
নাঈম ইসলামের এই ইনিংস তার পুরো ক্যারিয়ারেরই প্রতিকী। একার লড়ে যাওয়া। হোম অব ক্রিকেটেও নাঈম একাই লড়লেন। প্রথম ইনিংসে ৮৯ করে তো একাই লড়লেন দলের জন্য, দল সেন্ট্রাল জোন তুলল বোর্ডে ২৪৮।
এই ডিসেম্বরেই তুষার ইমরানের ৩২ সেঞ্চুরিতে দুই নম্বরে ঠেলে বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ শতক নিজের করে নেন নাঈম ইসলাম। লাল বলের ক্রিকেটে এখনো দেশের সেরাদের একজন এই ব্যাটারই।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আগেই সাড়ে দশ হাজার রান, ৩৩ শতক, ৪৪ অর্ধশতক করেও একই নাঈম। দলের বিপদে একাই লড়ে যাওয়ার অভ্যাসটা একই। ৪৩ গড়ের নাঈম যে বয়সে ৩৭ হাতছানি দেওয়ার সময়েও পারেন, প্রমাণ করলেন আরেকবার।
আরও পড়ুনঃ বরাবরের মতই অল-রাউন্ডারদের চাহিদা আইপিএল নিলামে আকাশচুম্বী
সাউথ জোন প্রথম ইনিংসে থেমেছিল ২১৪ রানে। নাঈমের কল্যাণে সাউথ জোনের রান ৩৪ বেশি। দলটা নিয়মিতই হারিয়েছে উইকেট। নবম উইকেট ২০১ রানে হারালেও আরো যোগ হয় ৪৭ রান, নাঈমের কৃতিত্বেই।
পুরো ইনিংসে নাঈমের আক্ষেপ কেবল একটাই। দারুণ খেলেও শতক না পাওয়া। ১১ রান আগে থামা চারে নামা এই ব্যাটারের।
১৩ চার আর এক ছক্কার ইনিংসে ২৪৫ মিনিট ছিলেন উইকেটে। ১৮১ বলে ৪৯ স্ট্রাইক রেটের ইনিংস বলে নাঈম লড়েছেন। হোম অব ক্রিকেটে রান করা কতটা কঠিন সবার জানা। নাঈমের ইনিংস প্রমাণ করল সেটাও।
আরও পড়ুনঃ দল পেলেন না নামী দামী সব স্পিনারদের কেউই
মিরপুরে ১১ তম বিসিএলের মঙ্গলবারে দিনের গল্পের অনেকটাই নাঈমের ৮৯ রান হলেও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও খেলেছেন ৬৬ রানের ইনিংস।
হোম অব ক্রিকেটে ১৪২ ডট বলের ইনিংসে নাঈম ২১টা সিঙ্গেল, পাঁচটা ডাবলস আর ১৩ চার, এক ছক্কায় ছিল নাঈমের ৮৯ রানের ইনিংস। যে ইনিংসে মিলেছে দলের বাহবাও।
দ্বিতীয় দিন শেষে সাউথ-সেন্ট্রার জোনের ম্যাচে ১৩ রানের লিডে সাউথ জোন। সিলেটে অন্য ম্যাচে ইস্ট জোন থেকে নর্থ জোন পিছিয়ে ১৭৭ রানে।
No posts available.

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানও দারুণ ব্যাটিং করছে। ওপেনার ইমাম উল হক (৪৫) ফিফটির কাছে গিয়ে ফিরলেও অভিষিক্ত আজান আওয়াইজ (৮৫) পৌঁছে গেছেন সেঞ্চুরির কাছে। টেস্টে অভিষেকে আব্দুল্লাহ ফজলও (৩৭) বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৭৯।
বাংলাদেশ এখনো এগিয়ে ২৩৪ রানে। তারপরও সফরকারী ব্যাটারদের দাপট এবং স্বাগতিক বোলারদের ছন্দহীনতা কিছুটা অস্বস্তিতে স্বাগতিকেরা। আগামী তিন দিন ম্যাচের গতিপথ কোন দিকে যাবে?
