
ম্যাচ সামারি
সাউথ আফ্রিকা ৩১১/৭ (৫০ ওভার)
ডি কক ১০৯ (১০৬) ম্যাক্সওয়েল ২/৩৪
মার্করাম ৫৬ (৪৪) স্টার্ক ২/৫৩
অস্ট্রেলিয়া ১৭৭ (৪০.৫ ওভার)
লাবুশেন ৪৬ (৭৪) রাবাদা ৩/৩৩
স্টার্ক ২৭ (৫১) মহারাজ ২/৪০
ফল : সাউথ আফ্রিকা ১৩৪ রানে জয়ী।
দুটি ম্যাচে দুই প্রেক্ষাপট, একবার আগে ব্যাটিং আর আরেকবার রান তাড়া। তবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয় যেন কাটছেই না। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বাজে ব্যাটিংয়ের আরেক প্রদর্শনীতে বিশাল হার বরণ করতে হল প্যাট কামিন্সের দলকে। পেশাদার পারফরম্যান্সে হেসেখেলেই জিতে বিশ্বকাপে নিজেদের দুরন্ত শুরু বজায় রাখল প্রোটিয়া শিবির।
ভারতরত্ন শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী একনা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দশম ম্যাচে সাউথ আফ্রিকা জিতেছে ১৩৪ রানে। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৩১১ রান করে টেম্বা বাভুমার দল। জবাবে আরেকটি ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১৭৭ রানেই প্যাকড হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন কামিন্স। এরপর ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ১৯৯ রানে গুটিয়ে ম্যাচ হারতে হয়েছিল ৬ উইকেটে। এই দফায় অবশ্য টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক। দুই পরিবর্তন এনে দল সাজায় অস্ট্রেলিয়া, ক্যামেরন গ্রিনের জায়গায় মার্কাস স্টইনিস আর উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির বদলে জোশ ইংলিস।
প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করা কুইন্টন ডি কক এদিনও শুরু থেকে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী মেলে ধরেন। অন্য প্রান্তে টেম্বা বাভুমা অবশ্য সেভাবে সুবিধা করতে পারছিলেননা। অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডাররা সাউথ আফ্রিকা অধিনায়কের তিনটি ক্যাচ ফেলেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে বিগ শট খেলতে গিয়ে শেষ হয় বাভুমার ৫৫ বলে ৩৫ রানের সংগ্রামী ইনিংসের। তবে রানের চাকা সচল রাখেন ডি কক। অস্ট্রেলিয়ার দুই মূল বোলার কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের ওপর বেশি চড়াও হন তিনি।

শুরুটা ভালো হলেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। ১০০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে সেঞ্চুরি করে থামেন ডি কক। ম্যাক্সওয়েলের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। এর আগে ৮ চার ও ৫ ছক্কায় তার সংগ্রহ ১০৯ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি ডি ককের তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি। সাউথ আফ্রিকার দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দুটি সেঞ্চুরি করেছেন ডি কক। এর আগে এই কীর্তি ছিল কেবল এবি ডি ভিলিয়ার্সের, ২০১১ বিশ্বকাপে।
৩৫ ওভার শেষে সাউথ আফ্রিকার রান ছিল ৩ উইকেটে ১৯৮। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪২৮ রান করা প্রোটিয়াদের চোখ তখন আরেকটি ৪০০ প্লাস স্কোরের দিকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরি করা এইডেন মার্করাম এই ম্যাচেও ছন্দ ধরে রাখেন। ৪০ বলে তুলে নেন ফিফটি। তবে ফিরতি স্পেলে এসে মার্করামকে ফেরান কামিন্স।
আরও পড়ুন: যেভাবে দেখবেন আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ?
