২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৮:৫০ পিএম

বিসিবির আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে হোম অব ক্রিকেটে নির্বাচন কমিশনের জন্য নিদ্দিষ্ট কোনো অফিস রুম দেয়া হয়নি। সময়ে এক এক রুম ব্যবহার করছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার সকাল-দুপুরে বিসিবির রিসিপশন পেরিয়ে ওয়ার্কিং কমিটি প্রধানের অব্যবহৃত রুমে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম চলেছে, বিকেলে বোর্ড মিটিং রুমে আপত্তিগুলো ফাইল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তো দূরের কথা, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের কাউকে দেখা যায়নি এদিন। নির্বাচন কমিশনের এক সদস্যের প্রতিনিধি আপত্তি জমা নিয়েছেন। বুধবার খসড়া ভোটার তালিকার উপর আপত্তিপত্র জমা দিতে এসে লোকমান হোসেন ভূঁইয়া নির্বাচন কমিশনের কাউকে না দেখে বিস্মিত হয়েছেন।
বিসিবির নির্বাচন কেন্দ্রীক তথ্য পেতে গণমাধ্যম কর্মীদের ভোগান্তি ছিল লক্ষ্য করার মতো। নির্বাচন কমিশনের কেউ মিডিয়াকে এদিন দেয়নি কোনো তথ্য। দিন শেষে নির্বাচন কমিশন থেকে ব্রিফিং দেয়া হয়নি।
আরও পড়ুন
| অধিনায়ক হিসেবে জাতীয় দলেই ‘প্রথম’ জাকের |
|
বিসিবির নির্বাচনী তফশিলে সর্বশেষ পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী বুধবার ছিল খসড়া ভোটার তালিকার উপর আপত্তি গ্রহন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আপত্তি জমা পড়েছে ৩০টি। ক্যাটাগরি-২ এ যে ১৫ ক্লাবকে রাখা হয়নি খসড়া ভোটার তালিকায়, সেই ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিরা লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। ক্যাটাগরি-১ এ জেলাও বিভাগ থেকে আপত্তি পড়েছে ৩টি। পাবনা থেকে কাউন্সিলরশিপ ফরম পূরণ করে বুধবার সকালে পাঠানো হয়েছে বিসিবিতে। সিলেট থেকে কাউন্সিলর প্রেরণের পরও কেনো তার নাম ওঠেনি খসড়া ভোটার তালিকায়, তা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। যশোর থেকে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরের পরও কেনো তার নাম ওঠেনি খসড়া ভোটার তালিকায়, সেই অভিযোগও এসেছে। হাইকোর্টে রীট মামলা করার পরও রাজবাড়ী, লক্ষীপুর, টাঙ্গাইল এবং গোপালগঞ্জের ৪ প্রতিনিধি খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না ওঠায় লিখিত আপত্তিপত্র জমা দিয়েছেন।
বিসিবির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পক্ষ-বিপক্ষদের মধ্যে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ির প্রতিফলন পড়েছে আপত্তি জমা দেয়ার ক্ষেত্রেও। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তামিম ভার্সেস বুলবুল সমর্থকরা একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে অবস্থান নিয়েছেন। গঠণতন্ত্র মেনে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের দল ওল্ড ডিওএইচএস থেকে বিসিবির কাউন্সিলরশিপ নিয়েছেন তামিম।
আরও পড়ুন
| ফারহানের গুলি-রউফের বিমান ভূপাতিত, মুখ খুললেন আফ্রিদি |
|
তারপরও তামিম কীভাবে ওল্ড ডিওএইচএস-এর কাউন্সিলর হলেন, সে প্রশ্ন রেখে ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেয়ার দাবি জানিয়ে আবেদন করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। সাবেক ক্রিকেটার সৈয়দ হালিম শাহ এক প্রতিনিধি প্রেরন করে তামিমের বিরুদ্ধে ৬টি অভিযোগ দাখিল করেছেন। যেসব অভিযোগের সঙ্গে বেশ কিছু রেফারেন্সও যুক্ত করেছেন অভিযোগকারী।
৩ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে-
' বিসিবির গঠণতন্ত্রের ৯.২ (ঙ) মোতাবেক তামিম ইকবাল খান ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাবের পরিচালনা পরিষদের সদস্য নন। ওই ক্লাবের সাধারণ পরিষদে বর্তমানে তিনি নেই। প্রতিনিধি প্রেরণের বিষয়ে ক্লাবের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। '