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন জানালেন, ম্যাচে সুফল পেতে হলে পেসারদের অভিজ্ঞতার ওপরই নির্ভর করতে হবে দলকে। বললেন,
‘এই উইকেটে আমার কাছে মনে হয়, বোলারদের জন্য অনেক কিছু করার আছে, বিশেষ করে ফাস্ট বোলারদের। আজকে আমরা যেহেতু একটা সেশন ভালো বল করিনি, এটা ভিজিবল। সবাই বুঝতে পেরেছে, আমরা ভালো বল করিনি। এটা শুধরানোটা খুব সম্ভব। এটা খুব তাড়াতাড়ি করতে হবে কারণ আমাদের ফাস্ট বোলাররা সবসময় আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে এবং তারা এক্সপেরিয়েন্সড। আমার মনে হয় তারা কালকে ভালো করবে।’
আরও পড়ুন
| দুটি ক্যাচ ড্রপে অতৃপ্তির দিন |
|
পাকিস্তানের একাদশে সাতজনই বাঁহাতি ব্যাটার। এমন পরিস্থিতিতে দুজন অফ স্পিনার খেলানোর প্রয়োজনীয়তা বা টিম মিটিংয়ের আলোচনা হয়েছে কি না। এ প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দীন কিছুটা কৌশলী উত্তর দেন। তিনি জানান, সরাসরি দল নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা না থাকলেও তিনি তাত্ত্বিক আলোচনার চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সকে বড় করে দেখছেন।
সালাহ উদ্দিন বলেন,
‘আমি সাধারণত দল নির্বাচনে থাকি না। তারপরও আমার কাছে মনে হয় বিশেষ করে নিচে এই ডানহাতি-বাঁহাতি চিন্তার করার চেয়ে—ওরা তো ওপরের তিনজন বাঁহাতি। খুব বেশি অসুবিধা হয়েছে? যে ভালো সে সব জায়গায়ই ভালো। আমার মনে হয়, আমরা ভালো জায়গায় বল করলেই উইকেট পাব। আমরা যদি আজকে বোলিংটা আরেকটু ভালো জায়গায় করতে পারতাম, তাহলে ভালো হতো।’
দ্বিতীয় দিনে মেহেদী হাসান মিরাজের কিছু বল নিচু হতে দেখা গেলেও সালাহ উদ্দীন মনে করছেন না যে এখনই স্পিনাররা ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বল এখনো সেভাবে ঘুরছে না, বরং সরাসরি ব্যাটে আসছে। মাঝে মাঝে দুই একটি বল নিচু হলেও তা পুরো ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেওয়ার মতো নয়।
আরও পড়ুন
| জন্মদিনে শতকের সামনে মুশফিক, বাধা শুধুই আব্বাস |
|
সালাহ উদ্দীন বললেন,
‘খেলা তো আরও তিন দিন বাকি আছে। আর এখনো তারা মোটামুটি অনেক খানি পিছিয়ে আছে। আমার মনে হয়, এখানে স্পিনারদের খুব বেশি কিছু করার নাই। বল এখনো ঘুরছে না। বল শুধু সোজাসুজি ব্যাটে আসছে। হয়তো মাঝে মাঝে দু-একটা নিচু আসতে পারে, কিন্তু সেটা পুরা ম্যাচের সিনারিও না। সিনারিওটা হচ্ছে আমরা একটু ভালো জায়গায় বল করি ফাস্ট বোলারদের যেন ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলো ওভার আমরা ভালো বল করতে পারি তখন হয়তো আমাদের উইকেট পাওয়ার চান্স বেশি থাকবে।’
মিরপুর টেস্টের বাকি তিন দিনে পাকিস্তানকে কতটা চাপে ফেলতে পারে বাংলাদেশ, তা অনেকটাই নির্ভর করছে সালাহ উদ্দীনের শিষ্যদের আগামীকালের লাইন ও লেংথ নিয়ন্ত্রণের ওপর। বিশেষ করে প্রথম সেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে পেসারদের।