পরের ওভারে আঘাত হানেন হ্যাজলউড। সেট ব্যাটার হেইনরিচ ক্লাসেনকে ২৯ রানে ফিরিয়ে আভাস দেন ফাইটব্যাকের। শেষের দিকে মার্কো জ্যানসেনের ২৬ ও ডেভিড মিলারের ১৭ রানে ভর করে ৩০০ পার করে সাউথ আফ্রিকা। ১০ ওভারের দারুণ স্পেলে মাত্র ৩৪ রানে ২ উইকেট নেওয়া ম্যাক্সওয়েলই অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার। সাউথ আফ্রিকার ইনিংসে প্রায় হাফ ডজন ক্যাচ ফেলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, নাহলে হয়ত আরও অল্পেই বেঁধে রাখা সম্ভব হত সাউথ আফ্রিকাকে।
অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা হয় হতাশা জাগানিয়া। রানের জন্য হাঁসফাঁস করতে থাকা মিচেল মার্শ ৭ রান করে পরিণত হন জ্যানসেনের প্রথম শিকারে। অন্য প্রান্তে অভিজ্ঞ ডেভিড ওয়ার্নারকে ফেরান লুঙ্গি এনগিডি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার চাপ বাড়িয়ে তারকা ব্যাটার স্টিভেন স্মিথকেও প্যাভিলিয়নে পাঠান কাগিসো রাবাদা। ১৬ বলে স্মিথ করেন ১৯।

যদিও এই আউট নিয়ে কিছুটা বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। আম্পায়ার দিয়েছিলেন নট আউট, তবে রিভিউ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে পেয়ে যায় সাউথ আফ্রিকা। স্মিথ যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেননা যে তাকে এলবিডব্লিউ আউট দেওয়া হয়েছে।
নিজের পরের ওভারে আরেকটি উইকেট নেন রাবাদা। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ক্লিন বোল্ড করে দেন ইংলিসকে। আউট হওয়ার পর এই ব্যাটারের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছিল, বিশেষ কিছুই ছিল রাবাদার বলটি। ৫৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন প্রচন্ড চাপের মুখে অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়াকে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ না দিয়ে খুব দ্রুতই আরও দুটি উইকেট নেন সাউথ আফ্রিকার বোলাররা। ৭০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা অস্ট্রেলিয়ার কিছুটা হলেও মান রক্ষা হয় মার্নাস লাবুশেন-স্টার্ট জুটিতে। এই দুজন যোগ করেন ৬৯ রান। ২৭ রানে স্টার্ককে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু দেন জ্যানসেন। বাকি অংশে কামিন্স ও অ্যাডাম জ্যাম্পা হারের ব্যবধানই কমিয়েছেন কেবল। ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন রাবাদা।
No posts available.

বাংলাদেশের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজকে সামনে রেখে দলে পরিবর্তন এনেছে নিউ জিল্যান্ড। চোটের কারণে ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক ছিটকে যাওয়ায় তাঁর পরিবর্তে দলে ডাকা হয়েছে পেসার বেন লিস্টারকে। দুই বছরের বেশি সময় পর আবার জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন এই বাঁহাতি পেসার।
জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে ডান হাতের আঙুলের মাঝের অংশে গুরুতর কেটে যান ক্লার্ক। সেই চোটের কারণে বাংলাদেশ সফর থেকে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর পরই লিস্টারকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই সংস্করণের দলেই অন্তর্ভুক্ত করে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (এনজেডসি)।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে খেলছেন লিস্টার। সেখান থেকে সরাসরি বাংলাদেশে এসে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। রোববার দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে সিরিজের প্রস্তুতি শুরু করবেন তিনি। আগামী শুক্রবার মিরপুরে শুরু হবে দুই দলের ওয়ানডে সিরিজ।
পেসার বেন সিয়ার্সকে একদিনের সিরিজে পাবে না নিউ জিল্যান্ড। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) শেষ মুহূর্তে ডাক পাওয়ায় বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে সিরিজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে এই পেসারের।
