
তিন ফরম্যাটেই পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সদ্য শেষ হওয়া টেস্ট সিরিজের দুটি ম্যাচে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। ভিন্ন ফরম্যাট দিয়ে খানিক বিরতি কাটিয়ে ফের জাতীয় দলে ফিরলেন তারকা ব্যাটার বাবর আজম, পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি ও নাসিম শাহ। তিনজনই আছেন নভেম্বর-ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ের সাদা বলের সফরের স্কোয়াডে।
রোববার এই দুই সফরের জন্য আলাদা আলাদা দল দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সবগুলো স্কোয়াডেই আছেন বাবর, শাহিন ও নাসিম। আগামী বছর ঘরের মাটিতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পাকিস্তান দুই সফরেই তিনটি করে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে একাদশে ছিলেন বাবর, শাহিন ও নাসিম। তবে সেই টেস্টে পাকিস্তানের হারের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের দল থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়। ওই দুই ম্যাচেই জেতে পাকিস্তান। এবার জাতীয় দলে ফিরলেও আসছে দুই সফরেই খেলা হচ্ছে না তাদের। তিন তারকা ক্রিকেটারকে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে রাখা হলেও জিম্বাবুয়ে সফরে কোনো ফরম্যাটেই রাখা হয়নি একজনকেও। পিসিবি রোটেশন স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ গ্যারি কার্স্টেন অস্ট্রেলিয়া সফরকে সামনে রেখে সরাসরি মেলবোর্নে স্কোয়াডের সাথে যোগ দেবেন।
অস্ট্রেলিয়া সফরের ওয়ানডে স্কোয়াড : আমির জামাল, আবদুল্লাহ শফিক, আরাফাত মিনহাস, বাবর আজম, ফয়সাল আকরাম, হারিস রউফ, হাসিবুল্লাহ, কামরান গুলাম, মোহাম্মদ হাসনাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মোহাম্মদ ইরফান খান, নাসিম শাহ, সাইম আইয়ুব, সালমান আলী আগা, শাহীন শাহ আফ্রিদি।
অস্ট্রেলিয়া সফরের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড : আরাফাত মিনহাস, বাবর আজম, হারিস রউফ, হাসিবুল্লাহ, জাহানদাদ খান, মোহাম্মদ আব্বাস আফ্রিদি, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মোহাম্মদ ইরফান খান, নাসিম শাহ, ওমাইর বিন ইউসুফ, সাহেবজাদা ফারহান, সালমান আলী আগা, শাহীন শাহ আফ্রিদি, সুফিয়ান মকিম, উসমান খান।
জিম্বাবুয়ে সফরের ওয়ানডে স্কোয়াড :
আমির জামাল, আবদুল্লাহ শফিক, আবরার আহমেদ, আহমেদ দানিয়েল, ফয়সাল আকরাম, হারিস রউফ, হাসিবুল্লাহ, কামরান গুলাম, মোহাম্মদ হাসনাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মোহাম্মদ ইরফান খান, সাইম আইয়ুব, সালমান আলী আগা, শাহনওয়াজ দাহানি ও তৈয়ব তাহির।
জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড :
আহমেদ দানিয়েল, আরাফাত মিনহাস, হারিস রউফ, হাসিবুল্লাহ, জাহানদাদ খান, মোহাম্মদ আব্বাস আফ্রিদি, মোহাম্মদ হাসনাইন, মোহাম্মদ ইরফান খান, ওমাইর বিন ইউসুফ, কাসিম আকরাম, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান আলী আগা, সুফিয়ান মকিম, তৈয়ব তাহির ও উসমান খান।
No posts available.
