২১ এপ্রিল ২০২৫, ৪:৫৮ পিএম

বিসিবির সবশেষ পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে ক্যাটাগরি-১ থেকে নির্বাচন করে হেরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট। যে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পেছনে প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ছিল বিসিবির তৎকালীন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের - টি-স্পোর্টসের শামীম চৌধুরীকে দেয়া সাক্ষাতকারে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন খালেদ মাসুদ পাইলট।
টি-স্পোর্টস : সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য ক্যাটাগরি-থ্রি থাকতে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে ক্যাটাগরি-১ থেকে আপনি নির্বাচন করেছেন?
পাইলট : ইচ্ছা ছিল, ক্রিকেট যখন খেলেছি, রিটায়ার করার পর ক্রিকেটিং নলেজ কাজে লাগাবো। তাই রাজশাহী বিভাগ থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছি। রাজশাহী বিভাগকে আমি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে নিতে চেয়েছি। রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটকে একটা দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করার প্লান ছিল। যেনো রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেট কর্মকান্ড দেখে অন্য বিভাগগুলো দৌড়ায়, তাদের কাজ বেড়ে যায়।
টি-স্পোর্টস : বিসিবির নির্বাচনে দাঁড়িয়ে তো আপনি একটা শিক্ষা পেয়েছেন নিশ্চয়ই?
পাইলট : রাজশাহী বিভাগ থেকে আমাকে বিসিবির কাউন্সিলরশিপ দেওয়া হয়। এই বিভাগে বিসিবির একটি পরিচালক কোটার বিপরীতে ভোট ৯টি। ১টি বিভাগ থেকে, অন্য ৮টি জেলা থেকে। আমি ২টি ভোট পেয়েছি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বপন ভাই পেয়েছেন ৭টি ভোট। কিন্তু নির্বাচনে দেখলাম আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থী টাকা পয়সা বিনিয়োগ করেছেন। নির্বাচনে টাকা-পয়সা যখন বিনিয়োগ করবো, তখন তো বোর্ডে যেয়ে টাকা ইনকাম করতে হবে। বিসিবির গঠণতন্ত্র এতোটাই দুর্বল যে এমনভাবে করা হয়েছে যে কেউ টাকা খরচ করে নির্বাচন করে এখানে জিতে যাবে। ক্রিকেটিং নলেজের দরকার নেই এখানে।
টি-স্পোর্টস : শোনা গেছে, জেলা-বিভাগের কাউন্সিলররা একজোট হয়ে আপনাকে হারিয়ে দিয়েছে। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পেছনে আরও কি কারণ আছে?
পাইলট : নির্বাচনের তিন-চারদিন আগে টের পেলাম, আমি পাস করতে পারবো না। বেশ ক'জন কাউন্সিলর আমাকে বলেছেন, আপনি উপর মহলের সঙ্গে কথা বলেন। ডিসিরাও বলেছেন, আমাদের খুব ইচ্ছা আপনি যেনো জয়ী হন। কিন্তু জানতে পারলাম বিসিবি সভাপতি পাপন ভাই ডিসিদের বলেছেন, আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থী যেনো পাস করেন। ডিসিদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, তৎকালীন জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন মেহেরপুরের ছেলে, উনি ডিসিদেরকে ফোন দিয়ে এমন নির্দেশ দিয়েছেন। ইমরুল কায়েসের বাড়ি মেহেরপুরে। ওর সঙ্গে কথা বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রীর পিএস-কে ফোন দিয়ে মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করলাম। উনি আমাকে খুব সম্মান করেছেন। উনি আমার কথা শুনে বললেন-' আমার দুর্ভাগ্য যে আপনার জন্য কিছুই করতে পারছি না। আমার সিনিয়র রাজণীতিবিদের কথা শুনতে পালন করতে হচ্ছে।' পাপন সাহেবের বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান ওনার উকিল বাবা, সেই দায়িত্ববোধ থেকে উনি পাপন সাহেবের নির্দেশ পালন করেছেন, তা বুঝতে পারলাম। উনি পরিষ্কার করে বললেন-' পাপন সাহেব যদি বলেন, তাহলে ডিসিদের সেই নির্দেশ না দিয়ে কী উপায় আছে ? আপনি বরং পাপন ভাইকে ঠিক করেন। বাকিটা আমি ঠিক করে দিব।'
টি-স্পোর্টস : বিসিবি সভাপতি নিজেই তাহলে নির্বাচনে হার-জিত নির্ধারণ করে দিয়েছেন?
