১১ মে ২০২৫, ৭:৫৯ পিএম

ফরম্যাট যেটাই হোক, বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক যেই হন, তাকে পড়তে হয় বাড়তি চাপের মুখে। দল সাফল্য পেলে খুব একটা প্রশংসা না পেলেও বাজে পারফরম্যান্স হলে সবচেয়ে বেশি সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হয়। টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক লিটন দাসের জন্যও অপেক্ষা করছে একই চ্যালেঞ্জ। জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করার কাজটা যে কঠিন, তা মানেন সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনও। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, লিটনের মাঝে ভালো করার সব গুণাবলীই আছে।
অস্থায়ীভাবে অবশ্য আগেও সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন লিটন। ভারতের সাথে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সাথে রয়েছে গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ২০ ওভারের সিরিজ জয়। তবে এবার স্থায়ীভাবে এই ফরম্যাটের দায়িত্ব পেয়েছেন ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। ফলে এখন থেকে দল একটু খারাপ করলে বাড়তি সমালোচনা শুনতে হতে পারে অভিজ্ঞ এই কিপার-ব্যাটারকে।
আরও পড়ুন
| ক্লাবের বাজে পারফরম্যান্স, ক্ষুব্ধ ভক্তদের হামলা ট্রেনিং গ্রাউন্ডে |
|
রোববার অনুশীলনের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন বলেছেন, লিটনের মাঝে নতুন ভূমিকায় ভালো করার সব সম্ভাবনাই দেখেন তিনি।
“লিটনকে আমরা একটু অনুভাবেই দেখি। সে কম কথা বলে, তাই সবাই ভিন্ন কিছু ভেবে নেয়। যারা কাছ থেকে দেখে, মিশে, তাদের সেই ধারণা থাকে না। “অধিনায়কের যেসব গুণ থাকা দরকার, দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যা যা থাকা দরকার, টেকনিক্যাল দিক, এসব দিকদ দিয়ে সে খুব ভালো। সে চেষ্টা করছে দলটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। অধিনায়কই এই দল চালাবে। আমরা যারা তার সাথে আছি, আমাদের তাকে সমর্থন আর স্বাধীনতা দিতে হবে। তাহলেই সে ভালো করবে।”
উপমহাদেশে ক্রিকেট নিয়ে মাতামাতি বেশি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই অধিনায়ক পজিশনটা সবসময়ই থাকে চাপময়। তবে বাংলাদেশ দলের ক্ষেত্রে নানা দিক থেকে সেটা একটু ভিন্নই। দেশের ইতিহাসের সেরা অধিনায়কদেরও সমালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পারফর্মিং অধিনায়ক না হলে তার জন্য আবহ হয়ে যায় কঠিন।
সালাহউদ্দদিন মনে করেন, দলের অধারাবাহিকতা অধিনায়ককে বাড়তি চাপের মুখে ঠেলে দেয়।
“আমরা দলগতভাবে পারফর্ম করতে পারি না। এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। আমাদের দলে যদি অনেক পারফর্মার থাকত, তাহলে কিন্তু অধিনায়কত্ব করাটা সহজ হয়ে যেত। সাথে এটাও মনে রাখতে হবে জাতি হিসেবে আমরা কিন্তু অনেক আবেগপ্রবণ। এটা ব্যক্তিগতভাবে মেনে নিতে অনেক কষ্ট হয় মাঝেমধ্যেই। তবে এই পরিণতবোধ চলে আসবে দ্রুতই। অধিনায়ক হিসেবে এই চাপটা নিতেই হবে। পারফরম্যান্স উন্নতির দিকে উঠলে তার জন্য সহজ হবে।”
No posts available.
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৭ পিএম
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৬:০৯ পিএম
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৫:১৬ পিএম

ফাস্ট বোলিং কাহাকে বলে এবং উহা কত প্রকার ও কী কী? দুনিয়ার অনেকেই আমাদের শিখিয়েছেন এর সংজ্ঞা। আপাতত নাহিদ রানা শেখাবেন পুরো ক্রিকেট দুনিয়াকে। বাড়াবাড়ি নাকি বাস্তবতা?
নিউ জিল্যান্ডের সাথে এক ম্যাচে ১০ ওভারে মাত্র একটা বল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের কমে করেছিলেন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে গড় গতি প্রায় ১৪৬ কিলোমিটার ঘণ্টায়। এর আগে এক ম্যাচে ১৫০.২ কিলোমিটার ঘণ্টায় সর্বোচ্চ। সবশেষ বিপিএলে ১৫১.৪ কিলোমিটার ঘণ্টায় বল করতেও দেখেছিলাম। অবিশ্বাস্য না?