২৩ মার্চ ২০২৬, ৪:৫০ পিএম
২২ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়ে আইসিসির ফেব্রুয়ারি মাসের সেরা পুরুষ ক্রিকেটার হয়েছেন সাহিবজাদা ফারহান। টুর্নামেন্টে দারুণ পারফরম্যান্সে বিরাট কোহলির করা এক আসরের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভেঙে দেন পাকিস্তানের এই ওপেনার। তারই পুরস্কার এবার আইসিসি থেকে পেলেন তিনি।
২০২৪ সালের নভেম্বরে হারিস রউফের পর প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি মাসসেরার খেতাব অর্জন করলেন ২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ৭৬.৬০ গড়ে ৩৮৩ রান করেন ফারহান। ১৬০.২৫ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা এই ডানহাতি ওপেনার টুর্নামেন্টে দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন।
নামিবিয়া ও স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শতক হাঁকিয়ে বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের কোনো একটি বৈশ্বিক সংস্করণে দুটি সেঞ্চুরির মালিক এখন ফারহান।
পাকিস্তানি ব্যাটারের আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে এই রেকর্ডটি ছিল বিরাট কোহলির দখলে। ৩১৯ রান করেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার।
মাসসেরা হওয়ার পর উচ্ছ্বসিত ফারহান বলেন,
‘বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করে এই পুরস্কার জেতাটা সত্যিই অবিশ্বাস্য অনুভূতি। সতীর্থদের সমর্থন ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।‘

আর মাত্র ৫ দিন পর মাঠে গড়াবে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। তবে এই আকর্ষনীয় আসরটিকে সামনে রেখে তারকা বোলারদের ইনজুরি বড় দুর্ভাবনায় ফেলে দিয়েছে ফ্রাঞ্চাইজিদের। ৮ বিদেশি এবং ২ ভারতীয় বোলার পড়েছেন ইনজুরিতে। যাদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ জন। ভারতের ২ জন, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড এবং নিউ জিল্যান্ডের ১ জন করে বোলার পড়েছেন ইনজুরিতে। ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো দিয়েছে এ তথ্য।
ইনজুরির ধাক্কাটা সবচেয়ে বেশি এলোমেলো করে দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ( কেকেআর)। এই ফ্রাঞ্চাইজির তিনজন বোলার পড়েছেন ইনজুরিতে। তিনজনই আবার পেস বোলার।
হাঁটুর অস্ত্রোপচার থেকে সেরে ওঠার পর ম্যাচ ফিটনেট ফিরে পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে হর্ষিত রানাকে। সে কারণে আসরের একটি বড় অংশ খেলতে পারবেন না এই ভারতীয় পেসার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালে কাফ মাসলে টান পড়ায় এখন বিশ্রামে আছেন শ্রীলঙ্কান পেসার মাথিস পাথিরানা। ১৮ কোটি রুপিতে কিনেও মাথিস রানার সার্ভিস পেতে অপেক্ষায় থাকতে হবে কেকেআরকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। পিঠের নিচের অংশে হওয়া একটি গুরুতর আঘাত থেকে সময়মতো সেরে উঠতে না পারায়, টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন ভারতের আর এক পেস বোলার আকাশদীপ।
আরও পড়ুন
| কিংবদন্তিদের বিশ্বমঞ্চে প্রথমবার 'বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস' |
|