পাইলট : মন্ত্রানালয় থেকে বেরিয়ে এসে পাপন ভাই-কে ফোন দিলাম। উনি বললেন-' আমি বেক্সিমকোতে আছি, তুমি চলে এসো। ওনার সঙ্গে প্রায় দেড়-দুই ঘন্টা কথা হলো। উনি বললেন-' বিসিবির পরিচালক হতে চাও, এ কথা যদি তুমি আগে বলতে তাহলে তোমাকে ক্লাব থেকে ব্যবস্থা করে দিতাম।' আমি বললাম আমি কেনো আপনাকে তিন মাস আগে বলবো। আমি সিম্পল ওয়েতে নির্বাচনে যাবো। আমার কথা শুনে উনি বললেন-' স্বপন সাহেব আমাকে দিয়ে সব ম্যানেজ করেছেন। তখন বুঝলাম আগে থেকে সব কিছু ম্যানেজ হয়েছে। তারপরও আমি বললাম, আপনি যদি ডিসিদের নিরপেক্ষ থাকতে বলেন, তাহলে খুশি হবো।
টি-স্পোর্টস : যখন জানতে পারলেন, নির্বাচনে আপনি জিততে পারবেন না, তখন কেনো প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেন না ?
পাইলট : অনেকের সঙ্গে এসব বিষয় শেয়ার করলে তারা আমাকে বলেছেন-' আপনি জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার, অধিনায়ক। তাই মান-সম্মানের ব্যাপার। আপনি বরং নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। আমি তাদেরকে বলেছি-একজন ব্যবসায়ীর কাছে এভাবে হার মেনে নেয়া যায় না। যার জন্য নির্বাচন করেছি। মাথা উঁচু করে হাসতে হাসতে হেরেছি। নির্বাচনে আমি হেরে যাওয়ার পর মানুষজন বলেছেন-যার ক্রিকেট নলেজ নেই, তার কাছে একজন সাবেক অধিনায়ক হেরে গেলো। ভোটারদেরও বিবেক বলে কিছু নেই।
টি-স্পোর্টস : বিসিবি সভাপতির ফেভার নিয়ে যিনি পরিচালক পদে নির্বাচিত হলেন, রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটে ওনার ভুমিকা কেমন ?
পাইলট : রাজশাহী বিভাগের কথা বাদ দেন, যে জায়গা থেকে উনি কাউন্সিলরশিপ পেয়ে নির্বাচনে জিতেছেন, সেই পাবনা জেলায় গত ১০ বছর ধরে ক্রিকেট লিগ হয় না। তাও আবার উনি বিসিবির পরিচালক থাকা অবস্থায়।
টি-স্পোর্টস : টাকা-পয়সা এবং প্রশাসনের কাছে আপনি হেরেছেন ? তামিমও তো বিসিবিতে আসতে চাইছেন। তাকেও কী এমন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হবে না?
পাইলট : বিসিবির বর্তমান গঠনতন্ত্রটা সেভাবে করা হয়নি। যে কেউ টাকা খরচ করে নির্বাচিত হয়ে আসতে পারবে। তামিমের মতো ক্রিকেটারও যদি চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে বিসিবি কোটায় পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়ে আসতে চায়, তা পারবে না। টাকা-পয়সা খরচ করা ছাড়া সম্ভব নয়। অথচ ভাবুন তো। তামিম যদি ভারত কিংবা নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে, তাহলে ব্যাপারটা বিসিবির জন্য কতোটা ভাল হবে। সাকিব যদি খুলনা বিভাগ থেকে নির্বাচিত হয়ে আসতে চায়, তার বেলায়ও এমনটাই হবে। সাকিব-তামিম তো চুরি করার জন্য আসবে না। আমার প্রশ্ন, কেনো এমন হবে?
No posts available.