টেস্ট সিরিজ পূর্ব সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ইনিংসে ৪শ' টার্গেটের কথা উল্লেখ করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সে লক্ষ্য পূরণের আভাস দিয়েছে শান্ত এন্ড কোম্পানী প্রথম দিনে ৩০১/৪ স্কোর তুলে। অবশিষ্ট দায়িত্বটা পালন করেছে ৫ম এবং ১০ম উইকেট জুটি। তাতেই মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৪১৩/১০ স্কোর করেছে বাংলাদেশ।
ওভারপ্রতি ৩.৫২ হারে রান তোলা বাংলাদেশের ইনিংসের স্থায়ীত্ব ৫৩৮ মিনিট। দ্বিতীয় দিনে ১৬৮ মিনিট ব্যাটিংয়ে শেষ ৬ জুটি যোগ করেছে ১১২ রান। যার মধ্যে তাসকিন-নাহিদ রানার শেষ পার্টনারশিপের অবদান ৩৪ মিনিটে ৩৯! তবে প্রথম ইনিংসে ৪১৩/১০ স্কোর করেও দ্বিতীয় দিন শেষে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারছে না বাংলাদেশ দল।
মিরপুর টেস্টে প্রথমে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ৪শ প্লাস স্কোরের সংখ্যা বাংলাদেশের খুব বেশি না। চলমান টেস্টের আগে এমন দৃষ্টান্ত ৪বার করতে পেরেছে বাংলাদেশ। সেই চারটি ইনিংসের ম্যাচের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের অতীত আছে বাংলাদেশের। ১৬ বছর আগে এই ভেন্যুতে প্রথমে ব্যাট করে ৪১৯ স্কোর করেও কিন্তু ইংল্যান্ডের কাছে ৯ উইকেটে দুঃসহ স্মৃতি আছে বাংলাদেশ দলের। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ স্কোয়াডের দুই ক্রিকেটারের একজন মুশফিকুর রহিম এই ম্যাচে আছেন মাঠে, অন্যজন তামিম ইকবাল এখন বিসিবি বস। বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দেখছেন প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে। বড় স্কোরের পরও স্লিপে দুটি ক্যাচ ড্রপে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান কীভাবে লড়াইয়ে ফিরছে, তা উপলব্ধি করছেন।
দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের স্কোর ১৭৯/১। পিছিয়ে আছে তারা ২৩৪ রানে। টেস্ট অভিষেক ইনিংসে সেঞ্চুরি থেকে ১৫ রান দূরে এখন বাঁ হাতি ওপেনার আজান ওয়াইজ (১৩৩ বলে ১২ বাউন্ডারিতে ৮৫)। আর এক ডেব্যুটেন্ট আবদুল্লাহ ফজল আছেন ৩৭ রানে ব্যাটিংয়ে।
মিরপুর স্টেডিয়ামের পিচে দ্বিতীয় দিনে ধরেনি ফাটল। বরং কড়া রোদে পিচ শুকিয়ে স্বাভাবিক ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান টপ অর্ডারদের করছে অনুপ্রানিত। নাহিদ রানার মতো একজন গতির বোলার টিমে আছেন, তাতেই উদ্বুদ্ধ পেসার এবাদত ঘন্টায় ১৪৩ কিলোমিটার গতিতে বল করেছেন! নাহিদ রানার প্রথম ডেলিভারিটি ছিল বাউন্সি। সেই বলে পুল করতে যেয়ে হেলমেটের গ্রিলে বলের আঘাত এতোটাই ছিল যে, মাঠের মধ্যে আজান ওয়াইজের প্রাথমিক চিকিৎসায় লেগেছে ৪ মিনিট। নাহিদ রানার দ্বিতীয় ওভারের ৬টি ডেলিভারির গতি ছিল ঘন্টায় ১৪২, ১৪১, ১৪৪, ১৪৭, ১৪৩ এবং ১৪৬ কিলোমিটার!