আগামী ২৮ মার্চ বেঙ্গালুরুতে আইপিএলের এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক রয়েল চ্যালেঞ্জার বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দারাবাদ খেলবে তিন অজি পেসার ছাড়াই। সানরাইজার্স হায়দারাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স পিঠের চোট কাটিয়ে সেরে উঠলেও ম্যাচ খেলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে তাঁকে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। ১৮ কোটি রুপিতে কেনা প্যাট কামিন্সের সার্ভিস শুরুতে না পাওয়ায় এখন বিলাপ করছে সানরাইজার্স ফ্রাঞ্চাইজি। ৩ কোটি রুপিতে কেনা অজি পেস অলরাউন্ডার জ্যাক এডওয়ার্ডস পায়ের আঘাতের কারণে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন।
হ্যামস্ট্রিং এবং অ্যাকিলিস টেন্ডনের সমস্যার কারণে জশ হ্যাজেলউড পুরো অ্যাশেজ খেলতে পারেননি। মিস করেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ইনজুরি থেকে এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি।ফলে অস্ট্রেলিয়ার এই দ্রুতগতির বোলার প্রথম কয়েকটি ম্যাচে রয়েল চ্যালেঞ্জার বেঙ্গালুরুর সাথে থাকতে পারছেন না।
সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে কুঁচকির সমস্যায় পড়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের ইংলিশ পেস অলরাউন্ডার স্যাম কারান। আইপিএলের পুরো আসর থেকে ছিটকে পড়েছেন তিনি। পরিস্থিতির মুখে তার পরিবর্তে শ্রীলঙ্কার দাসুন শানাকাকে দলে ভিড়িয়েছে রাজস্থান রয়্যালস।
আরও পড়ুন
| পিএসএল খেলতে দেশ ছাড়লেন মুস্তাফিজ-নাহিদ রানারা |
|
চেন্নাই সুপার কিংসে ২ কোটি রুপিতে বিক্রি হয়েও আইপিএলের আসন্ন আসরে খেলা হচ্ছে না নাথান এলিসের। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ওয়ান-ডে কাপের ফাইনালে পুরনো হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট বেড়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার এই ফাস্ট বোলার ছিটকে গেছেন।
মিচেল স্টার্ক অবশ্য আইপিএলের চেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে দিচ্ছেন গুরুত্ব। আসন্ন ব্যস্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তার কাজের চাপের উপর নজর রাখছে। মৌসুমের কোনো এক পর্যায়ে তিনি দিল্লী ক্যাপিটালসের সাথে যোগ দিতে পারেন বলে এই ফ্রাঞ্চাইজিকে আশ্বস্ত করেছেন।
মাত্র ২ কোটি রুপিতে পাঞ্জাব কিংসে বিক্রি হওয়া নিউ জিল্যান্ড পেসার লকি ফার্গুসন নবজাতক ছেলের সাথে কিছুদিন সময় কাটাতে চান। সে কারণেই আইপিএলের শুরুর দিকের ম্যাচগুলো খেলতে পারবেন না বলে ফ্রাঞ্চাইজিকে জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসের (ডব্লিউসিএল) তৃতীয় সংস্করণে অংশ নিতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস’ দল। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, নতুন মৌসুমে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে টুর্নামেন্টের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
ডব্লিউসিএলের তৃতীয় সংস্করণে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ায় এখন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে সাতটি দেশের দল। এর আগে থেকেই এই টুর্নামেন্টে খেলছে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি ২০২৬ মৌসুমকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
অবসরপ্রাপ্ত তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত এই লিগ এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। টুর্নামেন্টটিতে খেলেছেন যুবরাজ সিং, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ব্রেট লি, মঈন আলি, মোহাম্মদ হাফিজ ও ক্রিস গেইলসহ ক্রিকেটের অনেক কিংবদন্তি।
