
কী এক পাগলাটে রাতের দেখাই মিললো। একেবারে চ্যাম্পিয়নস লিগের ক্লাসিক নাইট। কামব্যাকের গল্প না লিখলেও, দেখা মিলেছে দুর্দান্ত দুই ম্যাচের। পরিষ্কার ফেভারিট বার্সেলোনা-পিএসজিকে রীতিমত নাকানি-চুবানি খাইয়েছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ও অ্যাস্টন ভিলা।
হতে হতেও হলো না। সেই আক্ষেপ করতেই পারেন ডর্টমুন্ড সমর্থকরা। তবে উড়ন্ত বার্সেলোনার বিপক্ষে যেই পারফরম্যান্স তারা দেখিয়েছে তাতে আক্ষেপের সঙ্গে তৃপ্তিটাও থাকার কথা। সিগনাল এদুনা পার্কে ৩-১ গোলের জয় পেলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ছয় বছর বাদে আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে বার্সেলোনা।
মৌসুম জুড়ে প্রতিপক্ষের উপর ছড়ি ঘুরানো বার্সাকে এদিন পুরো ৯০ মিনিটই চাপে রেখেছিল ডর্টমুন্ড। ১১ অন টার্গেট শট অন্তত সেই প্রমাণই দেয়। ফিনিশিংটা ঠিকঠাক করতে পারলে গল্পটা শেষ পর্যন্ত ভিন্নই হতে পারতো। ম্যাচ শেষে পিচে রাফিনিয়ার শুয়ে পড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলাটা অন্তত সেই ইঙ্গিতই দেয়।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ গল্প এদিন লিখেছেন একজনই। হ্যাটট্রিক করে সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন গুইরাসি। শুধুই কী তাই? রাফিনিয়াকে টপকে ১৩ গোল নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও বনে গেছেন। তবে তাতেও কাজের কাজটা হয়নি। নিয়তির খেল শেষ পর্যন্ত মাঠ ছেড়েছেন হার সঙ্গী করেই।
এদুনা পার্কে ডর্টমুন্ডের শুরুটা হয়েছে দাপুটে। একের পর এক আক্রমণে তারা চেপে ধরে বার্সেলোনাকে। যার ফল পেতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি তাদের। ১০ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে ডর্টমুন্ডকে এগিয়ে দেন গুইরাসি।
গোল পেয়ে যেন ডর্টমুন্ডের আত্মবিশ্বাসের পালে লাগে হাওয়া। ধরে রাখে আক্রমণের ধারা। তবে বার্সেলোনার অফ সাইডের ট্রেপ বারবারই খাবি খাইয়েছে তাদের। প্রতিআক্রমণ থেকে বার্সেলোনাও সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে রাফিনিয়া-ফারমিন লোপেজরা তা কাজে লাগাতে পারেননি। তাতে প্রথমার্ধে স্কোরলাইনে আসেনি কোনো পরিবর্তন।
দ্বিতীয়ার্ধে ডর্টমুন্ড শুরু করে একই তালে। ৪৮ মিনিটে আদেয়েমির শট সেজনি ঠেকিয়ে দেন কর্নারের বিনিময়ে। তবে সেই কর্নার থেকে গুইরাসিকে আর আটকাতে পারেনি বার্সা। হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল খুঁজে নেন ডর্টমুন্ড স্ট্রাইকার। তাতে প্রথম লেগে চার গোলের লিড দুইয়ে নামিয়ে আনে স্বাগতিকরা। আর আশা জাগে ডর্টমুন্ড সমর্থকদের।
তবে সেই আশায় ভাটা পড়ে ৫৪ মিনিটে। ফারমিন লোপেজের বাড়ানো বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ডর্টমুন্ড ডিফেন্ডার রেমি জড়িয়ে দেন নিজেদের জালে। তাতে বার্সেলোনা ফিরে পায় মোমেন্টাম। ৬৪ মিনিটে ফারমিন লোপেজ পান দারুণ সুযোগ। তবে তার জোরালো শট যায় পোস্টের উপর দিয়ে।
৭৬ মিনিটে আবারও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন গুইরাসি। তুলে নেন নিজের হ্যাটট্রিক। তাতে শেষ ১৫ মিনিট ম্যাচ জমে উঠলেও আর গোলের দেখা মেলেনি কারও। ফলে ২০১৮/১৯ মৌসুমের পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে বার্সেলোনা।
অ্যাস্টন ভিলা ৩-২ পিএসজি