আরও পড়ুন
| ‘ফাইনালে দেখা যাবে কী হয়’, সূর্যকুমারকে আফ্রিদির জবাব |
|
৪ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে -
'গঠণতন্ত্রের ৯.২ (খ) পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, ক্লাবের প্রতিনিধিকে সংশ্লিষ্ট ক্লাবের সদস্য হতে হবে। তামিম ইকবাল খান ওই ক্লাবের কোনো বৈধ সদস্য নন।'
৫ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে-
' তামিম ইকবাল খান বর্তমানে একজন চলমান ক্রিকেটার। আইসিসি স্বীকৃত ক্রিকেট থেকে এখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহন করেননি। রানিং কোনো খেলোয়াড়কে ক্লাবের প্রতিনিধি হিসেবে বিসিবিতে প্রতিনিধিত্ব করার কোনো সুযোগ নেই।'
তবে তামিমের বিপক্ষে যে সব অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, সেই আপত্তি ধোপে টিকবে না। কারণ, বিসিবির গঠণতন্ত্রের ৯.২ (ঙ), ৯.২ (খ)-তে ক্লাব থেকে কোন প্রক্রিয়ায় বিসিবির কাউন্সিলর হতে হবে, তার সুনিদ্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। অতীতের মতো এবারও ক্লাবসমূহের কার্যনির্বাহী পরিষদে না থেকেও ক্লাবের প্যাডে ক্লাব সভাপতির স্বাক্ষর নিয়ে কাউন্সিলর হয়েছেন অনেকে। তাছাড়া গঠণতন্ত্রের ৯.২ (খ) তে বলা আছে ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে অংশগ্রহনকারী প্রত্যেক ক্লাব বা দলের ১ জন করে প্রতিনিধি থাকবে। গঠণতন্ত্রের ৯.২ (ঙ ) তে বলা আছে সর্বশেষ সমাপ্ত ক্রিকেট মৌসুমের ফলাফলের নিরিখে অর্জিত অবস্থান অনুযায়ী উল্লেখিত ক্লাব বা দলসমূহ সাধারণ পরিষদের সদস্যপদ লাভে গণ্য হবে।
আরও পড়ুন
| ‘টাইগার কারা?’, সংবাদ সম্মেলনে শাহিন আফ্রিদির প্রশ্ন |
|
ক্যাটাগরি-১ (জেলাও বিভাগীয় কোটা) এবং ক্যাটাগরি-২ (ক্লাব কোটা) এর কোথাও বলা নেই ক্রিকেট থেকে অবসর না নিলে কোনো ক্রিকেটার কাউন্সিলরশিপ পাবেন না। এই ধারাটা শুধু ক্যাটাগরি-৩ এ সাবেক ৫ অধিনায়ক (৯.৩.৮) এবং সাবেক ১০ ক্রিকেটারের (৯.৩.৯) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
হালিম শাহ'র এইসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। কারণ, গত ১৬ আগষ্ট গঠিত ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের ৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তামিম। গত ১ সেপ্টেম্বর সিসিডিএম-কে দেয়া ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের চিঠিতে সভাপতি খালেদ মাহামুদ সুজন পূর্ণাঙ্গ কমিটি পাঠিয়ে তা জানিয়ে দিয়েছেন।
তবে প্যাডহীন কাগজে তামিমের বিপক্ষে এই অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে গৃহিত হয়নি বলে বিসিবির বিশ্বস্ত এক সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন
| বাংলাদেশ ম্যাচে বিশ্রাম পাচ্ছেন না বুমরাহ |
|
এদিকে গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কাউন্সিলর ফরম বিসিবিতে প্রেরণের বাধ্যবাধকতা থাকার পরও রাত ৮টা ৩০ মিনিটে রেঞ্জার্স ক্রিকেট একাডেমীর প্যাডে কাউন্সিলর ফরম জমা দিয়েও কীভাবে বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের নাম উঠলো খসড়া ভোটার তালিকায়। এ প্রশ্ন রেখে ঢাকার ১২টি ক্লাব আপত্তি জানিয়েছে। এই আপত্তিসমূহের মধ্যে ফারুক আহমেদের খুব কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত বিসিবিতে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ পাওয়া মাসুদুজ্জামান পর্যন্ত আছেন।
আপত্তি দিয়েছেন যারা, বৃহস্পতিবার তাদেরকে উপস্থিত থাকতে হবে শুনানীতে। নির্বাচন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, আপত্তিকারীকে সশরীরে মূল জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে এনে কমিশনে উপস্থিত থাকতে হবে।
No posts available.