৩ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম

আইপিএলের শুরু থেকে ব্যাট হাতে ভালো সময়ই পার করছেন শ্রেয়াস আইয়ার। তবে অধিনায়কত্বে যেন কিছুটা গড়বড় হয়ে যাচ্ছে তার। এমন না যে ম্যাচ জিততে পারছেন না। পরপর দুই ম্যাচই জিতেছে পাঞ্জাব কিংস। কিন্তু জরিমানার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না অধিনায়ক।
দুই ম্যাচে মন্থর ওভার রেটের কারণে শাস্তি পেয়েছেন শ্রেয়াস। চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে শুক্রবার রাতের ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০ ওভার শেষ করতে না পারায় ২৪ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে পাঞ্জাব অধিনায়কের।
এছাড়া ইমপ্যাক্ট ক্রিকেটারসহ একাদশের বাকি সব ক্রিকেটারকে ৬ লাখ রুপি বা ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ (যেটি কম) জরিমানা হয়েছে।
এর আগে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও জেতার পর শাস্তির দুঃসংবাদ পেয়েছিলেন শ্রেয়াস আইয়ার। সেদিনও নির্ধারিত সময়ে পুরো ২০ ওভার শেষ করতে না পারায়, ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল অভিজ্ঞ ব্যাটারের।
আর এবার চেন্নাইয়ের বিপক্ষে একই অপরাধে দোষী হওয়ায় জরিমানা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।

পিএসএল-এ লাহোর কালান্দার্সের কদরটা প্রথম দুই ম্যাচে অনুমান করতে পারেননি বাংলাদেশের বাঁ হাতি ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। প্রথম দুই ম্যাচে সেট হয়ে ১৪ এবং ১২ রানে থেমেছেন ২৩ বছর বয়সী এই ওপেনার। শুক্রবার রাতে লাহোরে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে চিনিয়েছেন নিজেকে। ২০ ওভারের ম্যাচ ১৩ ওভারে নেমে আসায় শুরু থেকে ব্যাটটা চওড়া করেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। ব্যাটিং ঝড়ে মাত্র ১৯ বলে ২ চার,৫ ছক্কায় করেছেন ৪৫ রান।
পিটার সিডলকে বাউন্ডারি দিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইমন পর পর দুই ওভারে নেওয়াজ এবং ফয়সালকে পাড়া-মহল্লা মানের বোলারে নামিয়ে এনেছেন। ইনিংসের চতুর্থ ওভারের ৩য় এবং ৪র্থ বলে নেওয়াজকে লং অন এবং কাউ কর্নার দিয়ে মেরেছেন উপর্যুপরি ছক্কা। ওই ওভারের ৫ম বলে মিড অফ দিয়ে মেরেছেন বাউন্ডারি।
ইনিংসের ৫ম ওভারের প্রথম তিন বলে ফয়সালকে কভার, স্কোয়ার লেগ এবং লং অফের উপর দিয়ে মেরেছেন ছক্কা! ফিফটিটা ছিল তার প্রাপ্য। তবে ৬ষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে মোহাম্মদ ওয়াসিমের এক্সট্রা বাউন্সে পুল করতে যেয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন ফিফটির ৫ রান আগে। আর এক ওপেনার মোহাম্মদ নাইমের সঙ্গে পারভেজ হোসেন ইমনের বোঝাপড়াটা ছিল দারুণ। ৫১ বলে এই পার্টনারশিপের ৮৬ রান লাহোর কালান্দার্সের বড় স্কোরের ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছে। পারভেজ হোসেন ইমনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে উদ্বুদ্ধ মোহাম্মদ নাইম ২৮ বলে ৪ চার, ৪ ছক্কায় থেমেছেন ৬০ রানে। এই দুই ওপেনারের ব্যাটিং ঝড়ে ১৩ ওভারের ম্যাচে লাহোর কালান্দার্স স্কোর টেনে নিয়েছে ১৮৫/৫ পর্যন্ত।
বাকি দায়িত্বটা পালন করেছেন ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বাংলাদেশের ফেরিওয়ালা মোস্তাফিজুর রহমান (২/৩৭)।
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) চলমান আসরের শুরু থেকে বাঁ হাতি কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ ছড়াচ্ছেন আলো। প্রথম দুই ম্যাচে হায়দারাবাদ কিংসম্যান ( ৪-০-১৯-১) এবং করাচি কিংসের (৪-০-২০-১) বিপক্ষে মিতব্যয়ী বোলিংয়ে কুড়িয়েছেন সুনাম। তৃতীয় ম্যাচে মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে করেছেন উইকেট টেকিং বোলিং (৩-০-৩৭-২)। নিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিতে স্লোয়ারে শাহিবজাদা ফারহানকে (২৪) লং অনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন। মোস্তাফিজ তৃতীয় ওভারে শিকার করেছেন শান মাসুদকে (৪৪)। ফুলটস ডেলিভারিতে এলবিডাব্লুউতে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি ডেঞ্জারম্যান শান মাসুদকে। শুক্রবার রাতে প্রথম ২ ওভারে মিতব্যয়ী বোলিং করলেও তৃতীয় ওভারটা ছিল খরুচে। এই ওভারে খেয়েছেন ১ চার, ২ ছক্কা।
পারভেজ হোসেন ইমন এবং মোস্তাফিজুর রহমানের রাতে মুলতান সুলতানসকে ২০ রানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় দুই নম্বরে উঠে এসেছে লাহোর কালান্দার্স ( ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট)।

পিএসএলে দারুণ ম্যাচ কাটালেন বাংলাদেশের দুই তারকা ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ হোসেন ইমন। ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন ইমন। আর পরে বল হাতে জাদু দেখিয়ে রেকর্ড গড়েছেন কাটার মাস্টার- দা ফিজ।
ইমন-মোস্তাফিজদের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের দিনে মুলতান সুলতান্সকে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে লাহোর কালান্দার্স। শুক্রবার রাতে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ২০ রানে জিতেছে মোস্তাফিজ-ইমনদের দল।
বৃষ্টির কারণে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা নষ্ট হলে ১৩ ওভারে নেমে আসে ম্যাচ। ইমন ও মোহাম্মদ নাঈমের তাণ্ডবে ১৮৫ রানের বড় পুঁজি দাঁড় করায় লাহোর। জবাবে প্রাণপন চেষ্টা করেও নিজেদের ১৩ ওভারে ১৬৫ রানের বেশি করতে পারেনি মুলতান।
তিন ম্যাচে লাহোরের এটি দ্বিতীয় জয়। প্রথম ম্যাচে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে হারানোর পর দ্বিতীয়টিতে করাচি কিংসের সঙ্গে আর পারেনি লাহোর। এবার মুলতানকে হারাল তারা।
২ চার ও ৫ ছক্কায় মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলে বড় অবদান রাখেন ইমন। বল হাতে ৩ ওভারে ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন মোস্তাফিজ।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট এখন তার। ৩২৫ ইনিংসে ৪১৬ উইকেট নিয়েছেন কাটার মাস্টার। আর ৩৫৬ ম্যাচে ৪১৫ উইকেট নিয়ে দুইয়ে নেমেছেন মোহাম্মদ আমির।
সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজের চেয়ে বেশি উইকেট আছে শুধু একজনের- বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার, সাকিব আল হাসান (৪৬১ ইনিংসে ৫০৭ উইকেট)।
টস হেরে ব্যাটিং পায় ইমন, মোস্তাফিজদের নিয়ে খেলতে নামা লাহোর। মোহাম্মদ ইসমাইলের প্রথম ওভারের প্রথম দুই বলে ১৮ রান পেয়ে যায় দলটি। দুইটি বাউন্ডারি মারেন নাঈম। আর বাকি দুই বলে ওয়াইডসহ ৪ দেন ইসমাইল।
প্রথম ৩ ওভারে কিছুটা গুটিয়েই ছিলেন ইমন। প্রথম ১০ বলে তিনি নেন মাত্র ৯ রান। পরে চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ নাওয়াজ আক্রমণে আসতেই যেন জ্বলে ওঠেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ডিপ মিড উইকেট দিয়ে পরপর দুইটি ছক্কার পরে একটি চার মারেন তিনি।
এরপর পঞ্চম ওভারে আক্রমণে আসেন ফয়সাল আকরাম। বাঁহাতি এই লেগ স্পিনারের প্রথম তিন বলে তিনটি ছক্কা মেরে দেন ইমন। মাত্র ১৭ বলে তিনি পৌঁছে যান ৪৪ রানে।
ষষ্ঠ ওভারে ইসমাইল আক্রমণে ফিরলে আবার বড় শটের চেষ্টা করেন ইমন। তবে এবার সীমানার কাছে ধরা পড়ে যান ২৩ বছর বয়সী ওপেনার। তার বিদায়ে ভাঙে ৩১ বলে ৮৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
ইমন ফিরলেও ঝড় থামাননি নাঈম। তিন নম্বরে নেমে আব্দুল্লাহ শফিকও একই ছন্দে ব্যাটিং করেন। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন মাত্র ২৫ বলে ৫৮ রানের জুটি।