প্রথম লেগে ৩-১ গোলের জয় পিএসজি স্বস্তি নিয়েই মাঠে নেমেছিল। ১১ মিনিটে আশরাফ হাকিমির গোল তো ম্যাচ করে ফেলে একপেশে। ২৮ মিনিটে নুনো মেন্দেস গোল করতে ম্যাচ পুরটাই হেলে পড়ে লুইস এনরিকের দলের দিকে।
তবে সেখান থেকে সবাইকে চমকে দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলে অ্যাস্টন ভিলা। ৩৪ মিনিটে ইয়েলেমেন্স শোধ দেন একটা গোল। বিরতির পর মিনিট দশেক বাদে জন ম্যাকগিন স্বাগতিকদের ফেরান সমতায়। আর ৫৮ মিনিটে কনসার গোলে ৩-২ গোলে এগিয়ে যায় ভিলা। দুই লেগ মিলিয়ে তখন গোলের ব্যবধান মোটে এক। এরপর আক্রমণ চালিয়ে গেলেও আর গোল পাওয়া হয়নি ভিলার। তাতে ৪-৫ গোলের অগ্রগামিতায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের টিকেট কাটে পিএসজি।
No posts available.
১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:২০ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজেদের শেষ আন্তর্জাতিক বিরতির জন্য ২৬ সদস্যের শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে জার্মানি। আগামী ২৭ মার্চ সুইজারল্যান্ড এবং ৩০ মার্চ ঘানার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে নিজেদের শেষ মুহূর্তের রণকৌশল ঝালিয়ে নেবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দলে ফিরেছেন কাই হাভার্টজ, কেভিন শ্যাডে, আন্তন স্ট্যাচ এবং জশা ভাগনোম্যান। রক্ষণে জশুয়া কিমিখ ও আন্তোনিও রুডিগারের মতো অভিজ্ঞদের উপর আস্থা রেখেছেন জুলিয়ান নাগেলসম্যান।
প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার লেনার্ট কার্ল এবং ২২ বছর বয়সী গোলকিপার জোনাস আর বিগ। তবে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে জামাল মুসিয়ালার অনুপস্থিতি। বায়ার্নের এই তরুণ তুর্কি বাম পায়ের চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন। ফর্মে থাকা সত্ত্বেও দলে জায়গা পাননি অ্যাঞ্জেলো স্তিলার।
সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার পর ঘরের মাঠ স্টুটগার্টে ঘানাকে আতিথ্য দেবে জার্মানি। এরপর সরাসরি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দেবে নাগেলসম্যানের শিষ্যরা। জুনে বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে আরও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে জার্মানি।
জার্মানির স্কোয়াড:
গোলকিপার: অলিভার বাউম্যান, আলেকজান্ডার নুবেল, জোনাস উর্বিগ।
ডিফেন্ডার: ভালদেমার আন্তন, নাথানিয়েল ব্রাউন, জশুয়া কিমিখ, ডেভিড রাউম, আন্তোনিও রুডিগার, নিকো শ্লটারবেক, জোনাথন তাহ, মালিক থিয়াও, জশা ভাগনোম্যান।
মিডফিল্ডার: পাসকাল গ্রস, লিওন গোরেটজকা, ফেলিক্স নমেচা, আলেকজান্ডার পাভলোভিচ, আন্তন স্ট্যাচ, ফ্লোরিয়ান উইর্টজ।
ফরোয়ার্ড: সার্জ গ্যানাব্রি, কাই হাভার্টজ, লেনার্ট কার্ল, জেমি লেভেলিং, লেরয় সানে, কেভিন শ্যাডে, দেনিজ উন্দাভ, নিক ভলটেমেড।

মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে ফ্রান্স। কোচ দিদিয়ে দেশমের ২৭ জনের স্কোয়াডে ফিরেছেন কিলিয়ান এমবাপে।,
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে হাঁটুর চোট থেকে ফিরেছেন এমবাপে। বিশ্বকাপের আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতির এই ম্যাচগুলোতে তাঁর উপস্থিতি ভারসাম্য ফেরাবে দলে।