২৯ মার্চ ২০২৬, ৭:০৫ পিএম
২৯ মার্চ ২০২৬, ৪:১৩ পিএম
২৯ মার্চ ২০২৬, ১:৫৭ পিএম

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শনিবার মধ্যরাতে ঢাকায় পৌঁছানোর পর রোববারই তিনি খোঁজ নিয়েছেন জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পের, একইসঙ্গে সেরেছেন দাপ্তরিক কার্যক্রমও।
গত মাসে রমজান শুরুর আগেই পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে অস্ট্রেলিয়া চলে গিয়েছিলেন বুলবুল। এর মাঝে নানা ধরনের গুঞ্জন ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে, আর হয়তো দেশে ফিরবেন না তিনি। অস্ট্রেলিয়া থেকে দিয়ে দিতে পারেন নিজের পদত্যাগপত্র।
সেসব গুজব উড়িয়ে দিয়ে রোববার প্রথম প্রহরে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের এই সাবেক অধিনায়ক। প্রাথমিকভাবে ২৬ মার্চ ফেরার কথা থাকলেও, সেটি দুই দিন পিছিয়ে বাংলাদেশে ফিরলেন বুলবুল।
দেশে ফিরে একদমই সময় নষ্ট করেননি বুলবুল। রোববার বিসিবি কার্যালয়ে এসে রুটিন ওয়ার্ক সেরেছেন তিনি। পরে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলমান জাতীয় দলের ফিটনেস ক্যাম্পের খোঁজ নিয়েছেন তিনি।
এসময় জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গেও কথা বলেন বিসিবি সভাপতি। বোর্ড পরিচালক ও ক্রিকেট অপ্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমও তার সঙ্গে ছিলেন।
সামনের দিনগুলোতে বুলবুলের জন্য অবশ্য বেশ কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। কারণ স্থবির হয়ে আছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। এটি আবার চালুর ব্যবস্থা নিতে হবে তার।
এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে বিসিবি নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তের জন্য বিশেষ কমিটি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই হয়তো সেই কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বসতে হবে বিসিবি সভাপতির।

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বিরাট কোহলিকে ঘিরে আলোচনা থামেনি। বরং প্রশ্নটা আরও বড় হয়েছে। ওয়ানডেতে মাঠে নামলেই আলোচনা শুরু হয়, এটাই কি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়?
এই প্রশ্নের মাঝেই নতুন পরামর্শ দিলেন আম্বাতি রাইডু। তার মতে, কোহলির শুধু ওয়ানডে খেলা নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও ফেরা উচিত এবং সেটি অধিনায়ক হিসেবেই।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের নতুন আসরের প্রথম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে কোহলির ৩৮ বলে ৬৯ রানের ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ইনিংস যেন সেই দাবির পক্ষে জোরাল যুক্তি হয়ে উঠেছে।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইনিংস নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন তিনি। ইনিংসজুড়ে খেলেছেন সেরা সময় মনে করিয়ে দেওয়ার মতো বেশ কয়েকটি শট।
ম্যাচ শেষে তাকে প্রশংসায় ভাসান ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রাইডু।
“আমি মনে করি না, কোহলি ক্যারিয়ারের শেষের কাছাকাছি কোথাও আছে। তার সামনে এখনও পাঁচ-ছয়টা ভালো বছর আছে। আমরা আলোচনা করছিলাম, তার টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা উচিত, আর সেটা অধিনায়ক হিসেবেই হলে ভালো হয়।”
রাইডুর মূল্যায়নে, কোহলি এখনও ভারতের সেরা টেস্ট অধিনায়কদের একজন নন, বরং সেরা।
“আমরা সিরিয়াস- ভারতীয় ক্রিকেটে আমি যত লাল বলের অধিনায়ক দেখেছি, তাদের মধ্যে কোহলিই সেরা। এখনও সে যেভাবে ব্যাটিং করছে, তাতে তার না থাকা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ক্ষতি।”
কোহলির অপরাজিত ইনিংসটি ছিল সেই পুরোনো ধারার প্রতিচ্ছবি- কভার ড্রাইভে নান্দনিকতা, স্ট্রেইট ড্রাইভে আত্মবিশ্বাস আর কবজির জোরে ফ্লিক শটে ছক্কা। বয়স বা ফরম্যাট- কোনোটিই যেন তার ব্যাটিংয়ের ধার কমাতে পারেনি।
কোহলিকে দলের ‘চেজমাস্টার’ হিসেবেই দেখছেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পাতিদার।
“সে আমাদের এক নম্বর চেজমাস্টার। যেভাবে সে পরিস্থিতি বোঝে এবং ইনিংস গড়ে, সেটা ডাগআউট থেকে দেখাও দারুণ অভিজ্ঞতা।”