নাঈমের ব্যাট থেকে আসে ৪টি করে চার-ছক্কায় ২৮ বলে ৬০ রান। ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৪ বলে ৩৩ রান করেন শফিক।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো না হলেও, শেষ দিকে ভালোই জবাব দেয় মুলতান। শেষের ২১ বলে ৬৫ রান করে তারা।
২ চারের সঙ্গে ৫ ছক্কায় মাত্র ২২ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন মুলতান অধিনায়ক অ্যাশটন টার্নার। এছাড়া শান মাসুদ ১৮ বলে ৪৪ ও আরাফাত মিনহাস ১১ বলে করেন ২৫ রান।
বল হাতে নিজের প্রথম ওভারে সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান মোস্তাফিজ। আর তৃতীয় ওভারে তার শিকার হন শান মাসুদ। প্রথম ওভারে মাত্র ৫ রান দিলেও, পরের দুই ওভারে ৩২ রান দিয়ে ফেলেন বাঁহাতি এই পেসার।

প্রথম দুই ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে অবশেষে ছন্দ খুঁজে পেলেন পারভেজ হোসেন ইমন। মুলতান সুলতান্সের স্পিনারদের কচুকাটা করে একের পর এক ছক্কা হাঁকালেন লাহোর কালান্দার্সের বাংলাদেশি ওপেনার। তবে অল্পের জন্য ফিফটি করতে পারলেন না তিনি।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের ম্যাচে ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে ২৩৬.৮৪ স্ট্রাইক রেটে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেছেন ইমন। চলতি পিএসএলে এখন পর্যন্ত এটিই তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
বৃষ্টির কারণে ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং পায় ইমন, মোস্তাফিজুর রহমানদের নিয়ে খেলতে নামা লাহোর। মোহাম্মদ ইসমাইলের প্রথম ওভারের প্রথম দুই বলে ১৮ রান পেয়ে যায় দলটি। দুইটি বাউন্ডারি মারেন মোহাম্মদ নাঈম। আর বাকি দুই বলে ওয়াইডসহ ৪ দেন ইসমাইল।
প্রথম ৩ ওভারে কিছুটা গুটিয়েই ছিলেন ইমন। প্রথম ১০ বলে তিনি নেন মাত্র ৯ রান। পরে চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ নাওয়াজ আক্রমণে আসতেই যেন জ্বলে ওঠেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ডিপ মিড উইকেট দিয়ে পরপর দুইটি ছক্কার পরে একটি চার মারেন তিনি।
এরপর পঞ্চম ওভারে আক্রমণে আসেন ফয়সাল আকরাম। বাঁহাতি এই লেগ স্পিনারের প্রথম তিন বলে তিনটি ছক্কা মেরে দেন ইমন। মাত্র ১৭ বলে তিনি পৌঁছে যান ৪৪ রান।
ষষ্ঠ ওভারে ইসমাইল আক্রমণে ফিরলে আবার বড় শটের চেষ্টা করেন ইমন। তবে এবার সীমানার কাছে ধরা পড়ে যান ২৩ বছর বয়সী ওপেনার। তার বিদায়ে ভাঙে ৩১ বলে ৮৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
ইমন ফিরলেও ঝড় থামাননি নাঈম। তিন নম্বরে নেমে আব্দুল্লাহ শফিকও। যার সৌজন্যে মাত্র ৭ ওভারে ১২৩ রান করে ফেলেছে লাহোর। নাঈম ১৮ বলে ৪৪ ও শফিক ৭ বলে ১৮ রানে অপরাজিত।

প্রতি বছর এই সময় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) উত্তেজনায় ব্যস্ত থাকে দেশের ক্রিকেট। কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে, সেরা ব্যাটার-বোলার কারা হবেন, সেই আলোচনা থাকে তুঙ্গে। কিন্তু চলতি বছর এখনও শুরুই হয়নি ডিপিএল।
তবে বেশি দিন এই অচলাবস্থা অব্যাহত রাখতে চায় না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। তাই ডিপিএল শুরুর জন্য ক্লাবগুলোকে নিয়ে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিসিডিএম।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভেতরে সিসিডিএমের অফিসে আগামী বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রিমিয়ার লিগে অংশগ্রহণকারী সব ক্লাব ও অন্যান্য অংশীজনদের নিয়ে করা হবে ডিপিএল বিষয়ক বৈঠক।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানিয়েছে বিসিবি। বার্তায় বলা হয়েছে, এই বৈঠকে ডিপিএল শুরুর সূচি ও লিগ পরিচালনার অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। সব অংশীজনদের নিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি লিগ আয়োজনের আশা বিসিবির।