসকিন (৮-০-৫৯-১),নাহিদ রানা (১০-০-৫৯-১), মোস্তাফিজ (৯-০-৫৩-১) করেছেন গড়পড়তা বোলিং। ব্যতিক্রম ছিলেন অফ স্পিনার মিরাজ (১০-২-৩৪-২) এবং লেগ স্পিনার রিশাদ (৯.৩-০-৫৬-৩)।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ছিল মাজ সাদাকাতের ওডিআই অভিষেক। ২৮ বলে ১৮ রানের সেই অভিষেক ইনিংসের অতৃপ্তি ঘোঁচাতে দ্বিতীয় ম্যাচের শুরু থেকে টি-২০ আমেজে ব্যাটিং করেছেন। মোস্তাফিজের প্রথম দুই বলে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা মাজ সাদাকাত তাসকিনের এক ওভারে মেরেছেন ২টি ছক্কা। যার মধ্যে একটি নো বলে পুল শটে ছক্কা! নাহিদ রানার প্রথম ওভারে লং অনের উপর দিয়ে তার ছক্কাটির দূরত্ব ছিল ৯৭ মিটার।
৩১ বলে অভিষেক ফিফটি উদযাপন করেছেন মাজ সাদাকাত। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর যখন ৮৫/০, তখন মাজ সাদাকাতের ৬৩। মিরাজের দ্বিতীয় ওভারে স্কুপ করতে যেয়ে টপ এজ হয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন ক্যাচ, ততোক্ষণ ৪৬ বলে ৬ চার, ৫ ছক্কায় ৭৫ রান করেছেন তিনি ১৬৩.০৪ স্ট্রাইক রেটে।
৫০ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ৪র্থ উইকেট জুটিতে রিজওয়ানের সাথে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দেয়া সালমান আগা-কে কৌশলে ফিরিয়ে দিয়েছেন মিরাজ। ২০২৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউজকে টাইমড আউটে ফিরিয়ে দিয়ে সাকিবের যে দৃষ্টান্তটি এখনো শ্রীলঙ্কা সমর্থকদের চোখে গেম অব স্পিরিটের পরিপন্থি, সেই ছবিটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মিরাজ। ৩৯তম ওভারের ৪র্থ বলে মিরাজকে পাঞ্চ করেছিলেন রিজওয়ান। সেই বলটি ফলো থ্রুতে ধরতে যখন চেষ্টা করেছেন বোলার মিরাজ, তখন পপিন ক্রিজের বাইরে এসে বলটি নন স্ট্রাইক এন্ডের ব্যাটার সালমান আগা মিরাজের ফিল্ডিংয়ে বাধা তৈরি করতে অপচেষ্টা করেছেন। প্রথম ব্যাট দিয়ে বলটি থামাতে চেয়েছেন, পরে মিরাজের সঙ্গে বলটি ধরতে দিয়েছেন পাল্লা। কিন্তু তার সব অপচেষ্টা হয়েছে বিফল। বলটি ডেড হওয়ার আগে মিরাজ অন্ডার আর্ম থ্রো-তে রান আউটে হতভম্ব করেছেন সালমান আগাকে (৬২ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ৬৪)। টিভি আম্পায়ার ধর্মসেনাও এটিকে বৈধ রান আউটের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বল ‘ডেড’ হওয়ার আগে ক্রিজের বাইরে থাকায় নিয়মানুযায়ীই রানআউট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।তবে এই আউট নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উষ্মা প্রকাশ করেছেন সালমান আগা। মিরাজের উপর ক্ষুব্ধ হতে দেখা গেছে তাকে, লিটনকে উদ্দেশ্য করেও কিছু একটা বলতে দেখা গেছে সালমান আগাকে। মিরাজও পাল্টা জবাব দিয়েছেন। নিজের ভুলে আউট হয়েও ক্রোধ প্রকাশ করতে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে বাউন্ডারি রোপের সামনে ব্যাট-হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেছেন!
২৭৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা দিয়েছে বিপদসংকেত। ৬.৩ ওভার শেষে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে যখন শিলাবৃষ্টিতে ম্যাচটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা, তখন পাকিস্তান পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি (৩.৩-০-৯-২) এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের (৩-০-১৮-১) বোলিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর ২৭/৩। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে বড় লজ্জার বদলা নেয়ার সংকল্প ফুটে উঠেছে পাকিস্তান ক্রিকেটারদের অভিব্যক্তিতে।
শিলা বৃষ্টির পর আকাশে বজ্রপাতে ফ্লাড লাইটের অনেকগুলো বাল্বও নিভিয়ে দিয়েছে বিসিবি। রাত ৮টা ৫৭ মিনিটে মাঠ পরিদর্শন শেষে পিচ কভার উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, জ্বলেছে সব কটি ফ্লাড লাইটের বাল্ব। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে খেলা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। ৩২ ওভারে বাংলাদেশ দলের টার্গেট দাঁড়িয়েছে ২৪৩ রান। অর্থাৎ অবশিষ্ট ২৫.৩ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১৬ রান। ওভারপ্রতি ৮.৫৩ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ দলকে। টি-২০ মেজাজে ব্যাটিংয়ের মানসিকতা নিয়েই নামতে হত বাংলাদেশ দলকে। পুনরায় খেলা শুরুতে লিটনের ব্যাটিংয়ে সেই মেজাজই দেখেছে দর্শক। তবে বাঁ হাতি স্পিনার মাজ সাদাকাতের ৫ ওভারের একটি স্পেলে (৫-০-২৩-৩) প্রথম বলে দর্শনীয় পুল শটে ডিপ মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কা মেরে পরের বলে সুইপ করতে যেয়ে এলবিডাব্লুতে কাটা পড়েছেন লিটন দাস (৩৩ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৪৪)। ৪র্থ উইকেট জুটিতে লিটন-হৃদয়ের ৪৮ বলে ৫৪ রানের পার্টনারশিপকে অনুসরণ করতে পারেনি পরবর্তীতে কেউ।
বৃষ্টির পর উইকেটে ধরেছে স্পিন। তাতেই মাজ সাদাকাত চিনিয়েছেন নিজেকে। লিটনকে শিকারে প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট শিকার উদযাপন করা মাজ সাদাকাত নিজের তৃতীয় ওভারে আফিফকে ( ১৫ বলে ২ ছক্কায় ১৪)পুল শটে প্রলুব্ধ করে মিড উইকেটে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন। তাঁর ৪র্থ ওভারের শেষ বলে রিশাদ ফ্রন্ট ফুটে ডিফেন্স করতে যেয়ে বোল্ড (৫ বলে ২)।
৭৩ রানে ৩ উইকেটের পর মাজ সাদাকাতের ছোবলে স্কোরটা যখন ১০১/৭, তখনই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারিত হয়ে গেছে। বাকি আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন পেসার হারিস রউফ তার ভয়ংকর শেষ স্পেলে (২.৩-০-৬-৩)। শেষ ৩ উইকেট পড়েছে মাত্র ১১রানে। তাতেই সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ১১৪ রানে অলআউটের বদলা নিয়েছে পাকিস্তান, সেই ১১৪ রানে বাংলাদেশকে অলআউট করে।