ডব্লিউসিএলকে আয়োজকেরা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দর্শকপ্রিয় ক্রিকেট লিগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রথম আসরে ৩২ কোটি ৫০ লাখের বেশি দর্শক খেলা উপভোগ করেন। দ্বিতীয় আসরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ কোটি ৩১ লাখে, যা লিগটির বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার দ্রুত বিস্তারের প্রমাণ।
ডব্লিউসিএলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হর্ষিত তোমর বলেন, গত দুই বছরে সমর্থকদের ধারাবাহিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নসের পক্ষে জেসিইউকে স্পোর্টস লিমিটেডের পরিচালক ইউনুস হাসান এই উদ্যোগকে দেশের ভক্তদের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা সমর্থকদের সঙ্গে ক্রিকেটের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে এই অংশগ্রহণ।
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস দলের অংশীদার ইশতিয়াক সাদেক বলেন,
‘ডব্লিউসিএলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নসের অংশ হতে পারা আমাদের জন্য গর্বের। এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, কারণ এই প্রতিযোগিতাকে কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমরা বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি শক্তিশালী স্কোয়াড গঠন করব।‘
বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে ডব্লিউসিএলের তৃতীয় আসর আরো প্রতিযোগিতাপূর্ণ সংস্করণ হতে পারে।
সবশেষ ২০২৫ ডব্লিউসিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়নস দল। ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে হওয়া ফাইনালে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসকে ৯ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে এবি ডি ভিলিয়ার্সের নেতৃত্বাধীন দলটি।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এবারের আসর শুরু হবে আগামী ২৬ মার্চ থেকে। যেখানে দল পেয়েছেন বাংলাদেশের ৬ ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে আজ সকালে চারজন দেশ ছেড়েছেন। তারা হলেন— মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন ইমন ও নাহিদ রানা। রিশাদ হোসেন ও তানজিদ তামিম যাবেন পরে।
এবার সরাসরি চুক্তিতে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছিল লাহোর কালান্দার্স। এরপর নিলামে দল পান রিশাদ, নাহিদ ও ইমন।
পরবর্তীতে শরিফুল এবং তামিমও প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে ডাক পেয়েছেন। সব ঠিক থাকলে নাহিদের সঙ্গে পেশোয়ার জালমিতে দেখা যাবে শরিফুল এবং তামিমকে। এ ছাড়া মুস্তাফিজ ও ইমন লাহোর কালান্দার্সে; আর রিশাদ খেলবেন রাওয়ালপিন্ডির হয়ে।
এবার পিএসএলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবগুলো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল টি-স্পোর্টস।

১৯ বছর ৫ দিন আগের কথা। ২০০৭ বিশ্বকাপে ত্রিনিদাদে ভারত বধ কাব্য যেদিন (১৭ মার্চ) রচনা করেছে বাংলাদেশ, তার পরের দিন (১৮ মার্চ) ত্রিনিদাদের হোটেলে ঘুম থেকে উঠে পেয়েছি এক দুঃসংবাদ। জ্যামাইকার পেগাসাস হোটেল রুমে পাওয়া গেছে পাকিস্তানের হেড কোচ বব উলমারের মৃতদেহ। ত্রিনিদাদ থেকে জ্যামাইকা আইল্যান্ডের দূরত্ব আকাশপথে ১৯৫০ কিলোমিটার। আকাশপথে এই পথ পাড়ি দিতে লেগে যায় প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা। দৈনিক ইনকিলাব থেকে বিশ্বকাপ ক্রিকেট কভার করতে গিয়েছিলাম। অফিস থেকে টেলিফোন করে বব উলমারের আকষ্মিক মৃত্যুর আপডেট সংবাদ পাঠানোর জন্য বলা হয়েছিল। ক্যারিবিয়ান সব আইল্যান্ডে বিশ্বকাপ কভার করতে ক্যারিকম স্টিকার ভিসা পাসপোর্টে লাগিয়েছিলাম। চাইলেই ভিসা না নিয়ে ত্রিনিদাদ থেকে জ্যামাইকা যেতে পারতাম। কিন্তু ত্রিনিদাদে ২১ মার্চ বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, তাই যেতে পারিনি।