এমবাপে মাত্র তিনটি গোল দূরে ফ্রান্সের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড থেকে। বর্তমানে এই রেকর্ডে এগিয়ে আছেন অলিভিয়ে জিরুদ, যিনি ১৩৭ ম্যাচে ৫৭ গোল করেছেন।
ফ্রান্স আক্রমণে নতুন বিকল্প যাচাই করছে। প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর ব্র্যাডলি বারকোলা সম্প্রতি চোটের কারণে বাইরে থাকায় দিদিয়ে দেশদম অন্যান্য ফরওয়ার্ডদের ওপর নজর দিয়েছেন। টটেনহাম ফরোয়ার্ড কলো মুযানিও স্কোয়াডে পুনরায় ডাক পেয়েছেন। ৯ ফরোয়ার্ডের মধ্যে মোনাকোর মাঘনেস আকলিওচও তাঁর জায়গা ধরে রেখেছেন।
দেশমের আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত হল পিএসজির গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়ারকে ডাক দেওয়া, যিনি সম্প্রতি পিএসজিতে তাঁর স্থানে মাতভেই সাফোনোভের চলে যাওয়ার পরও স্কোয়াডে আছেন। লেন্সের রবিন রিসার ও কোমোর জিন বুতেজ এই সফর থেকে বাদ পড়েছেন।
ফ্রান্সের সফর শুরু হবে ২৬ মার্চ বস্টনে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে। তিন দিন পর ওয়াশিংটনে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে, যা দুই দলের মধ্যে প্রথম সাক্ষাৎ ২০১৮ সালের মার্চের পর। সেই ম্যাচে জুয়ান কুইন্টারোর ৮৫তম মিনিটের পেনাল্টিতে কলম্বিয়া ৩-২ গোলে জয়ী হয়েছিল।
ফ্রান্সের স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: লুকাস শেভালিয়ার (পিএসজি), মাইক মাইয়ন (মিলান), ব্রাইস সাম্বা (রেন)
ডিফেন্ডার: লুকাস ডিজনে (অ্যাস্টন ভিলা), মালো গুস্তো (চেলসি), লুকাস হার্নান্দেজ (পিএসজি), থেও হার্নান্দেজ (আল-হিলাল), পিয়ার কালুলু (জুভেন্টাস), ইব্রাহিমা কনাতে (লিভারপুল), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল), দায়ট উপামেকানো (বায়ার্ন)
মিডফিল্ডার: এডুয়ার্ডো কামাভিঙ্গা (রিয়াল মাদ্রিদ), এন’গোলো কান্তে (ফেনারবাহসে), মানু কোনে (এএস রোমা), আদ্রিয়ান রাবিও (মিলান), অরেলিয়েন চুয়ামেনি (রিয়াল মাদ্রিদ), ওয়ারেন জেয়ার-এমরি (পিএসজি)
ফরোয়ার্ড: মাঘনেস আকলিওচ (মোনাকো), রায়ান চেরকি (ম্যানচেস্টার সিটি), উসমান ডেমবলে (পিএসজি), ডেসাইরে দুয়ে (পিএসজি), হুগো একিতিকে (লিভারপুল), র্যান্ডাল কলো মুৱানি (টটেনহাম), কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ), মাইকেল ওলিসে (বায়ার্ন), মার্কাস থুরাম (ইন্টার)।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করবে না ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ জানিয়েছেন, ইরান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে না, তবে তারা তাদের কোনো ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাবে না।
বুধবার ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মেহেদি তাজ বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমেরিকাকে বয়কট করব, কিন্তু বিশ্বকাপকে নয়।‘
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার ছায়া পড়েছে জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানি খেলোয়াড়দের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হলেও তাদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেখানে খেলাটা সমীচীন হবে না।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মেহেদি তাজ বলেন, ‘যখন খোদ আয়োজক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না, তখন আমাদের সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়।‘