আজ চট্টগ্রামে নজরে এলো মাঠে বিশেষ মনোযোগী, সাগরিকার ২২ গজকে আপন করে নেওয়ার চেষ্টা, আড্ডায় এখন রানাই যেনো বড় টপিক। অতো গতি নিয়ে কেউ বল করলে কী করে অস্বীকার করা যায়? না, এই ভুলটি করবেন না প্লিজ।
রত্নের যত্ন নিন। প্রায়শই বিশ্রামে রাখতে হচ্ছে রানাকে। বিসিবি তা বুঝে? না বুঝে আর উপায় কী? সাবেক উইন্ডিজ পেইস তারকা ইয়ান বিশপ অনেক আগেই দিয়ে রেখেছিলেন যে পরামর্শ। বিশপের এক টুইট ছিল এমন,
'বাংলাদেশকে কিছু একটা করতে হবে। সেরা স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং বিশেষজ্ঞ ও ডায়েটিশিয়ানকে চাকরি দিতে হবে। নাহিদ রানা ও তাদের ফাস্ট বোলিং দলটাকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। নাহিদের গতি খুবই প্রশংসনীয়।'
গতির রেকর্ড ভাঙতে চান, এমন কিছুই কখনো বলেন না। তবে আরও গতি কী নাহিদ রানা দেখাবেন না? ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের আশেপাশে নিয়মিত? জানেন গতিই তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। গতির সাথে আপোষ নেই। শন টেইটদের চোখে তাই রানা দারুণ বুদ্ধিমান কিংবা ফিল সিমন্সের কাছে অমূল্য। চট্টগ্রামে আজ বাংলাদেশ পেস বোলিং কোচ শন টেইট বলেছেন,
'নাহিদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, সে বুদ্ধিমান ছেলে। এই মুহূর্তে ব্যাপারটাকে খুব বেশি জটিল না করে আমি মনে করি, সে যেভাবে বল করছে এবং তার জন্য যা কাজে দিচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে ভালো।'
ছোটবেলার কোচও সুযোগ পেলেই মাতেন রানা বন্দনায়। প্রথম দিন থেকেই নাহিদ রানাকে দেখে আসছেন একই গতিতে। টেপ টেনিস থেকেই বিপ্লব। অ্যাকশনে সামান্য বদল, রানা যেনো গতি দিয়ে নতুন দিনের গানই লিখতে এসেছেন এদেশের ক্রিকেটে। পেস বোলিং কোচ আলমগীর কবিরের মুখে শোনা,
'প্রথম দিনেই মনে হয়েছিল রানা কিছু একটা করবে। টেপ টেনিস খেলতো, বয়স কম ছিল। অনেক গতি ছিল শুরু থেকেই। একটু বোলিং অ্যাকশন চেঞ্জ করেছিল ছোটবেলায়। আশাকরি সামনেও দারুণ করবে ও।'
ম্যাচে একেকটা বাউন্সার, একেকটা উইকেট! রানা ঠিক কতখানি ভালো? এই গল্পটাও আপনার জানা দরকার।
সেবার জিম্বাবুয়ে এলো বাংলাদেশ। শন উইলিয়ামস বললেন,
'এখনকার দিনে অনেক বোলারই আছে দ্রুতগতিতে বল করতে পারে। দুনিয়ায় শুধু একজনই জোরে বল করে না। আমরা এটার জন্য প্রস্তুত। আমাদের কাছে বোলিং মেশিন আছে, যা মানুষের চেয়ে দ্রুতগতিতে বল করে।'
জিম্বাবুয়ের সাথে দারুণ করে নাহিদ রানা জানালেন তিনি মেশিনের চেয়েও ভালো!
মাঠের লড়াই অনেকের জন্য, কেবলই একটা সাধারণ ম্যাচ। রানার জন্য তারচেয়েও অনেকটা বেশি। চোটে ভয়? ধুর ছাই! দিনের প্রথম বলটা যে গতিতে, শেষটাও একই গতিতে।
'ইনজুরি কখনও বলে-কয়ে আসে না। আর আপনি যদি যুদ্ধে নামেন, তবে গুলি তো আপনার গায়ে লাগবেই। সেই রকম যদি ক্রিকেট খেলেন তো ইনজুরি আসবেই, ইনজুরিতে পড়বেন এটা স্বাভাবিক'
দুদিন আগেই বলেছিলেন রানা।
চোটে ভয় পেলে কি আর নাহিদ রানা হওয়া যায়? পেইস ইজ পেইজ ইয়ার।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ইতিহাসে ষষ্ঠ বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেছেন তরুণ পেসার আলী রাজা। বুধবার করাচি কিংসের বিপক্ষে শেষ ওভারে হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি।
লাহোরে প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮২ রান সংগ্রহ করে করাচি। ইনিংসের শেষ ওভারে রাজার হাতে বল তুলে দেন পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক বাবর আজম। ওভারের চতুর্থ বলটি ‘ওয়াইড’ হলেও সেই বলে রান আউট হয়ে ফেরেন আব্বাস আফ্রিদি। ওয়াইড হওয়ায় রাজার হাতে আরও তিনটি বৈধ বল বাকি ছিল। পরের বলে খুশদিল শাহ ইয়র্কর সামলাতে গিয়ে ‘হিট আউট’ হন। পঞ্চম বলে আরও একটি দুর্দান্ত ইয়র্করে শহীদ আজিজের মিডল স্টাম্প উপড়ে ফেলেন এই তরুণ তুর্কি।
টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজা শেষ বলে ঘণ্টায় ১৪৯.১ কিলোমিটার গতিতে এক বিধ্বংসী ফুল টস করেন। হাসান আলী সেই গতির কাছে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হলে পূর্ণ হয় আলী রাজার ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক। পিএসএলের ইতিহাসে সপ্তম বোলার (রান আউটসহ ধরলে) হিসেবে হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন তিনি এবং টুর্নামেন্টের কনিষ্ঠতম বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন। শেষ পর্যন্ত ৪১ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন আলী।
২০২৪ সালে পেশাদার ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া আলী রাজা এ বছরের শুরুতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে নজর কেড়েছিলেন। সেখানে মাত্র ৯.০৭ গড়ে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি, যা ছিল টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ। সম্প্রতি ‘উইজডেন ক্রিকেট মান্থলি’র বিশ্বের সেরা ৪০ তরুণ ক্রিকেটারের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন এই পেসার। এখন পর্যন্ত ১৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার ঝুলিতে আছে ২৫টি উইকেট।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান নির্বাহী কমিটিকে আগামী রবিবারের মধ্যে পদত্যাগ করে নতুন প্রশাসনের জন্য পথ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোর্ডের একজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগে চরমে। বর্তমানে সংস্থাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন চারবারের নির্বাচিত সভাপতি শাম্মি সিলভা।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এসএলসির ওই কর্মকর্তা বলেন,
‘একজন সাবেক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকারের নেতৃত্বে শিগগিরই একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। জনগণের তীব্র অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করে শ্রীলঙ্কা। ঘরের মাঠে খেলা টুর্নামেন্টটিতে শ্রীলঙ্কা সুপার এইট থেকে বিদায় নিলে সমর্থকদের মধ্যে বোর্ডের আমূল পরিবর্তনের জোরালো দাবি ওঠে।

ওপরের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতা সামলে চমৎকার ব্যাটিং করলেন আকবর আলি ও প্রিতম কুমার। দুই ব্যাটারই পেলেন সেঞ্চুরির স্বাদ। অন্য মাঠে আরেক ম্যাচে একই সম্ভাবনা জাগিয়ে তুললেন মুশফিকুর রহিম ও অমিত হাসান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে দ্বিতীয় দিন দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন আকবর ও প্রিতম। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ১৫১ রানে অপরাজিত প্রিতম। আর ১২১ রানে আউট হয়েছেন আকবর।
দুজনের সেঞ্চুরির সৌজন্যে দ্বিতীয় দিন শেষে দক্ষিণাঞ্চলের চেয়ে ৬৫ রানে এগিয়ে উত্তরাঞ্চল। আগে ব্যাট করে ৩১৪ রানে অলআউট হয় দক্ষিণাঞ্চল। আর এখন পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৭৯ রান করেছে উত্তরাঞ্চল।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে বিনা উইকেটে ১৬ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে উত্তরাঞ্চল। দিনের শুরুতে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৫), সাব্বির হোসেন (১৮) ও ইকবাল হোসেন (৯)।
মাত্র ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন আকবর ও প্রিতম। ম্যারাথন এই জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ২৩৩ রান। দিনের শেষ সেশনে গিয়ে আকবরের বিদায়ে ভাঙে বিশাল এই জুটি।
প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরিতে ১৫ চার ও ২ ছক্কায় ১৫৮ বলে ১২১ রান করেন উত্তরাঞ্চলের অধিনায়ক।