নিউ জিল্যান্ড দল আগামী সোমবার সকালে বাংলাদেশের উদ্দেশে বিমানে চড়বে। সফরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে তারা। এই সিরিজকে সামনে রেখে দল গোছাতে ব্যস্ত নিউ জিল্যান্ড, আর চোট-সংক্রান্ত সমস্যার মধ্যেই নতুন করে সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছেন লিস্টার।

আইপিএলে গতকাল রাতে খাদের কিনারা থেকে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসকে (এলএসজি) জয় এনে দিয়েছেন মুকুল চৌধুরী। এতেই রাতারাতি ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন সেনসেশনের আলোচনায় এই ব্যাটার। পেশি শক্তি দেখানোর পর জানালেন, প্রতিদিন ১০০-১৫০ ছক্কা মারার অনুশীলন করেন তিনি।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ চার ওভারে লক্ষ্ণৌর প্রয়োজন ছিল ৫৪ রান, উইকেট ছিল ৩টি। শুরুতে ৫ বলে মাত্র ১ রান করা মুকুল পরের ২২ বলে তাণ্ডব চালিয়ে যোগ করেন ৫৩ রান।
সব মিলিয়ে ২৭ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন মুকুল। ইনিংসে ছিল ৭টি ছক্কা ও ২টি চার। মুকুলের অনবদ্য ইনিংসে চড়ে শেষ বলে ৩ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নেয় লক্ষ্ণৌ। নিজেদের মাঠ ইডেন গার্ডেনসে নিশ্চিত জয়ের পথে থাকা ম্যাচ ফসকে যায় কলকাতার।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের পাওয়ার হিটিং সম্পর্কে একটু ধারণা দিলেন মুকুল। হঠাৎ অলৌকিক কোনো শক্তি কাজ করেনি, জানিয়েছেন নিয়মিত অনুশীলনেই এই সফলতা। বললেন,
‘প্রাকৃতিকভাবেই আমার শরীরে অনেক শক্তি আছে। এ ছাড়া প্রতিদিন ১০০-১৫০টি ছক্কা মারার অনুশীলন করি, যা ব্যাটের গতি বাড়াতে সহায়তা করেছে।’
১৭তম ওভারে বৈভব অরোরাকে হেলিকপ্টার শট মারেন মুকুল। মারাটা্ও স্বাভাবকি। হেলিকপ্টার শটে পারদর্শী মহেন্দ্র সিং ধোনিকেই তো আদর্শ মানেন মুকুল। সে প্রসঙ্গ এল সংবাদ সম্মেলনেও,
‘শৈশব থেকেই আমি এই শটটি অনুশীলন করছি। ধোনি ভাই যেভাবে ম্যাচ শেষ করতেন, সেটি আমার খুব প্রিয়। ইয়র্কার বলেও ছক্কা মারলে বোলার ঘাবড়ে গিয়ে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করে, আমি সেই সুযোগটাই নিয়েছি।’
২০২৫-২৬ মৌসুমের সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে রাজস্থানের হয়ে ১৯৩.৮৫ স্ট্রাইক রেটে ১৭৩ রান করার পরই মুকুলের ওপর নজর পড়ে লক্ষ্ণৌর। ২ কোটি ৬০ লাখ রুপিতে তাঁকে দলে ভেড়ানোর পর কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার বলেছিলেন, চার মাসের মধ্যে মুকুল ভারতের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ৬ বা ৭ নম্বর ব্যাটার হয়ে উঠবে।
কলকাতার বিপক্ষে জয়ের পর মুকুলের ব্যাপারে কোচ ল্যাঙ্গারের স্তুতি,
‘ওর চোখে আমি ক্ষুধা দেখেছি। সে এখনো অনেক তরুণ। এই জয়টি তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারের জন্য একটি বিশাল মুহূর্ত হয়ে থাকবে।’

ব্যাট হাসছিল না অনেক দিন। সমালোচনার তীরে হচ্ছিলেন বিদ্ধ। জাতীয় দলে বিবর্ণ বাবর আজম পিএসএলেও সুবিধা করতে পারছিলেন না। অবশেষে রুদ্ররূপে দেখা গেল পাকিস্তানের টপ অর্ডারের এই ব্যাটারকে। করাচি কিংসের বিপক্ষে খেললেন ঝোড়ো ইনিংস। দুর্দান্ত ইনিংসে নাম লিখিয়েছেন বিশ্বরেকর্ডেও।
পিএসএলে আজ করাচি কিংসের বিপক্ষে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেটে ২৪৬ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় পেশোয়ার জালমি। কুশল মেন্ডিসের ঝোড়ো সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক বাবর আজমের অপরাজিত হাফ-সেঞ্চুরির পর আব্দুল সামাদের শেষের তাণ্ডবে রানের পাহাড় গড়ে পেশোয়ার জালমি।
স্কোরবোর্ডে কোনো রান না যোগ হতেই প্রথম উইকেট হারনোর পর বাবর আজম ও কুশল মেন্ডিস মাত্র ৯৭ বলে ১৯১ রানের অসাধারণ এক জুটি গড়েন। আব্বাস আফ্রিদির বলে ক্যাচ তোলার আগে ৫২ বলে ১০৯ করেন মেন্ডিস। ১৪ চার ও ৪ ছক্কায় দারুণ এই ইনিংস সাজিয়েছেন লঙ্কার এই ব্যাটার।
অপরপ্রান্তে ৫১ বলে ৮৭ রানে অপরাজিত ছিলেন বাবর আজম। এই ইনিংস খেলার পথেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আরও একটি বিশ্ব রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন ৩১ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই ক্রিকেটে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে ১২,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