বব উলমারকে কাছ থেকে প্রথম দেখেছি ১৯৯৮ সালে, ঢাকায়। আইসিসি নক আউট বিশ্বকাপে ( পরবর্তীতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হিসেবে স্বীকৃত) দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলকে নিয়ে তার কোচিং দেখেছি। ম্যাচ চলাকালে ঢাকা স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমের বাইরে বসে সারাক্ষণ ল্যাপটপ সামনে রেখে দুই চোখ মাঠ এবং ল্যাপটপে রেখেছেন, তা খুব কাছ থেকে দেখেছি। ক্রিকেট কোচিংয়ে কম্পিউটার এনালিস্টের প্রয়োগ কতোটা জরুরি, তা দেখিয়েছেন বব উলমার। দক্ষিণ আফ্রিকার সে সময়ের অধিনায়ক হ্যানসি ক্রোনিয়ের সঙ্গে তাঁর ছিল দারুণ সম্পর্ক। এই জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে উপহার দিয়েছে আইসিসির মেগা কোনো ইভেন্টের (আইসিসি নক আউট বিশ্বকাপ) প্রথম ট্রফি।
কোচিংয়ে শুধু ল্যাপটপের ব্যবহারই নয়, কিংবা কম্পিউটার এনালিস্টের প্রয়োগই নয়, ব্যাটিংয়ে রিভার্স সুইপের কৌশলটাও শিখিয়েছেন তিনি। উইকেট কিপারকে ক্ষীপ্র করে তুলতে ফুটবলের গোলকিপিং আইডিয়াও প্রয়োগ করেছেন। ইংলিশ হয়েও বাবা ক্লারেন্স উলমার অবিভক্ত বৃটিশ ভারতের রনজি ট্রফিতে খেলেছেন উত্তর প্রদেশের হয়ে। বাবাকে দেখে শৈশবে ক্রিকেট ব্যাট-বল নিয়ে নেমে খেলেছেন ৩৫০টি প্রথম শ্রেনির ম্যাচ, ১৯ টেস্ট, ৬ ওডিআই।
কানপুরে ১৯৪৮ সালে জন্ম নেয়া বব উলমার মাত্র ১০ বছর বয়সে দেখেছেন প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে হানিফ মোহাম্মদের ৪৯৯। ৩৫ বছর পর ওয়ারউইকশায়ারের কোচ হয়ে ড্রেসিংরুমে বসে দেখেছেন ডারহামের বিপক্ষে প্রিয় শিষ্য ব্রায়ান লারার হার না মানা ৫০১।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কোচিংয়ের শুরুটা তাঁর দক্ষিণ আফ্রিকায়, ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯। এই সময়ে আইসিসি নক আউট বিশ্বকাপ ছাড়াও দ্বি-পাক্ষিক সিরিজগুলোতে ছিল তার বলার মতো সাফল্য। টানা ১৫টি টেস্ট সিরিজের মধ্যে ১০টিতে জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উঠিয়ে এনেছিলেন অন্য উচ্চতায়। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের হয়ে কোচিংয়ে ৫ বছরের সফল অধ্যায় শেষে পেয়েছিলেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচের অফার। তবে সে অফার গ্রহন না করে কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন আইসিসিতে, উন্নয়নশীল ক্রিকেট দেশসমূহের উন্নয়নে করেছেন কাজ। ২০০৪ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের হেড কোচের পদ থেকে জাভেদ মিয়াঁদাদ চাকুরিচ্যুত হলে তার স্থলে বব উলমারকে দেয়া হয় কোচের দায়িত্ব। প্রথম তিন বছর সেই দায়িত্বে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে দিয়েছেন একটার পর একটা সাফল্য। তবে বিশ্বকাপে এসে পাকিস্তান হয়ে গেছে এলোমেলো। ইনজামাম উল হক-এর নেতৃত্বে পাকিস্তান বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৫৪ রানে হেরে। পরের ম্যাচটি ছিল গ্রুপ রাউন্ডের বাধা পেরোনোর জন্য ডু অর ডাই। অথচ, পুঁচকে আয়ারল্যান্ডের কাছে আপসেটের শিকার হতে হলো পাকিস্তানকে। ৩ উইকেটে হেরে গেল পাকিস্তান। ত্রিনিদাদে বসে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় দেখেছি যেদিন, সেদিনই আয়ারল্যান্ডের কাছে পাকিস্তানের অঘটনের খবর পেলাম। বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায় হয়ে গেছে। ৪দিন পর আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এমন বিপর্যয় মেনে নিতে পারেননি বব উলমার। ম্যাচে হেরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ল্যাপটপে দিয়েছিলেন প্রচণ্ড এক চাপড়। ম্যাচ হারের পর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের ঝাঁঝালো মন্তব্য কোচ বব উলমারকে তুলেছে অতিষ্ঠ করে। পাকিস্তানের কোচের দায়িত্বে আর রাখা হবে না, তা আঁচ করতে পেরেছেন সেদিনই। ব্যর্থতা এবং অপবাদ নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কোচিং অধ্যায় শেষ করতে হবে, তা মানতে পারছিলেন না। চারপাশের এতোসব ঘটনায় এতোটাই ভেঙ্গে পড়েছিলেন যে, উলমার সেই চাপটা নিতে পারেননি। টিম হোটেলে ঘুমের ঘোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ক্রিকেটে আধুনিক কোচিং পদ্ধতির প্রবর্তক বব উলমার। সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে কোচকে যায়নি দেখা। সকাল ১১টায় হাউজকিপিংয়ের কর্মীরা রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে রুম লকড দেখে দরজার তালা ভেঙ্গে দেখেছেন বিছানায় বব উলমারের নিথর দেহ। জ্যামাইকা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিকসমূহে বব উলমারের এই মৃত্যুকে বলা হয়েছে অস্বাভাবিক। মৃত্যু না হত্যা, এমন প্রশ্নও উঠেছে মিডিয়ায়। ত্রিনিদাদের ইংরেজি দৈনিকের স্পোর্টস পেজে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে সেসব নিউজ।
তাঁর মৃত্যুর চারদিন পর জ্যামাইকার পুলিশ নিশ্চিত তদন্তে নামে। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মার্ক শিল্ডস এই তদন্তের নেতৃত্ব দেন।প্যাথলজিস্ট এরে সেশাইয়ার একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে উলমারকে হাত দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
বব উলমারের মৃত্যু রহস্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে প্রায় তিন মাস। ২০০৭ সালের ১২ জুন, জ্যামাইকা কনস্ট্যাবুলারি ফোর্সের কমিশনার লুসিয়াস থমাস উলমার স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন বলে রিপোর্ট দিলে গবেষণা থেমে যায়।
বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নে কাজ করেছেন বব উলমার। আইসিসির হাই পারফরমেন্স ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন ৩ বছর (২০০১-৩)। ওই সময়ে দুবার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন আইসিসির বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে। কোনোবারই এক সপ্তাহের বেশি থাকেননি ঢাকায়। সে কারণেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের বন্ধু বব উলমারকে নিয়ে স্মৃতিচারণ জানতে ত্রিনিদাদে অবস্থানরত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এবং ওপেনার শাহরিয়ার নাফিসের ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। দুজনেই কাছ থেকে দেখা উলমার সম্পর্কে অনেক কিছু বলেছেন। উলমারের কোচিং দর্শন-নুতন নুতন টেকনিকের উদ্ভাবন। তা বলেছেন দুজনই। শাহরিয়ার নাফিসের ব্যাটিংয়ের বেসিক টেকনিকে চেঞ্জ এনেছেন, তাতে শাহরিয়ার নাফিস হয়েছেন উপকৃত। উলমারকে স্মরণ করতে যেয়ে এমনটাই বলেছেন এই বাঁ হাতি ওপেনার। বব উলমারকে নিয়ে হাবিবুল বাশার সুমন এবং শাহরিয়ার নাফিসের বক্তব্য নিয়ে একটা রিপোর্ট দাঁড় করেছিলাম। ২০০০৭ সালের ২০ মার্চ দৈনিক ইনকিলাবের স্পোর্টস পেজে ‘একজন বন্ধু হারালো বাংলাদেশ’-এই শিরোনামে ত্রিনিদাদ থেকে আমার প্রেরিত নিউজটি ছাপা হয়েছিল।