আকবর ফিরলেও অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন প্রিতম। তবে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি এসএম মেহেরব হাসান (২) ও তানবীর হায়দার (১৯)। তবে দিনের শেষ দিকে উইকেট পড়তে দেননি প্রিতম ও সানজামুল ইসলাম। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৪৯ রান যোগ করেন তারা।
দিন শেষে ১৬ চার ও ২ ছকায় ১৮৪ বলে ১৫১ রানে অপরাজিত প্রিতম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার পঞ্চম সেঞ্চুরি। সানজামুলের সংগ্রহ ৩৯ বলে ২২ রান।
অমিত-মুশফিকের ফিফটি
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিন শেষে মধ্যাঞ্চলের চেয়ে ৬৪ রানে পিছিয়ে রয়েছে পূর্বাঞ্চল। তবে অমিত ও মুশফিকের ব্যাটে দারুণ অবস্থায় তারা। দ্বিতীয় দিন শেষে পূর্বাঞ্চলের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৪৩ রান। এর আগে ৩০৭ রানে অলআউট হয় মধ্যাঞ্চল।
৬ উইকেটে ২৭২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে মধ্যাঞ্চল। দিনের দ্বিতীয় ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন আবু হায়দার রনি। আগের দিন ৯০ রান করা পেস বোলিং অলরাউন্ডার আর এদিন কোনো রান যোগ করতে পারেননি।
তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটার আশিকুর রহমান শিবলিও সম্ভাবনা জাগিয়ে সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ৯ চার ও ১ ছক্কায় ১৮২ বলে ৮৬ রান করে আউট হন তিনি। সব মিলিয়ে এদিন ৩৫ রানের বেশি করতে পারেনি মধ্যাঞ্চল।
পূর্বাঞ্চলের পক্ষে ৫৪ রানে ৪ উইকেট নেন ইবাদত হোসেন চৌধুরি। এছাড়া ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন তোফায়েল আহমেদ।
এরপর ব্যাট করতে নেমে বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি জাকির হাসান (১৩) ও মুমিনুল হক (১৫)। তৃতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন মাহমুদুল হাসান জয় ও অমিত। ১০ চার ও ১ ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৪ রান করে আউট হন জয়।
এরপর আর উইকেট পড়তে দেননি অমিত ও মুশফিক। দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে যোগ করেছেন ১১৫ রান। দিন শেষে ১৫৭ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত অমিত। আর ৮৩ বলে ৫৯ রানে নতুন দিন শুরু করবেন মুশফিক।

প্রথম দুই ওয়ানডেতে একটি করে জয় বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের। ১-১ সমতায় থাকায় সিরিজ ছড়াচ্ছে রোমাঞ্চ। চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম কাল অঘোষিত ফাইনালে দেখা হচ্ছে মিরাজ-লাথামদের।
তারকা ক্রিকেটারদের ছাড়াও দারুণ খেলছে নিউ জিল্যান্ড। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে উইলিয়াম ও’রুরকি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিরিজ জয়ই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আজ এই পেসার কিছুটা হুঙ্কারই ছুঁড়লেন, ‘অবশ্যই, আমরা এখানে এসে সিরিজ জিততে চাই এবং বিষয়টি নিয়ে আমরা সবাই বেশ রোমাঞ্চিত। সবাই খুব ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা কাল মাঠে নিজেদের সেরাটা দেব এবং সিরিজ জেতার লক্ষ্যেই নামব।’
সাগরিকার উইকেট ঐতিহ্যগতভাবেই ব্যাটিং সহায়ক। তবে এবার পিচে কিছুটা ঘাসের ছোঁয়া দেখছেন এই কিউই দীর্ঘদেহী পেসার। উইকেট ও আউটফিল্ড প্রসঙ্গে বলেন, ‘মাঠ বেশ শুকনোই মনে হচ্ছে। তবে উইকেটটি দেখে আমার ভালো লেগেছে, মনে হলো বেশ কিছু ঘাস আছে। আশা করি গতি ও বাউন্স দুটোই পাওয়া যাবে। আসল চিত্র কালকেই বোঝা যাবে।’
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে আসা পরিবর্তনের বিষয়টিও নজর কেড়েছে রুরকির। এক সময় স্পিন-নির্ভর থাকলেও বর্তমানে নাহিদ রানার মতো গতির বোলার ও মোস্তাফিজুর রহমানের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ বাংলাদেশের পেস ইউনিট। রুরকি বললেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তারা ভালো মানের পেস উইকেট বানাবে। তাদের বর্তমানে বেশ ভালো কিছু পেসার আছে। গত ম্যাচে রানা খুব ভালো করেছে, মোস্তাফিজের মতো বিশ্বমানের বোলারও সুযোগের অপেক্ষায় আছে। তাদের পেস আক্রমণ এখন বেশ শক্তিশালী।’
নিউ জিল্যান্ডের এই বর্তমান দলটি বেশ তরুণ, যাদের অনেকেরই বাংলাদেশে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। তবুও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে জয়ের পথ খুঁজছেন তারা। রুরকি বলেন, ‘আমাদের অনেকেরই আগে বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তাই আমরা জানতাম যে প্রতিটা দিন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হবে। কালও আমরা উইকেটের আচরণ দ্রুত বুঝে নিয়ে সেই অনুযায়ী সেরা পরিকল্পনাটি ঠিক করার চেষ্টা করব।’
কিউইদের হুঙ্কারের বিপরীতে বাংলাদেশ দলও প্রস্তুত। প্রথম ওয়ানডে হারলেও দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। ১১ বছর পর আবারও ব্লাকক্যাপস বধের হাতছানি স্বাগতিকদের সামনে।