তবে বাংলাদেশ পেসারদের গতি আতঙ্ক কাটিয়ে পাকিস্তানের প্রথম উইকেট জুটির ১১২ মিনিটে ১০৬ রানই বলুন কিংবা অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটির ৮৯ মিনিটে ৭৩, দুটি পার্টনারশিই লম্বা হয়েছে স্লিপ ফিল্ডিংয়ের ব্যর্থতায়। এবাদতের অফ স্ট্যাম্পের উপর পিচিং ডেলিভারিতে ইমাম উল হক থার্ড স্লিপে দিয়েছিলেন ক্যাচ। ফ্লাইং ক্যাচের সে চেষ্টায় ব্যর্থ মাহামুদুল হাসান জয়। ২৩ রানে জীবন ফিরে পাওয়া ইমাম উল হক ইনিংসটা টেনে নিয়েছেন ৪৫ পর্যন্ত। দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানের একমাত্র এই উইকেটটি নিয়েছেন অফ স্পিনার মিরাজ। ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে যেয়ে ব্যাট বলের স্পর্শ না পেয়ে প্যাডে আঘাত হানায় ফিল্ড আম্পায়ার দিয়েছেন আউটের সিদ্ধান্ত। রিভিউ আপীলেও লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে মিডল এন্ড লেগ স্ট্যাম্পে আঘাতের চিত্র ভেসে ওঠায় ফিরে যেতে হয়েছে ইনাম উল হককে ড্রেসিং রুমে। দ্বিতীয় দিনের পড়ন্ত বেলায় তাসকিনের বলে সেকেন্ড স্লিপে আবদুল্লাহ ফজলকে ২৮ রানে থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ অপচয় করেছেন সাদমান।
এক্সপ্রেস বোলার নেই পাকিস্তান দলে, তাতে কি ? ঘন্টায় গড়ে ১২০ কিলোমিটার গতিতে বল করেও মুভমেন্ট পেলে যে বিপজ্জনক হওয়া যায়, লাঞ্চের আগের স্পেলে (৯-১-২২-৩) মিডিয়াম পেসার মুহাম্মদ আব্বাস তা জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বোলিংয়ে নির্বিঘ্নে প্রথম সেশন পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ঘন্টায় বাংলাদেশ হারিয়েছে ৭৯ রানে ৩ উইকেট।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে টানা তিনটি বাউন্ডারিতে লিটন প্রশংসা পেলেও টেস্ট মেজাজটা হারিয়েছিলেন। ৬ ষ্ঠ স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আজান আইওয়াজের হাত থেকে বেঁচে গেছেন। জুম করে ক্যাচ নিশ্চিত হতে যেয়ে মাটি থেকে বল উঠিয়ে আনায় ৩২ রানের মাথায় জীবন পেয়েছেন লিটন। তাঁর পরেও ফিফটি করতে পারেননি লিটন। আব্বাসের পরের ওভারে শর্ট বলে পুল করতে যেয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়েছেন লিটন দাস (৬৭ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ রান)। ৫ম উইকেট জুটিতে ১১২ মিনিটে মুশফিক-লিটনের ৬২ রানের পার্টনারশিপটি মূলত দিনের প্রথম সেশন পার করতে সহায়ক হয়েছে।
এই আব্বাসের শর্ট বলে পুল শটে মিরাজ ডিপ স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা মেরেও নিজেকে পরবর্তীতে নিবৃত্ত রাখতে পারেননি। আব্বাসের পরের ডেলিভারিতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দিয়েছেন ক্যাচ (১২ বলে ১০)। হাসান আলীকে পর পর দুটি ডেলিভারিতে বাউন্ডারি মেরে বাহাদুরি দেখানো টেল এন্ডার তাইজুল (২৩ বলে ১৭) আব্বাসের চতুর্থ শিকারে পরিনত। আব্বাসের বাউন্সারে পুল করতে যেয়ে করেছেন ভুল। উইকেট কিপার রিজওয়ান শুণ্যে লাফিয়ে নিয়েছেন ক্যাচ।
৩৯তম জন্মদিন উদযাপনটিও হয়েছে মিশ্র অনুভুতিতে। সেঞ্চুরিতে ৩৯তম জন্মবার্ষিকীটা অনেক বেশি উদযাপনের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন মুশফিকুর রহিম। জন্মদিনে সেঞ্চুরির কক্ষপথে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। খেলেছেন সংযমী ইনিংস। দুটি মাঝামারিমানের পার্টনারশিপে রেখেছেন অবদান।
৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট ব্যাটিংয়ে টেস্ট মেজাজের পরীক্ষা দিতে দিতে দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের পর ভুল করেছেন। শাহিন আফ্রিদিকে ফরোয়ার্ড ড্রাইভ করতে যেয়ে থেমেছেন ৭১ রানে। ৩৯.৬৬ স্ট্রাইক রেটে ১৭৯ বল খেলে ৯টি বাউন্ডারিতে থেমেছে তাঁর প্রথম ইনিংস।
টেস্ট ক্যারিয়ারে ৬ষ্ঠ বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেতে (৩৪-৮-৯২-৫) মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আব্বাসকে দিয়ে লম্বা স্পেলে বল করিয়েছেন অধিনায়ক শান মাসুদ। লাঞ্চের আগে-পরে মিলিয়ে ১২ ওভারের স্পেলে শিকার করেছেন আব্বাস ৪ উইকেট ( ১২-১-৪১-৪)। আব্বাসের ৫ম উইকেটে শিকার এবাদত। আব্বাস এবাদতকে (১০ বলে ০) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে উদযাপন করেছেন ৫ম উইকেটের আনন্দ।
স্কোরটা ৪শ-তে টেনে নেয়া যখন ভাগ্যের চাকার উপর নির্ভর করছে, তখন আব্বাসকে লং অনের উপর দিয়ে তাসকিনের ছক্কায় শান্ত'র লক্ষ্য পূরন হয়েছে। এই তাসকিনের ১৯ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ২৮ রানের ইনিংস থেমেছে শাহিন আফ্রিদির বলে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে।
পাকিস্তান টপ অর্ডারদের নতুন বলে পর্যুদস্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ বোলাররা। পুরনো বলে কী দায়িত্বটা পালন করতে পারবে বোলাররা ? মিরপুর টেস্টের গতিপথ কোথায় যাচ্ছে,তা নির্ভর করবে বোলারদের ছন্দ ফিরে পাওয়া, না পাওয়ার উপর।

টেস্ট সিরিজ পূর্ব সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ইনিংসে ৪শ' টার্গেটের কথা উল্লেখ করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সে লক্ষ্য পূরণের আভাস দিয়েছে শান্ত এন্ড কোম্পানী প্রথম দিনে ৩০১/৪ স্কোর তুলে। অবশিষ্ট দায়িত্বটা পালন করেছে ৫ম এবং ১০ম উইকেট জুটি। তাতেই মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৪১৩/১০ স্কোর করেছে বাংলাদেশ।
ওভারপ্রতি ৩.৫২ হারে রান তোলা বাংলাদেশের ইনিংসের স্থায়ীত্ব ৫৩৮ মিনিট। দ্বিতীয় দিনে ১৬৮ মিনিট ব্যাটিংয়ে শেষ ৬ জুটি যোগ করেছে ১১২ রান। যার মধ্যে তাসকিন-নাহিদ রানার শেষ পার্টনারশিপের অবদান ৩৪ মিনিটে ৩৯!
মিরপুরের উইকেট যতোই সবুজ হোক না কেনো, এখানে ফাটল ধরবেই। বল পিচিং করে কখনো লো, কখনো অপ্রত্যাশিত বাউন্স হবে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে সেই বৈশিষ্টে যথারীতি হাজির শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের স্পোর্টিং উইকেট। ঘন্টায় গড়ে ১২০ কিলোমিটার গতিতে বল করেও মুভমেন্ট পেলে যে বিপজ্জনক হওয়া যায়, লাঞ্চের আগের স্পেলে (৯-১-২২-৩) মিডিয়াম পেসার মুহাম্মদ আব্বাস তা জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বোলিংয়ে নির্বিঘ্নে প্রথম সেশন পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ঘন্টায় বাংলাদেশ হারিয়েছে ৭৯ রানে ৩ উইকেট।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে টানা তিনটি বাউন্ডারিতে লিটন প্রশংসা পেলেও টেস্ট মেজাজটা হারিয়েছিলেন। ৬ ষ্ঠ স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আজান আইওয়াজের হাত থেকে বেঁচে গেছেন। জুম করে ক্যাচ নিশ্চিত হতে যেয়ে মাটি থেকে বল উঠিয়ে আনায় ৩২ রানের মাথায় জীবন পেয়েছেন লিটন। তাঁর পরেও ফিফটি করতে পারেননি লিটন। আব্বাসের পরের ওভারে শর্ট বলে পুল করতে যেয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়েছেন লিটন দাস (৬৭ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ রান)। ৫ম উইকেট জুটিতে ১১২ মিনিটে মুশফিক-লিটনের ৬২ রানের পার্টনারশিপটি মূলত দিনের প্রথম সেশন পার করতে সহায়ক হয়েছে।
এই আব্বাসের শর্ট বলে পুল শটে মিরাজ ডিপ স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা মেরেও নিজেকে পরবর্তীতে নিবৃত্ত রাখতে পারেননি। আব্বাসের পরের ডেলিভারিতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দিয়েছেন ক্যাচ (১২ বলে ১০)। হাসান আলীকে পর পর দুটি ডেলিভারিতে বাউন্ডারি মেরে বাহাদুরি দেখানো টেল এন্ডার তাইজুল (২৩ বলে ১৭) আব্বাসের চতুর্থ শিকারে পরিনত। আব্বাসের বাউন্সারে পুল করতে যেয়ে করেছেন ভুল। উইকেট কিপার রিজওয়ান শুণ্যে লাফিয়ে নিয়েছেন ক্যাচ।
৩৯তম জন্মদিন উদযাপনটিও হয়েছে মিশ্র অনুভুতিতে। সেঞ্চুরিতে ৩৯তম জন্মবার্ষিকীটা অনেক বেশি উদযাপনের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন মুশফিকুর রহিম। জন্মদিনে সেঞ্চুরির কক্ষপথে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। খেলেছেন সংযমী ইনিংস। দুটি মাঝামারিমানের পার্টনারশিপে রেখেছেন অবদান।
৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট ব্যাটিংয়ে টেস্ট মেজাজের পরীক্ষা দিতে দিতে দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের পর ভুল করেছেন। শাহিন আফ্রিদিকে ফরোয়ার্ড ড্রাইভ করতে যেয়ে থেমেছেন ৭১ রানে। ৩৯.৬৬ স্ট্রাইক রেটে ১৭৯ বল খেলে ৯টি বাউন্ডারিতে থেমেছে তাঁর প্রথম ইনিংস।
টেস্ট ক্যারিয়ারে ৬ষ্ঠ বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেতে (৩৪-৮-৯২-৫) মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আব্বাসকে দিয়ে লম্বা স্পেলে বল করিয়েছেন অধিনায়ক শান মাসুদ। লাঞ্চের আগে-পরে মিলিয়ে ১২ ওভারের স্পেলে শিকার করেছেন আব্বাস ৪ উইকেট ( ১২-১-৪১-৪)। আব্বাসের ৫ম উইকেটে শিকার এবাদত। আব্বাস এবাদতকে (১০ বলে ০) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে উদযাপন করেছেন ৫ম উইকেটের আনন্দ।
স্কোরটা ৪শ-তে টেনে নেয়া যখন ভাগ্যের চাকার উপর নির্ভর করছে, তখন আব্বাসকে লং অনের উপর দিয়ে তাসকিনের ছক্কায় শান্ত'র লক্ষ্য পূরন হয়েছে। এই তাসকিনের ১৯ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ২৮ রানের ইনিংস থেমেছে শাহিন আফ্রিদির বলে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে।

বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ম্যাচের সেঞ্চুরি পূরণ করেছেন মুশফিকুর রহিম ৬ মাস আগে। সেঞ্চুরি টেস্টে সেঞ্চুরিতে ইতিহাস রচনা করেছেন। ১০১তম টেস্ট খেলতে নেমে ইমরান খানকে (২০ বছর ২১৮ দিন) টপকে উপমহাদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিতীয় দীর্ঘ ক্যারিয়ার রেকর্ডস (২০ বছর ৩৪৮ দিন) করেছেন তিনি। উপমহাদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর উপরে এখন শুধুই সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার শচিন টেন্ডুলকার (২৪ বছর ১ দিন)।
চলমান টেস্টের প্রথম দিন বিরল কৃতিতে নাম লিখিয়ে দিন শেষে ছিলেন ৪৮ রানে অবিচ্ছিন্ন। দ্বিতীয় দিনে শাহিন আফ্রিদিকে শর্ট স্কোয়ার লেগে সিঙ্গল নিয়ে ২৯তম টেস্ট ফিফটি উদযাপন করে আর একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। টেস্টে সেঞ্চুরি এবং ফিফটি মিলিয়ে সংখ্যাটি উন্নীত করেছেন ৪২-এ। তামিমকে টপকে টেস্টে এই সংখ্যায় তিনি সবার উপরে।
দীর্ঘ ২০ বছর ৩৪৯ দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে জন্মদিনে ইতোপূর্বে খেলেছেন মাত্র ২টি ম্যাচ। ২০১৫ সালের ৯ মে মুশফিকুর রহিমের ২৮তম জন্মদিনটা পানসে করে দিয়েছিলেন পাকিস্তান স্পিনার ইয়াসির শাহ। তাঁর বলে বোল্ড হয়ে ০ রানে থেমেছিলেন মুশফিকুর রহিম। ৩ বছর আগে ৩৬তম জন্মদিনটা অবশ্য ভালই উদযাপন করেছেন মুশফিকুর রহিম। চেম্পসফোর্ডে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই ম্যাচে মুশফিকুর রহিম খেলেছেন ৬১ রানের ইনিংস। বৃষ্টিতে সেই ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় ৩৬তম জন্মদিন উদযাপনে পাননি অতোটা আনন্দ।
৩৯তম জন্মদিন উদযাপনটিও হয়েছে মিশ্র অনুভুতিতে। সেঞ্চুরিতে ৩৯তম জন্মবার্ষিকীটা অনেক বেশি উদযাপনের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন মুশফিকুর রহিম। জন্মদিনে সেঞ্চুরির কক্ষপথে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। খেলেছেন সংযমী ইনিংস। দুটি মাঝামারিমানের পার্টনারশিপে রেখেছেন অবদান।
৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট ব্যাটিংয়ে টেস্ট মেজাজের পরীক্ষা দিতে দিতে দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের পর ভুল করেছেন। শাহিন আফ্রিদিকে ফরোয়ার্ড ড্রাইভ করতে যেয়ে থেমেছেন ৭১ রানে। ৩৯.৬৬ স্ট্রাইক রেটে ১৭৯ বল খেলে ৯টি বাউন্ডারিতে থেমেছে তাঁর প্রথম ইনিংস।

শততম টেস্টে সেঞ্চুরির পর এবার নিজের জন্মদিনেও শতকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন মুশফিকুর রহিম। তবে অন্যপ্রান্ত থেকে তেমন সমর্থন পাচ্ছে। মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিংয়ে এরই মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে দ্বিতীয় দিনের মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩৮০ রান। প্রথম সেশনের ২৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান করেছে স্বাগতিকরা।
এক প্রান্ত আগলে রেখে ৮ চারে ১৭৬ বলে ৭১ রানে খেলছেন মুশফিক। এদিনটি আবার তার ৩৯তম জন্মদিন। তাই আর মাত্র ২৯ রান করতে পারলে সেঞ্চুরি দিয়েই জন্মদিনটি রাঙাতে পারবেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াডে আছেন নেইমার-এস্তেভাও |
|
এর আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের শততম টেস্টে শতক করেছিলেন মুশফিক। এবার আরেকটি সেঞ্চুরি করতে পারলে বিরল কীর্তির মালিক হবেন তিনি। এর আগে ডেভিড ওয়ার্নার নিজের জন্মদিন ও শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
মুশফিকের সেঞ্চুরির পথে বাধা হিসেবে আছেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ৩টি উইকেটই নিয়েছেন তিনি।
৬৭ বলে ৩৩ রানে আউট হয়েছেন লিটন কুমার দাস। মেহেদী হাসান মিরাজ করেছেন ১২ বলে ১০ রান। বিরতির কিছুক্ষণ আগে ফেরেন ২৩ বলে ১৭ রান করা তাইজুল।
এখন মুশফিকের সঙ্গে ক্রিজে আছেন ইবাদত হোসেন চৌধুরি। তাকে নিয়েই নিজের শতকের পথে ও দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যেতে হবে অভিজ্ঞ ব্যাটারের।