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৪ জন। একটি ছক্কা মারলেও প্রথম পাঁচ বলে ৮ রানের বেশি নিতে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ বলে বাকি থাকল ৬ রান। দুর্দান্ত শটে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে দিলেন কায়লা রেইনেক।
দলকে জেতানোর পাশাপাশি রেকর্ডও গড়লেন অভিষিক্ত অলরাউন্ডার। পুরুষ ও নারী মিলিয়ে বিশ্বের মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে একাধিক ফরম্যাটে নিজের অভিষেক ম্যাচেই প্লেয়ার অব দা ম্যাচ হলেন রেইনেক।
এতদিন এই রেকর্ডটি ছিল শুধু চার জনের, যেখানের বাংলাদেশের দুজন- ইলিয়াস সানি ও মোস্তাফিজুর রহমান। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন সানি। আর ২০১৫ সালে ওয়ানডের পর টেস্ট অভিষেকে সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন মোস্তাফিজ।
এছাড়া ইংল্যান্ডের বেন ফোকস ওয়ানডে ও টেস্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লুঙ্গি এনগিডি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের অভিষেকেই ম্যাচ সেরা নির্বাচিত।
ক্রাইস্টচার্চে রোববার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মোস্তাফিজদের এই রেকর্ডে ভাগ বসান প্রোটিয়া অলরাউন্ডার। তার নৈপুণ্যে ম্যাচের শেষ বলে গিয়ে ২ উইকেটের জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দল।
দলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে ৩২ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন রেইনেক। এর আগে গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ১৩ রানে ২ উইকেটের পাশাপাশি ১৬ বলে ২৯ রান করে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ২০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। সেদিনও শেষ বলে ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এবার রেইনেকের ওয়ানডে অভিষেকের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ম্যাডি গ্রিনের ৮৫ রানে ভর করে ২৬৮ রানে অলআউট হয় নিউ জিল্যান্ডের মেয়েরা। জবাবে অ্যানারি ডেরেকসেন ৭২ ও সুন লুস ৫৩ রান করলেও শেষ দিকে গিয়ে চাপে পড়ে যায় প্রোটিয়ারা।
তবে একপ্রান্ত ধরে রেখে দলকে জয়ের পথে রাখেন অভিষিক্ত রেইনেক। পরে সুজি বেটসের করা শেষ ওভারে ১৪ রান প্রয়োজন পড়লে তৃতীয় বলে প্রথম ছক্কা মারেন তিনি। কিন্তু পরের দুই বল ডট খেলায় চাপ পড়ে শেষ বলে গিয়ে।
রাউন্ড দা উইকেট থেকে ফুল লেংথে করেন অভিজ্ঞ বেটস। সামনের পা সরিয়ে সজোরে লং অন দিয়ে উড়িয়ে মারেন রেইনেক। সীমানার ওপারে যেতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন রেইনেক ও তার সতীর্থ টুমি সেখুখুনে।
নারী ও পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বের আর কোনো ক্রিকেটার একাধিক ফরম্যাটে অভিষেক ম্যাচেই শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতাতে পারেননি।
এর আগে ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়েছিলেন পাকিস্তানের জুলফিকার বাবর। তবে সেদিন জয়ের জন্য বাকি ছিল শুধু ১ রান।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এখন পর্যন্ত যৌথ সর্বোচ্চ পাঁচবার আইপিএলের ট্রফি জিতেছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দলটি। তবে একটি জায়গায় এক যুগের বেশি সময় ধরে পিছিয়ে রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদবরা।
গত ১৩ বছর ধরে আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিততে পারে না মুম্বাই। ১৪তম বছরে তাদের এবার প্রতিপক্ষ কলকাতা নাইট রাইডার্স। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রোববার রাতে কলকাতার মুখোমুখি হবে মুম্বাই। এই ম্যাচে ১৩ বছরের অপেক্ষা ফুরোবে কিনা সেটিই বড় প্রশ্ন।
সবশেষ ২০১২ সালের আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতেছিল মুম্বাই। এরপর ১৩ বছরে আর প্রথম ম্যাচ জেতা হয়নি তাদের।
২০১৩, ২০২১ ও ২০২৩ সালের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু; ২০১৪ ও ২০১৫ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্স; ২০১৬-১৭ সালে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস; ২০১৯ ও ২০২২ সালে দিল্লি ক্যাপিটালস; ২০১৮, ২০২০ ও ২০২৫ সালে চেন্নাই সুপার কিংস এবং ২০২৪ সালে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ হেরেছে মুম্বাই।
অথচ এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা চার আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যথাক্রমে চেন্নাই, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ও চেন্নাইকে হারিয়েছিল মুম্বাই। কিন্তু ২০১৩ সালে বেঙ্গালুরুর কাছে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর পরই যেন মোড়ক লেগেছে তাদের প্রথম ম্যাচে।
এবার ২০২৬ সালে কলকাতার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে মুম্বাই। তাদের বিপক্ষে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে প্রথম ম্যাচ হেরেছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
তবে অন্য এক পরিসংখ্যান থেকে সাহস পেতে পারে মুম্বাই। এখন পর্যন্ত মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ১২ ম্যাচ খেলে মোটে ২টি (২০১২ ও ২০২৪) ম্যাচ জিততে পেরেছে কলকাতা। হেরেছে বাকি ১০ ম্যাচে। তাই দুই দলের জন্যই এটি নিজেদের অতীত রেকর্ড বদলানোর ম্যাচ।
কলকাতার সম্ভাব্য একাদশ (ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারসহ ১২ জন)
ফিন অ্যালেন, অজিঙ্কা রাহানে, আংকৃশ রঘুবংশী, ক্যামেরন গ্রিন, রিঙ্কু সিং, অনুকুল রায়, রমনদ্বীপ সিং, সুনিল নারিন, বৈভব অরোরা, বরুণ চক্রবর্তী, ব্লেসিং মুজারাবানি, উমরান মালিক/কার্তিক ত্যাগী
মুম্বাইয়ের সম্ভাব্য একাদশ (ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারসহ ১২ জন)
রোহিত শর্মা, কুইন্টন ডি কক/রায়ান রিকেল্টন, তিলক বর্মা, সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, নমন ধীর, শেরফান রাদারফোর্ড, দীপক চাহার, এএম গজনফর, জাসপ্রিত বুমরাহ, আশওয়ানি কুমার, ট্রেন্ট বোল্ট

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরুর আগে বিদেশি খেলোয়াড়দের নাম প্রত্যাহারের প্রবণতা বেড়েছে। তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুনীল গাভাস্কার। এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেটি যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ভারতের কিংবদন্তি এ ক্রিকেটার।
আইপিএলের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নিলামে দল পাওয়ার পর কোনো খেলোয়াড় চোট বা জরুরি মেডিকেল কারণ ছাড়া নাম প্রত্যাহার করলে তাকে পরবর্তী দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তবে হ্যারি ব্রুক ও বেন ডাকেটের মতো খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এই নিয়মের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গাভাস্কার।
ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাভাস্কার বলেন, ‘দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই কাজ করছে না। এমন কিছু করতে হবে যা খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ক্যারিয়ার বা আইপিএলে ফেরার সুযোগে বড় কোনো ধাক্কা না লাগছে, ততক্ষণ এই প্রবণতা থামবে না।’
এবারের মৌসুমে ডাকেটকে ২ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। মৌসুম শুরুর ঠিক আগে ব্যক্তিগত কারণ ও টেস্ট ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলে সরে দাঁড়ান। এই ইংলিশ ব্যাটারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গাভাস্কার বলেন, ‘ডাকেট হয়ত দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে ভালো দাম পাওয়ায় আইপিএলে নাম প্রত্যাহার করতে দ্বিধা করেননি। তিনি হয়ত এখন টেস্ট ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেওয়ার অজুহাত দিচ্ছেন, কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কী হবে?’
এর আগে গত মৌসুমে হ্যারি ব্রুক ৬.২৫ কোটি রুপিতে দল পাওয়ার পর নাম প্রত্যাহার করে বর্তমানে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন। ডাকেটের ক্ষেত্রেও এই দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
গতকাল থেকে শুরু হয়েছে আইপিএলের ১৯ তম সংস্করণের। একের পর এক বিদেশি খেলোয়াড় নাম সরিয়ে নেওয়ায় বিপাকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বর্তমানে ২৪ জনের স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দিল্লি ক্যাপিটালসকে।