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ইরানকে তাদের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে হবে। ইরানের ফুটবল ফেডারেশন ইতোমধ্যেই ফিফার কাছে এই ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম জানিয়েছেন, ফিফা রাজি থাকলে তারা ইরানকে আতিথেয়তা দিতে প্রস্তুত। তবে ফিফা এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থানে অনড়। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই সব দলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছে।
বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ইরান। বর্তমানে তুরস্কে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করছে তারা। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৭ মার্চ নাইজেরিয়া এবং ৩১ মার্চ কোস্টারিকার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে টিম মেলির।

বুধবার রাতে
কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের শেষ ষোলোর দ্বিতীয়
লেগে ন্যাশভিল এসসিকে মোকাবিলা করে ইন্টার মায়ামি।
এই ম্যাচে গোল করে ইতিহাস
গড়েন লিওনেল মেসি। বিশ্বের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে পেশাদার ফুটবলে ৯০০ গোলের অনন্য
উচ্চতায় পা রাখলেন তিনি।
টেনেসি’র জিওডিস পার্কে
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই গোল করে ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে আলিঙ্গন
করেন মেসি। ২০২৩
সালের জুনে মায়ামিতে যোগ
দেওয়ার পর থেকে এখন
পর্যন্ত ৯২ ম্যাচে ৮১টি
গোল করেছেন ৩৮ বছর বয়সী
এই মহাতারকা। যা ক্লাবটিকে লিগস
কাপ এবং এমএলএস কাপ
জিততে সাহায্য করেছে। যদিও এই রাতে মেসির দল হারাতে
পারেনি ন্যাশভিলকে।
বার্সেলোনা,
পিএসজি এবং আর্জেন্টিনা, সবখানেই
গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন ৮বারের
ব্যালন ডি’অর জয়ী।
এক নজরে দেখে নেওয়া
যাক তার এই যাত্রার
পেছনের কিছু বিশেষ পরিসংখ্যান:
শুরু
থেকেই রেকর্ড ভাঙার খেলা
২০০৫
সালের মে মাসে বার্সেলোনার
হয়ে আলবাসেতের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর ১০
মাস বয়সে নিজের প্রথম
গোলটি করেন মেসি। বদলি
হিসেবে নামার মাত্র তিন মিনিটের মাথায়
গোল করে তিনি বার্সার
ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়েছিলেন। এরপরের গল্পটা শুধুই সাফল্যের।
বার্সেলোনা:
১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ৭৭৮ ম্যাচে রেকর্ড
৬৭২ গোল
করেছেন ফুটবল জাদুকর।
জিতেছেন ১০টি লা লিগা
এবং ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ
অসংখ্য ট্রফি।
পিএসজি:
প্যারিসে দুই মৌসুমে নেইমার
ও এমবাপ্পের সঙ্গে খেলে ৭৫ ম্যাচে
করেছেন ৩২ গোল।
ফ্রান্সে লিগ শিরোপা জিতেছেন।
আর্জেন্টিনা:
জাতীয় দলের হয়ে ১৯৬
ম্যাচে এখন পর্যন্ত তাঁর
গোল সংখ্যা ১১৫টি। যার মধ্যে
অন্যতম প্রাপ্তি ২০২২ সালের কাতার
বিশ্বকাপ জয়। এছাড়া দেশের হয়ে কোপা আমেরিকাসহ অসংখ্য
শিরোপা জিতেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।
৯০০’র ক্লাবে আর কে কে আছেন?
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
আগেই এই মাইলফলক স্পর্শ
করেছেন। ৪১ বছর বয়সী
রোনালদো ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে
৯০০ গোলের কোটা পূর্ণ করেন।
বর্তমানে ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে
তাঁর গোল সংখ্যা ৯৫৯।
অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, ফুটবল ইতিহাসে কেবল এই দুজনই
৯০০ গোলের গণ্ডি পার করেছেন।
যদিও
কিংবদন্তি পেলে
দাবি করেছিলেন তিনি ১,০০০-এর বেশি গোল
করেছেন। কিন্তু আরএসএসএসএফ (সকার পরিসংখ্যান ফাউন্ডেশন)
-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী তাঁর স্বীকৃত গোল
সংখ্যা ৭৭৮। অন্যদিকে ব্রাজিলের
আরেক নায়ক রোমারিও’র
গোল সংখ্যা ৭৮৫।
২০১২
সালের সেই অবিশ্বাস্য কীর্তি
ইন্টার
মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো
মেসিকে ‘অনন্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
২০১২ সালে মেসি এক
বছরে রেকর্ড ৯১টি গোল করেছিলেন
(ক্লাবের হয়ে ৭৯ এবং
দেশের হয়ে ১২টি)।
এছাড়া মাত্র ১২৩ ম্যাচে চ্যাম্পিয়নস
লিগে ১০০ গোলের দ্রুততম
রেকর্ডটিও তাঁর দখলে।
মাশ্চেরানো
বলেন, ‘৯০০ গোল। এই সংখ্যাটা
অবিশ্বাস্য! লিও (মেসি) সত্যিই একজন অনন্য ফুটবলার।
মাঠের খুব কাছ থেকে
তাঁর এত সব গোল
দেখাটা আমার জন্য এক
বিশাল সৌভাগ্যের ব্যাপার।’
কোন ক্লাবের বিপক্ষে বেশি গোল মেসির
সেভিয়া- ২৫
গোল
অ্যাথলেটিক
ক্লাব- ২৪ গোল
আতলেতিকো মাদ্রিদ-
২৩ গোল
ভ্যালেন্সিয়া-
১৮ গোল
রিয়াল মাদ্রিদ-
১৭ গোল
লেভান্তে- ১৬
গোল
হেতাফে- ১৫
গোল
কোন জার্সিতে কত গোল মেসির
বার্সেলোনা-
৬৭২ গোল
আর্জেন্টিনা-
১১৫ গোল
পিএসজি- ৩২
গোল
ইন্টার মায়ামি-
৮১ গোল
যেমন ছিল
৯০০ গোল
মেসির
বাম পা মানেই যাদু!
পরিসংখ্যানেও তার প্রমাণ মিলেছে।
অপটার মতে মেসির
মোট গোলের প্রায় ৮৪ শতাংশ (৭৫৫টি
গোল) এসেছে বাম পা থেকে।
ডান পায়ে ১১১টি
গোল। হেডে করেন
৩০টি গোল। বাকি চার গোল অন্যান্য উপায়ে।
মেসি
শুধু বক্সের ভেতরেই না, বক্সের বাইরে
থেকেও গোল করতে সমান
পারদর্শী। বক্সের ভেতর থেকে
৭২৪টি গোল করেছেন। আর বক্সের বাইরে
থেকে ১৭৬টি
গোল করেন। ক্যারিয়ারের ৯০০ গোলের
১১২টি আসে পেনাল্টি থেকে আর ৭০টি ফ্রি কিক থেকে।

৩১ মার্চ ফিফা প্রীতি ম্যাচে গুয়াতেমালার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এজন্য বুধবার রাতে ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনা বুয়েনস আইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি।
কাতারে আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ছিলেন মেসি। তাঁকে ঘিরেই বিশ্বকাপের মুকুট ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের আগে দলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ৩৮ বছর বয়সী তারকার থাকায় অনেকটাই স্পষ্ট, তিনি থাকছেন আমেরিকা বিশ্বকাপে।
মেসির সঙ্গে দলে আছেন তাঁর ক্লাব সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল। নিয়মিতদের মধ্যে আরও আছেন ফরোয়ার্ড জুলিয়ান আলভারেস, গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেস, মিডফিল্ডার এন্সা ফের্নান্দেস ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস।
জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন এস্তুদিয়ান্তেসের ডিফেন্ডার তমাস পালাসিওস ও রেসিংয়ের ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল রোহাস। আর গত নভেম্বরে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে দলের ২-০ গোলে জেতা সবশেষ প্রীতি ম্যাচে অনুপস্থিত থাকা মার্কোস আকুনা দলে ফিরেছেন।
আর্জেন্টিনার ২৮ সদস্যের দল:
গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, জেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুস্সো।
ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মলিনা, গনসালো মনতিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনার্দো বালের্দি, নিকোলাস ওতামেন্দি, মার্কোস সেনেসি, তমাস পালাসিওস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, গাব্রিয়েল রোহাস, মার্কোস আকুনা।
মিডফিল্ডার: লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার, মাক্সিমো পেরোনে, রদ্রিগো ডি পল, এনসো ফের্নান্দেস, ভালেন্তিন বার্কো, এসেকিয়েল পালাসিওস, নিকো পাস, থিয়াগো আলমাদা।
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, জুলিয়ানো সিমেওনে, জানলুকা প্রেস্তিয়ানি, নিকোলাস গন্সালেস, হোসে মানুয়েল লোপেস, জুলিয়ান আলভারেস।