মাত্র ৩৩৮ ইনিংসে ১২,০০০ রান পূর্ণ করে বাবর এই বিশ্ব রেকর্ডটি নিজের ঝুলিতে পুরলেন বাবর। এই মাইলফলক স্পর্শ করার মধ্য দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিস গেইলের বিশ্ব রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন তিনি। গেইল ১২,০০০ রান পূর্ণ করতে খেলেছিলেন ৩৪৩টি ইনিংস। ভারতের বিরাট কোহলি এই উচ্চতায় পৌঁছাতে সময় নিয়েছিলেন ৩৬০টি ইনিংস, আর অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার এই রান পূর্ণ করেছিলেন ৩৬৮টি ইনিংসে। তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে বাবর আজম এখন তালিকার শীর্ষে।
এছাড়া দ্বিতীয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ১২,০০০ রানের গণ্ডি পার করলেন বাবর। তাঁর আগে একমাত্র পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন শোয়েব মালিক।
১৭তম ওভারে মেন্ডিস ও মাইকেল ব্রেসওয়াল ফেরার পর শেষ দিকে আব্দুল সামাদকে নিয়ে ৪৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন বাবর। সামাদ মাত্র ১২ বলে ৪০ রানের এক ক্যামিও ইনিংস খেলে পেশোয়ারের স্কোরকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান।

অবশেষে আশার আলো দেখা গেল ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে। অচলাবস্থা পেরিয়ে মিলল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আভাস। চলতি মাসের শেষ দিকে বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে মাঠে গড়াবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোকে নিয়ে সভা করেছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির বর্তমান এডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালও।
প্রিমিয়ার লিগের ১২টি ক্লাবের মধ্যে ১০টির প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এই সভায়। ব্যস্ততায় আসতে পারেননি লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের প্রতিনিধি। তবে তাদেরও সভায় আলোচ্য বিষয়গুলোতে সম্মতি আছে বলে জানিয়েছেন অন্য ক্লাবের প্রতিনিধিরা।
সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে শীঘ্রই প্রিমিয়ার লিগ শুরুর ব্যাপারে ইতিবাচক কথা বলেন ক্লাব প্রতিনিধিরা। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিনিধি হয়ে আসা জিয়াউর রহমান তপু জানান, আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে তারিখের মধ্যে শুরু হতে পারে প্রিমিয়ার লিগ।
এর আগে দলবদলের সম্ভাব্য সময় ২২ এপ্রিল। সেদিন নিজেদের স্কোয়াড সাজিয়ে নেবে ক্লাবগুলো।
এমনিতে সাধারণত রাউন্ড রবিন লিগের পর সুপার লিগ দিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণ হলেও, এবার সময় স্বল্পতায় বাদ দেওয়া হবে সুপার লিগ। শুধু সিঙ্গেল লিগের ১১ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে কোন ক্লাবের ঘরে যাবে এবারের ট্রফি।
আগের বছরগুলোতে খেলা হতো তিনটি ভিন্ন মাঠে। ফলে এক রাউন্ডের খেলা শেষ করতে লেগে যেত দুই দিন। এবার তাই ছয়টি মাঠ ব্যবহার করে এক দিনেই একটি করে রাউন্ড শেষ করার পরিকল্পনা বিসিবির।
বসুন্ধরা স্পোর্টিং ক্লাব, পুবেরগাঁও ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (পিকেএসপি), সিলিকন স্পোর্টস ভ্যালি, ক্রিকেটার্স একাডেমিতে হতে পারে এবারের লিগের খেলা।
প্রিমিয়ার লিগের পরিচালন ব্যয় মেটানোর জন্য প্রতিটি ক্লাবকে ২৫ লাখ টাকা করে দেবে বিসিবি। এর বাইরে দুপুরের খাবারও সরবরাহ করবে বোর্ড। আর ক্লাবগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম সিসিডিএমের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ক্লাব প্রতিনিধিরা।
এর বাইরে বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে প্রতিটি রাউন্ডের মাঝে এক দিন রিজার্ভ ডে রাখার ব্যাপারেও আলোচনা হয় সভায়। তবে এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলবদলের তারিখ বা লিগ শুরুর সূচি যথাসময়ে জানিয়ে দেবে বিসিবি।

ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তের শেষ সাক্ষী সিডি গোপীনাথ ৯৬ বছর বয়সে চেন্নাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ভারতের প্রবীণতম টেস্ট ক্রিকেটার এবং অস্ট্রেলিয়ার নীল হার্ভের পর বিশ্বের দ্বিতীয় প্রবীণতম জীবিত টেস্ট খেলোয়াড় ছিলেন তিনি।
১৯৫২ সালে চেন্নাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত যখন তাদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জয় পায়, সেই একাদশের সর্বশেষ জীবিত সদস্য ছিলেন গোপীনাথ। ১৯৩০ সালের ১ মার্চ জন্ম নেওয়া গোপীনাথ ভারত এবং মাদ্রাজের হয়ে ৮টি টেস্ট এবং ৮৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৫১ সালে মুম্বাইয়ের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়। ১৯৬০ সালে ইডেন গার্ডেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলেন।
আরও পড়ুন
| টি-টোয়েন্টিতে ৯ উইকেট নিয়ে ব্রাজিলিয়ান পেসারের ইতিহাস |
|
সিডি গোপীনাথের মৃত্যুতে তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (টিএনসিএ) গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তারা লিখেছে,
‘শান্তিতে ঘুমান সিডি গোপীনাথ! ভারতীয় ক্রিকেটের একজন প্রকৃত পথিকৃৎ এবং ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়া সেই ঐতিহাসিক দলের শেষ জীবিত সদস্য। আপনার কীর্তি ক্রিকেটের সমৃদ্ধ ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।’
টেস্ট অভিষেকে ৮ নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে গোপীনাথ তাঁর প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ৫০ রান করেছিলেন, যা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর। সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২ রান করেন তিনি, ম্যাচটি ড্র হয়। তবে তাঁর অভিষেক সিরিজের পঞ্চম টেস্টটি ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের এক অনন্য মাইলফলক। চেন্নাইয়ে নিজেদের ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে ইনিংস এবং ৮ রানে হারিয়ে ভারত তাদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জয় তুলে নেয়। সেই ম্যাচে গোপীনাথ করেছিলেন ৩৫ রান।
২০২৪ সালে ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐতিহাসিক সেই স্মৃতি রোমন্থন করে গোপীনাথ বলেন,
‘যুক্তরাজ্য থেকে কিছু মানুষ এসে ১৯৫২ সালে ভারতের প্রথম টেস্ট জয়ের ওপর আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। তারা সম্ভবত একটি বই লিখতে বা ভিডিও বানাতে যাচ্ছিলেন। আমি তাদের বললাম—“একটি মাত্র টেস্ট ম্যাচের ওপর আপনারা বই লিখবেন কীভাবে? একটা পুরো মৌসুম বা পাঁচ টেস্টের সিরিজ নিয়ে লিখলে তাও ঠিক ছিল। শুধু এই ম্যাচটা কেন? এত লেখার কী আছে এটা নিয়ে?”
তারা জবাবে বলেছিল,
“না, আমরা মনে করি এই জয়টি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট বা মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা।” একদিক থেকে কথাটি সত্যি ছিল। আর আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি যে, আমি ভারত এবং মাদ্রাজ—উভয় দলের হয়েই এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হতে পেরেছি।’
আরও পড়ুন
| ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে নতুন সিদ্ধান্ত রশিদ খানের |
|
আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম—আপনারা আর কার কার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন? তারা বলল,
'আর কারোরই নয়, কারণ সেই দলের কেউ আর বেঁচে নেই। ওই দলের একমাত্র সদস্য হিসেবে আপনিই বেঁচে আছেন।' তখন আমি মজা করে বলেছিলাম, “তার মানে তো এখন আমি যা খুশি বলতে পারি (যেহেতু প্রতিবাদ করার মতো কেউ বেঁচে নেই)!'"
গোপীনাথ তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করেন ১২ ইনিংসে ২৪২ রান নিয়ে। অন্যদিকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর রেকর্ড ছিল বেশ উজ্জ্বল; সেখানে ৮৩ ম্যাচে ৪২.১৬ গড়ে তিনি ৪২৫৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। গোপীনাথের প্রয়াণের পর, ৯৫ বছর বয়সী চন্দ্রকান্ত পাটানকর এখন ভারতের প্রবীণতম জীবিত টেস্ট ক্রিকেটার। পাটানকর ১৯৫৬ সালে ইডেন গার্ডেনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন।